
ইমাদ উদ দীন॥ এই দেশ আপনাদের। আপনারাই দেশের মালিক। দেশের এই চরম ক্রান্তিলগ্নে আপনারাই এগিয়ে আসতে হবে। আপনাদেরকেই সোচ্চার হতে হবে। দেশ,জাতি ও মানুষের কল্যাণে ঘুমন্ত বিবেক জাগাতে হবে। দেশকে বাঁচাতে হবে। যে ভাবে দেশ চলছে তা মেনে নেওয়া যায়না। এভাবেই দেশ চলতে পারেনা। চলতে দেওয়া যায়না। আর চোখ বুঝেও থাকা যায়না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সাবেক সাংসদ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন দীর্ঘ ১০ বছর পরে আপনাদের সামনে এসে এই প্রথম জনতার সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছি। নানা ষড়যন্ত্র করে আমাকে রাজনৈতিক নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সব ষড়যন্ত্রে বেড়াজাল চিহ্ন করে আমি আপনাদের সামনে হাজির হতে পেরেছি। জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে আমি আপনাদের সাথে একাতœ হয়েছি। আপনাদের সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটের মাধ্যমে এই জালিম সরকারকে বিদায় জানাতে চাই এই দু:শাসন থেকে মুক্তি পেতে চাই। তিনি বিজয়ের মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মদানকারী শহীদ ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে মৃত্যুবরণকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের আতœার শান্তি কামনা করে সুলতান মনসুর বলেন আসন্ন নির্বাচন অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ২০১৪ সালের সার্কাস মার্কা ভোটার বিহীন সরকার এদেশের জনগণ আর দেখতে চায়না। জনগনে ভোট দেয়নি তারপরও এমপি মন্ত্রী। আমাকে ওই নির্বাচনে এমপি হতে অনেকেই বলেছেন আমি রাজি হইনি। আমি এমপি মন্ত্রী হতে রাজনীতিতে আসিনি। আমি বাড়ি গাড়ি ধন সম্পদ চাইনা। আমি তার বড়াইও করিনা। আমার সম্পদ আমার অনুপ্রেরণা আপনারাই। আমি রাজনীতিকে জনগণের এই সেবাকে ঈমানের অংশ ও ইবাদত মনে করি। আমাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে রাখার কারন আমি সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলি। বাংলাদেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি ও লুটপাট করছে সরকার। বাংলাদেশে মেগা প্রকল্প যতটুকু নেওয়া হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই এরকম তিন গুণ,চার গুণ বেশি অর্থ দিয়ে এসব এ প্রকল্প হয়েছে। এসব প্রকল্পের নামে সরকার মেগা দুর্নীতি অর্থ কেলেংকারী করছে। দেশে এখন গণতন্ত্র আইনের শাসন বাকস্বাধীনতা নেই বললেই চলে। জনগণের অধিকার আজ ভূ-লুন্ঠিত। ৫ বছর ধরে ভোটারবিহীন নির্বাচনের সরকার দেশ চালাচ্ছে। সোমবার ১০ ডিসেম্বর বিকেলে ঐতিহ্যবাহী কুলাউড়া ডাক বাংলামাঠে আয়োজিত প্রথম নির্বাচনী জনসভায় একথা বলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এ নেতা বলেন-‘ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে নানাভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। অথচ মাত্র দুই কোটি টাকার কারনে সাবেক একাধীকবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চক্রান্ত করে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। এটি কোন কারাগার নয়,একটি পরিত্যক্ত ঘরেই তাঁকে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। অথচ হলমার্ক, বাংলাদেশ ব্যাংকের রির্জাভ চুরি, জনতা ব্যাংক, ডেসটিনি,শেয়ার মার্কেট এমন কোন ব্যাংক নেই অর্থ আত্মসাৎ হয়নি। সে সবের বিচারও হয়নি।’ দেশ একটি গোষ্ঠী বা ব্যক্তির শাসন চলছে জানিয়ে সুলতান মনসুর বলেন বিরোধী মত ও পথের কোন মানুষই আজ নিরাপদে নেই। গত ২২ সেপ্টেম্বরে আমাদের জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জেএসডিসহ ২০ দলীয় জোট একত্র হয়েছে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেয়ার আন্দোলনে। ৪ দফা ও ১১ দাবি নিয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা।’ তিনি বলেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। উনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছিলো। বাংলাদেশের সংবিধান যদি কেউ মানেন তবে এই সত্যগুলোকে কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। উনি জাতীর অবিসংবাধিত নেতা। শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তৎকালীন জেনারেল মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘জয়বাংলা শ্লোগান, জয় বঙ্গবন্ধু ও মুজিব কোট একক কোনো দলের নয়। একটি রাজনৈতিক দল দলীয় স্বার্থ হাসিলের জন্য সেগুলো ব্যবহার করছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার জিয়ারত করেছিলেন।
