
বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখার ভোলারকান্দি কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার চরম অনিয়ম করছেন। ছাদ ঢালাইয়ে ইটের গুড়ো মিশ্রিত কংক্রিট ও নি¤œমানের বালু ব্যবহারের কারণে এবং সিমেন্টের পরিমান কম দেয়ায় অল্প দিনেই ক্লিনিকের ছাদ চুয়ে পানি পড়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। সরকারী যেকোন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ে বরাদ্দ দাতা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও এ ক্লিনিকের ছাদ ঢালাইয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তাকে সাইটে দেখা যায়নি।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউপির হাকালুকি হাওরপারের ভোলারকান্দি এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২৫ লাখ টাকা সরকারী বরাদ্দের দ্বিতল এ ক্লিনিকের নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায় সিলেটের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাসল কনষ্ট্রাকশন’। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার গত বছরের অক্টোবরে ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ শুরু করে। শনিবার সকালে দ্বিতল ছাদের ঢালাই কাজে নি¤œমানের বালু, গুড়ো মিশ্রিত কংক্রিট ব্যবহার ও পর্যাপ্ত পরিমান সিমেন্ট না দেয়ায় এলাকাবাসী আপত্তি জানান। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তির তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার টিটু মিয়া নিজে দাঁড়িয়ে থেকে কাজ চালিয়ে যান।
সরেজমিনে গিয়ে ইটের গুড়া মিশ্রিত নি¤œমানের কংক্রিট ও বালু দিয়ে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলতে দেখা গেছে। এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন, শামীম আহমদ, নজরুল ইসলাম প্রমূখ জানান, শুরুতেই ঠিকাদার নি¤œমানের কাজ করেন। আমরা বারবার আপত্তি জানাই। প্রথম তলার ঢালাইয়েও কংক্রিট ও বালু চালনি ছাড়াই ব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয় তলাও একইভাবে অনিয়ম করায় আপত্তি করি। আমাদের অভিযোগ না মানায় আমরা ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদকে ঘটনা জানিয়েছি। কিন্তু কারো কথা না শুনেই তিনি ঢালাই কাজ সম্পন্ন করেছেন। এতে অল্প দিনেই সরকারের দেয়া এ ক্লিনিকের ছাদ চুয়ে পানি পড়ার ও পরবর্তীতে ধসে পড়ার আশংকা রয়েছে। সরকারী যেকোন ভবনের ছাদ ঢালাইয়ে বরাদ্দ দাতা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার নিয়ম থাকলেও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাউকে দেখা যায়নি। আর এ কারণেই ঠিকাদাররা দায়সারা ভাবে কাজ করে বিল তুলে নেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মাসুক আহমদ জানান, তার চাচা ক্লিনিকের ভুমি দান করায় সরকার ভবন নির্মাণ করে দিচ্ছে। ব্যক্তিগত কাজে তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও নি¤œমানের মালামাল দিয়ে ঢালাই কাজ করায় গ্রামের লোকজন তাকে ফোন করেছেন। তিনি কাজে অনিয়ম না করার কথা বললেও ঠিকাদার নি¤œমানের মালামাল দিয়েই ঢালাইর কাজ শেষ করেছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এব্যাপারে ‘ক্যাসল কনষ্ট্রাকশন’ এর স্বত্তাধিকারী ঠিকাদার টিটু মিয়া জানান, কংক্রিটের সাথে কিছু ইটের গুড়ো থাকতেই পারে। ভাল কংক্রিটও যে রয়েছে তাও দেখেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.