
কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ যেন দেখার কেউ নেই। অসহায় কিছু নিম্নবিত্ত রেলওয়ে শ্রমিকদের জীবন যাপনে যেন যত তুচ্ছ তাছিল্য। নুন আনতে পান্তা পুড়ায় পরিবার কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন যাপন। তবে রেলওয়ে কর্মচারীদের জীবন যাপনের মান নিয়ে প্রশ্ন জাগে? বাংলাদেশ রেলওয়ে কুলাউড়া জংশন স্টেশন কর্মরত কর্মচারী অবহেলিত ভাবে জীবনযাপন করছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চেয়ও বাংলাদেশ রেলওয়ে কুলাউড়া আওতাধীন কর্মচারীদের জীবনযাপন সব চাইতে অবহেলিত। পৌরসভা এবং রেলওয়ে উন্নয়ন কাজ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্ন থাকলেও এই প্রতিষ্টান দুটির মধ্যে ঠেলা ধাক্কা কারণে উন্নয়ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকার বাসীন্দারা। যেমন কুলাউড়া উপজেলায় প্রায় ৮০%সেনিটেশন ব্যবস্থা হলে কুলাউড়া পৌর শহরের মধ্যে অবস্থিত ২নং ওয়ার্ড ও ৫নং ওয়ার্ড যে ওয়ার্ড দুটি মধ্যে রেলওয়ে আওতাধীন এলাকায় রয়েছে সেখানে দেখা যায় অন্য এক চিত্র। কোয়াটারে বৈধভাবে বাস করছে, তাদের প্রতি মাসের শুরুতে বাসা ভাড়া বাবত বেতন গুনতে হচ্ছে টাকা। পুরাতন কোয়াটারগুলোতে প্রতি বছর মেরামত কাজ হতে দেখা গেলেও খুব নি¤œমানের কাজের কারণে তার সুফল ভোগ করতে পারেনি বাসীন্দরা। সামান্য বৃষ্টি এলেও তলিয়ে যায় এসকল কোয়াটার। তার মধ্যে বাস করতে হয় তাদের। এসকল বৈধ কোয়াটারের সেপ্টিট্যাংকিগুলো ভেঙ্গে গিয়ে মলমূত ড্রেনে পড়ে পানির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে পৌরসভায় অন্যান্য এলাকায়। এছাড়াও রয়েছে অবৈধ বাস কারীদের যেখানে সেখানে ঝুলন্ত টয়লেট নির্মাণ। এ কারণে ‘দেখা দিচ্ছে নতুন নতুন পানিবাহিত রোগের প্রদুর্ভাব’। দিনভরকর্মচারীদের খাটুনিতে রেলওয়ে সেক্টরকে আগলে রেখেছেন, তাদের থাকার জায়গাগুলোতে কতটুকু উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে তা ভাববার বিষয় এখন? বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়েতে আমুল পরিবর্তন হয়েছে। রেলওয়ের রুটগুলোতে উন্নয়নের ছুয়ায় নতুনত্ব আসছে। নতুন ইঞ্জিন, নতুন কোচ, নতুন রুট হচ্ছে সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে সেক্টরে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এই সরকার করছে আলাদা রেলওয়ে মন্ত্রনালয়। এই মন্ত্রনালয় মাধ্যমে রেলওয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরিচালিত হচ্ছে। এদেশের সফল প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কর্মচারীদের আহবান আমরা সাধারণ কর্মচারী একটি সুন্দর আধুনিক এলাকা গড়ে তুলে দেওয়ার আহবান। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেল, কুলাউড়া জংশন এলাকার পৌরসভার আওয়াতাভুক্ত ২নং ও ৫নং ওয়ার্ডের রেলওয়ে কোয়ার্টার গুলোর বেহাল দশা! বৈধ কোয়ার্টারগুলো বসবাসের অনুপযোগী। বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকার পরেও রয়েছে প্রভাবশালীদের অবৈধ পানির মটর ব্যবহারের তৎপরতা। কোয়ার্টারের বাসাগুলোতে স্যানিটারী সিষ্টেম থাকলেও নি¤œমানের কাজের কারণে কিছুদিনের মধ্যে এসকল সেপটি ট্যাংকগুলো ভেঙ্গে পড়ছে। রেলওয়ের কোয়ার্টারগুলোর প্রায় সবকটি সেপ্টিট্যাংকিগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে বাধ্য হয়ে কোয়াটারের বাসিন্দারা সেপ্টিট্যাংকিগুলো ছিদ্র করে ড্রেনের সাথে সংযুক্ত করে দিচ্ছেন। ফলে মলমূত্র ড্রেনের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো পৌরসভাসহ তথা উপজেলায়। এতে করে রেলওয়ে কর্মচারী ও তাদের সন্তানরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁিকতে পড়ছেন। শুধু তাই নয় প্রতিটি বর্ষা মৌসুমের মতো এবারও মলমূত্র প্রবেশ করবে রেলওয়ে কোয়ার্টারগুলোতে, এর মধ্যেও রাত্রী যাপন করতে হবে এসব কর্মব্যস্ত কর্মচারীদের। রেলওয়ে এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা তো কর্মচারী আমাদের কোয়ার্টারের দিকে উনাদের (কর্মকর্তাদের) নজর আসে না। আমাদের সন্তানাদীদের নিয়ে অনেক সমস্যায় আছি। আমাদের রেলওয়ে এলাকার পরিবেশ দূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন আছি। কোয়াটাগুলো মেরামতের জন্যে উর্ধ্বতন সহকারী প্রকোশলৗর কাছে দরাখাস্ত করি। তবে এ বিষয়টি কোনদিন যে আলোর দেখা পাবে তা আমরা বলতে পারি না? কোয়ার্টারে বসবাসের জন্য ছোট খাটো সমস্যা গুলো আমরা নিজেরাই অর্থ ব্যয় সমাধান করে ফেলি। রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কুলাউড়া শাখার সভাপতি নজমুল হক বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত অবহেলিত ছিলাম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আসার পর থেকে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনসহ কর্মচারী কোয়াটারের অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। যে কাজ বাকি রয়েছে আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে তা যেন সমাধান করা হয়; শ্রমিকরা প্রতিদিন কাজ শেষ করে রাতে যাতে একটু আমার আয়েশে রাত্রি যাপন করতে পারে সে বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। উর্ধ্বতন সহকারী প্রকোশলৗ জুয়েল আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কুলাউড়ায় আসার পর থেকে পুরাতন কোয়ার্টারগুলো মেরাতম কাজ হয়েছে এবং বৈধ কোয়াটারগুলো যে গুলো কাজ বাকি রয়েছে সেগুলোর শীগ্রই কাজ করা হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.