জয় বাংলা শ্লোগান, জয় বঙ্গবন্ধু ও মুজিব কোট এগুলো কারও ব্যক্তিগত সম্পদও নয়। তিনি বলেন কুলাউড়াসহ সারা দেশে দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মানুষের মধ্যে স্বতঃস্ফুর্ততা সৃষ্টি করে দিয়েছে। প্রশাসন সুষ্ট ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ করে দিলে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের প্রত্যাশা ও আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে ইনশাআল্লাহ। আপনাদের নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। এটা নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব। আমরা সেই আহ্বানই জানাচ্ছি, নির্বাচনের দিন ঘর থেকে বেরিয়ে আসুন। ভোট কেন্দ্রে যান। ভোট নিশ্চিত করুন, পাহারাদার হিসেবে তা রক্ষাও করুন। তিনি বলেন ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বা অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যেমন তাজউদ্দিন, মুজিবনগর সরকারসহ জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্বে¡ সেক্টর কমান্ডাররা ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল শফিউল্লাহ, জেনারেল খান মোশাররফ তিন ব্রিগেড ছিলেন বা হাজার হাজার সামরিক বাহিনী,মুজিব বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন তারা কিন্তু লুটপাটের বা টাকা আত্মসাতের জন্য, দেশ ধ্বংস করার জন্য এই বাংলাদেশকে স্বাধীন করেন নাই। তাই এসকল নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দেশপ্রেমীক হয়ে এসকল চলমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সুলতান মনসুর বলেন-বাংলাদেশের কোন ভোটার স্বাধীনতা বিরোধী নয়, মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বিরোধী হতে পারে, স্বাধীনতা বিরোধী নয়। তাঁকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ১২ বছরের আক্ষেপ তুলে ধরে বলেন আমি রাজনীতির কর্মী হিসেবে রাজনীতিকে ঈমানের অংশ হিসেবে দেখি। জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করি। তাই নানাভাবে আমার জনকল্যাণের এই রাজনীতি থেকে ষড়যন্ত্র করে দূরে ঠেলে দিতে অপ্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। আমার রাজনৈতিক জীবন ধ্বংস করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু জনগণের ভালোবাসায় ও দেশপ্রেমে আমি মনে প্রাণে একজন রাজনীতির কর্মী হিসেবে কাজ করেছি ও করছি। এর সরকার নিজেকে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধের চেতনার সরকার দাবি করে অথচ এই সরকারের সময়ই মুক্তিযোদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমজি আতাউলগনি ওসমানির জন্মদিনটিও পালন করা হয়নি। যারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রাজপথে ভৎসনা করেেেছ তারাই আজ এই সরকারে মন্ত্রী ও এমপি।
স্থানীয় রাজনীতিতে নিষিক্রিয় থাকার বিষয়ে তিনি বলেন স্থানীয় রাজনীতিতে এই ১২টি বছর প্রত্যক্ষভাবে সক্রিয় থাকিনি কারণ এখানে (কুলাউড়া) রাজনীতিতে আমি সক্রিয় থাকলে রাজনৈতিক কোন্দল সৃষ্টি হতো। সেটি আমি চাইনি। আমি আপনাদের সন্তান। আপনাদেরই স্বজন। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে আমাকে আপনাদের মহামূল্যবান ভোটের মাধ্যমে সে সুযোগ করে দিবেন এমনটি প্রত্যাশা রাখছি। তিনি কুলাউড়ার উন্নয়নের বিষয়ে প্রশ্নে রেখে বলেন আমার পর এতবছর কাটল গেল ৫ বছরও কাটল কিন্তু উন্নয়ন কোথায়। রাস্তা ঘাটের এই বেহাল দশায় কেমন উন্নয়ন হয়েছে তা অনুমেয়। সুলতান মনসুর না হলে রাস্তা পাকা হয়না এটা মেনে নিতে কষ্ঠ হয়। ধানের শীষ হাতে নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন ৩০ তারিখে ভোটের মাধ্যমে এই প্রতীককেই বিজয়ী করবেন ইনশাআল্লাহ। এই নির্বাচনী আসনে অতীতে তাঁর নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের মুল্যায়ন করে স্থানীয় জনগন ভোটের সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এমন উদাত্ত আহবান ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকুর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক তিনবারের সাংসদ,জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দলের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা এ্যাডভোকেট নওয়াব আলী আব্বাছ খান,জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ভিপি মিজানুর রহমান মিজান। কুলাউড়া উপজেলা,পৌর বিএনপি,যুবদল,স্বেচ্ছাসেবকদল,ছাত্রদল,শ্রমিকদল,তাঁতীদল,মুক্তিযোদ্ধাদলসহ ও ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ। দুপুর হতে ধানের শীষ হাতে নিয়ে জনসভার দিকে দলে দলে লোকজন আসতে থাকেন। বিকেল হলেই জনসভাস্থল লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। এসময় নানা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে জনসভারস্থলসহ আশপাশ এলাকা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.