
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কের শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জনপুর থেকে শুল্ক স্টেশন পর্যন্ত ৬ কি:মি: এলাকায় ১৬টি স্থানের সড়ক ভেঙ্গে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল।
এ অবস্থায় এক মাসের অধীক সময় ধরে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন ভাঙ্গা কালভার্টের উপর সড়ক জনপথ বিভাগ একটি নতুন বেইলী সেতু স্থাপনের পর ১৪ দিন পর ২৬ জুন থেকে এ সেতু দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করে। এ সড়কের ভাঙ্গা ১৬টি স্থানে বালি ভরাট করে ইট সলিং শুরু হলেও এ পথে ভারী যানবাহন চলাচল এখনও অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে। 
রোববার ৮ জুলাই বেলা আড়াইটায় শমশেরনগর-চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন সড়কের শরীফপুর ইউনিয়নের সঞ্জবপুর থেকে শুল্ক স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি স্থানের মধ্যে ৮টি স্থানের সড়ক ভাঙ্গন ছোট আকারের। আর বাকি ৮ স্থানের ভাঙ্গন বড় আকারের। বড় আকারের ভাঙ্গন সর্ব নি¤œ ৩৫ ফুট থেকে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে। সড়ক জনপথ বিভাগ স্থানীয়ভাবে ঠিকাদার নিয়োগ করে এ সড়কের ভাঙ্গন এলাকায় বালি ভরাট করে সেখানে দুই স্থরের ইট সলিং কাজ করছে। শরীফপুর গ্রাম এলাকায় সড়কে ইট সলিং কাজের তদারককারী সড়ক জনপথ বিভাগের কর্ম সহকারী তপন বিকাশ দেব বলেন, এবারের বন্যার পানির স্রোতে এ সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
৬ কি:মি: এলাকায় ছোট বড় ১৬টি স্থানের ভাঙ্গনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮টি স্থানে ইট সলিং সম্পন্ন হয়ছে। বাকি রয়েছে আরও ৮টি স্থান। বাকি কাজ শেষ করতে কমপক্ষে আরও দুই সপ্তাহ লেগে যাবে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সাব ঠিকাদার নাজিম উদ্দীন নাজির এ প্রতিনিধিকে বলেন, বৃষ্টিতে মাঝে মাঝে কাজে বিঘœ ঘটছে। নতুবা দ্রুত পুরো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইট সলিং সম্পন্ন করা যেত। তিনি আরও বলেন, এর আগে ২৬ জুন থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সড়কের মাটি ড্রেসিং করে দেওয়ায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে। ফলে শরীফপুর ইউনিয়নের মানুষজনের দুর্ভোগ অনেকটা কমেছে।
চাতলাপুর চেকপোষ্টের অভিবাসন কর্মকর্তা (ইমিগ্রেশন) এসআই জামাল হোসেন বলেন, ভাঙ্গা কালভার্টের উপর স্থাপিত বেইলী সেতুর উপর দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল শুরু করায় আর ভাঙ্গা সড়ক এলাকার মাটি ড্রেসিং করে দেওয়ায় দুই দেশে যাতায়াতকারী যাত্রীরা যাতায়াত করতে পারছেন।
চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের আমদানি রপ্তানিকারক সাইফুর রহমান (রিমন), তাসদিক হোসেন (ইমরান) ও সাইফুল ইসলাম বলেন, ভাঙ্গা কালভার্টের উপর বেইলী সেতু স্থাপিত হওয়ায় ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এলাকায় ইটসলিং শুরু হওয়ায় হালকা যানবাহন চলাচল করছে। তবে বেইলী সেতু দিয়ে আমদানি রপ্তানিবাহী ভারী যানবাহন চলাচল এখনও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঠিক কবে আমদানি রপ্তানি শুরু হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। সড়ক জনপথ বিভাগ ও শুল্ক বিভাগ নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তারা এ পথে আমদানি রপ্তানি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা (কাস্টমস সুপারেনটেনডেন্ট) আব্দুস সাত্তারও বলেন, এখন এ সড়কে যেভাবে সংস্কার কাজ হচ্ছে তাতে হালকা যানবাহন চলাচল করছে। তবে রপ্তানিযোগ্য পণ্যবাহী যানবহান চলাচল করতে পারবে না।
সড়ক জনপথের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, ভাঙ্গা কালভার্টের স্থানে স্থাপিত বেইলী সেতু হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। আর সঞ্জবপুর থেকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও চেকপোষ্ট পর্যন্ত ক্ষতবিক্ষত সড়কে ইটসলিং কাজ চলছে। তবে এই মুহূর্তে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। ক্ষতিগ্রস্থ পুরো সড়ক উন্নয়নে প্রস্তাব গ্রহন করে দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। দরপত্র হলে দ্রুত সময়ে সড়কের বড় ধরনের সংস্কার কাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য ১৩ জুন বুধবার ভোর রাতে মনু নদে পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে মনু সেতুর উত্তর দিকের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২০০ গজ দূরুত্বে একটি কালভার্ট প্রথমে ধেবে যায়। পর্যাক্রমে এ কালভার্টটি ভেঙ্গে গেলে এ পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া শরীফপুর ইউনিয়নের আরও ৩টি স্থানে মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে পাহাড়ি ঢলের পানির ¯্রােতে সঞ্জবপুর গ্রাম এলাকা থেকে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ও চেকপোষ্ট পর্যন্ত ৬ কি:মি: সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.