
স্টাফ রিপোর্টার॥ শেষ পর্যায়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য নির্বাচনে যাওয়ার সিন্ধান্তে দেশ জুড়ে অনেকটা নির্বাচনী আমেজ বইছে। এখন সর্বত্র আলোচনা সমালোচনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে ঘিরে। আর বৃহত্তর সিলেটে নির্বাচনী আলোচনায় স্থান পাচ্ছে জাতীয় ঐক্যের অন্যতম শীর্ষ নেতা সুলতান মো: মনসুর আহমদকে নিয়ে। তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন। মৌলভীবাজার-২(কুলাউড়া) আসন থেকে নির্বাচন করবেন কিনা। নাকি সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। দুটিতে দাঁড়ালে ফলফল কেমন হবে এমন নানা প্রশ্ন স্থান পাচ্ছে আলোচনায়। তবে তিনি যে আসন থেকে নির্বাচন করেন না কেন ফলাফল যে তাঁর পক্ষে যাবে এমনটি বেশ জোরে সুরে জানান দিচ্ছেন সুলতান ভক্তরা। দীর্ঘ প্রায় দেঢ় যুগ পরে আবারও ভোটের মাঠে নামছেন ‘সিলেটের ম্যারাডোনা’ খ্যাত জনপ্রিয় জাতীয় নেতা সুলতান মো: মনসুর আহমদ। স্থানীয় ভোটার থেকে জাতীয় অনেক নেতারই কৌতুহল তার নির্বাচন কে ঘিরে। তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন এমন কৌতুহল সবার। তিনিই একমাত্র ব্যতীক্রমী প্রার্থী যিনি সব দল থেকেই ভোট টানতে সক্ষম হবেন বলে ধারণা সবার। নিজের ব্যক্তি ইমেজের পাশাপাশি তার বাক্সে পড়বে সরকার দলীয় এবং সরকারবিরোধী ভোটও। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে সুলতান মনসুর যে চমক দেখাবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার ভক্ত,শোভাকাঙ্খি ও অনুসারীরা জানান দু’চার নেতা হয়ত দলের চাকুরী বাঁচাতে তাঁর বিরোধীতা করছেন। কিন্তু ঠিকই মনে প্রাণে তাঁকে পচন্দ করেন। ভোটে যার প্রমাণ মিলবে। তিনি যে আসন থেকে নির্বাচন করেন না কেন বিশাল ব্যবধানে যে বিজয়ী হবেন তা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে সরকার যদি ভোট নয় ছয় করেন তাহলে তো আর কিছু বলার নেই। তারা দৃঢ় কন্ঠে বলেন এমন নেতা ক’জন মিলে যার আপাদমস্ত সততা নিষ্ঠা দেশপ্রেম ও জনগণ আর রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করার অটুট প্রত্যয়। যিনি রাজনৈতিক দলের বড় নেতা ও এমপি হয়েও নিজের সম্পত্তির ধার ধারেননি। রয়ে গেছেন সেই সাদা মাটা আর সহজ সরল জীবন যাপন। যিনি দেখতে যেমন জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর মত ঠিক তেমনি আদর্শ আর নীতি নৈতিকতাও। গতকাল বিকেলে নির্বাচন নিয়ে সুলতান মনসুর জানান সবদলের অংশগ্রহনে অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তিনটি আসন থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। একটি তার জন্মস্থান মৌলভীবাজার-২ আসন (কুলাউড়া), সিলেট-১ এবং ঢাকার একটি আসন। তবে সবকিছু ঠিক হবে জোটের র্শীষ নেতাদের সিন্ধান্তে।
জানা যায় সর্বশেষ ২০০১ সালের নিবার্চনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন সুলতান মনসুর। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি। একসময় সুরঞ্জিত-সামাদের পর সিলেট থেকে কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ জাতীয় নেতা হিসেবে ভাবা হতো সুলতান মনসুরকে। কিন্তু ১/১১’র রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে নানা কুট কৌশলে মিথ্যা তকমা দিয়ে দল থেকে অনেকটা কুনটাসা করে রাখা হয় সুলতান মনসুরকে। তাই রাজনীতি লালন করলেও কর্মীবান্ধব এ নেতা দীর্ঘদিন সভা সমাবেশ ও রাজপথে নীরব ছিলেন। তবে এখন আবারও সক্রিয় হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুর। আওয়ামীলীগের আরেক সাবেক নেতা ও গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে। ব্যক্তি হিসেবে সরকারবিরোধী শিবিরে যোগ দিলেও বদলাননি নিজের রাজনৈতিক আদর্শ। ঐক্যফন্টের গেল কয়েকটি জনসভার বক্তব্যই তার প্রমান। তার বক্তব্যে উজ্জীবিত হন জনসভায় আগত লোকজন। যেটা ভোটের মাঠে তার জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দেবে। তবে এরই মধ্যে সিলেটজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন সুলতান মনসুর। আর এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসন। এই আসন নিয়ে একটি প্রচলিত ধারণা আছে ‘যে জিতবে সেই সরকার গঠন করবে’। এই ধারণা বারবার সত্য প্রমাণিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। যখন যে দলের প্রার্থী এই আসন থেকে জয়ী হয়েছেন সেই দলই সরকার গঠন করেছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোও এ আসনে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়ে থাকেন। এর আগেও সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানকে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মৌলভীবাজার থেকে সিলেট নিয়ে আসে বিএনপি জোট। কারণ এই আসনকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না কোনো দল বা জোট। তাই হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে সুলতান মনসুর এই আসন থেকে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন পাবেন সেটা অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন এক্যফ্রন্টের নেতা কর্মীরা। সুলতান মনসুর সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করলে সেটা সিলেটের মাঠে একটি চমক হিসেবেই থাকবে, বদলে যাবে ভোটের হিসাব। কারণ এক সময়ের আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে এই নেতার সিলেটজুড়ে ‘ক্লিন ইমেজের নেতা’ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। সেইসঙ্গে একাদশ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপি জোটের ভোট ব্যাংকের শতভাগ জমা হবে তার বাক্সে। এমনকি ছাত্রলীগ নেতা হিসেবেও সিলেটের বর্তমান নেতাদের সঙ্গে রয়েছে সুলতান মনসুরের সু-সর্ম্পক যা ভোটের মাঠে সুলতানকে এগিয়ে নেবে। অন্যদিকে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় সিলেটে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং নিয়ে। সে সময় আওয়ামী লীগের অনেকেই গ্রুপিংয়ের কারণে দলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে সে গ্রুপিং না মিটলে তাদের ভোটও জমা হবে সুলতান মনসুরের বাক্সে। আর এসব মিলিয়েই সুলতান মনসুরকে ঘিরে হিসাব মেলাচ্ছে ভোটের মাঠের বিভিন্ন দল ও জোট। তবে সব হিসেব নিকেশে ফলাফল যে তার পক্ষে যাবে এমনটির আবাস দিচ্ছেন ভোটার ও স্থানীয় ভোট বিশ্লেষকরা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.