বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখার চান্দগ্রাম আনোয়ারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী গত ৬ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বেতন বিলের স্বাক্ষর জটিলতায় গত বছরের আগষ্ট থেকে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন বিল বন্ধ রেখেছে জনতা ব্যাংক। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর দাবী ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের খামখেয়ালী পনায় এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, চান্দগ্রাম এ.ইউ ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার গভর্নিং বডির নির্বাচন নিয়ে অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর সাথে সাবেক সভাপতি ময়নুল হক ও উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরীর বিরোধ চলছিল। এর জেরে প্রায় ১ বছর পূর্বে অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে বরখাস্ত করে উপাধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করা হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী গভর্নিংবডির মেয়াদ শেষ হলে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার গত ৭ আগস্ট মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুর রহমানকে সভাপতি করে এডহক কমিটি করেন। বরখাস্ত অধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ চৌধুরীকে স্বপদে বহালের ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেন। এদিকে মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি ময়নুল হক স্বাক্ষরিত শিক্ষক-কর্মচারীর গত বছরের আগষ্ট মাসের বেতন বিল জমা দিলে বিলটি বিধিসম্মত নয় জানিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা আটকে রাখেন। এরপর অদ্যাবধি ৬ মাস যাবৎ শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষক কর্মচারীরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
৩১ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গেলে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, বেতন-ভাতার জন্য তারা ১৬ অক্টোবর থেকে ৫ দিন কর্মবিরতি করেন। পরে জেলা শিক্ষা অফিসারের আশ্বাসে ক্লাসে ফিরেন। কিন্তু ৬ মাস অতিবাহিত হলেও আজও বেতন পাচ্ছেন না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক ওয়াহিদা কানিজ, বিএসসি শিক্ষক রাজিব কুমার পোদ্দার, সমাজবিজ্ঞান শিক্ষক সাহাব উদ্দিন প্রমুখ জানান, বাসা ভাড়া দিতে না পারায় বাড়ির মালিক বাসা থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। ছেলে-মেয়ের হোস্টেল খরচ পাঠাতে পারছেন না। দোকানী আর বাকীতে মালামাল দিচ্ছে না। বেতন বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
বড়লেখা জনতা ব্যাংক ম্যানেজার শৈলেন্দ্র শর্মা জানান, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার গত ৭ আগস্ট মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুর রহমানকে সভাপতি করে এডহক কমিটি করেন। কিন্তু বেতন বিলে সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর থাকায় তিনি বিল আটকে দেন। এব্যাপারে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাংককে বিবাদী করে সাবেক সভাপতি ময়নুল হক আদালতে মামলা করেছেন। তাই আদালতের নির্দেশনা ছাড়া বেতন ছাড় করা যাচ্ছে না।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওহীদুজ্জামান চৌধুরী জানান, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের খামখেয়ালী পনার কারণেই মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তবে তা দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.