বড়লেখা প্রতিনিধি॥ হাকালুকি হাওরে ২০১১ সালে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষিত কৈয়ারকোনা বিল থেকে আবারো মাছ লুটের চেষ্টা চালিয়েছে কতিপয় প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা। চক্রটি গত বৃহস্পতিবার বিলে জাল ফেললে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ভিসিজি সদস্যরা তা পন্ড করে দিয়েছে। অসাধু বাহিনী মাছ লুটের পরিকল্পনায় ১২ জানুয়ারি রাতে বিলের পানি কমাতে বাঁধ কাটে। খবর পেয়ে পরদিন সহকারি কমিশনার (ভূমি)র নেতৃত্বে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাটা বাঁধ বন্ধ করেন।
জানা গেছে, হাকালুকির প্রায় ৭৭ একর কৈয়ারকোনা বিলটি মাছের বিলুপ্তি রোধ, প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে ২০১১ সালে সরকার অভয়াশ্রম ঘোষণা করে। ২০১২ সাল থেকে অভয়াশ্রম এ বিলে সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়। বিল রক্ষনাবেক্ষণ ও পাহারার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থানীয় হাল্লা ভিসিজিকে (ভিলেজ কনজারভেটিভ গ্রুপ)। দীর্ঘদিন ধরে কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রম বিলে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় মৎস্যখেকোদের। ইতিপূর্বে কয়েক দফা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলেও আবারো মাছ লুটে তারা তৎপর হয়ে উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী খাস কালেকশনের দোহাই দিয়ে কৈয়ারকোনা অভায়াশ্রম বিলে জাল ফেলে। এসময় বিলের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা হাল্লা ভিসিজির সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আহমদসহ অন্যান্য সদস্যরা তাদেরকে বাঁধা দেন এবং খাস কালেকশনের কাগজপত্র দেখতে চান। এর আগেই জালের একটান সম্পন্ন করায় তারা অন্তত লাখ টাকার মাছ ধরে ফেলে। এসব মাছের অধিকাংশই ‘মা’ মাছ। যা ১০-১৫ দিনের মধ্যে ডিম ছাড়তো। তবে ভিসিজি সদস্যদের বাঁধায় মাছ লুটেরা বাহিনী এ দিন আর জাল না ফেললেও রাতে জাল ফেলার মহড়া দিয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছে।
অভয়াশ্রম বিলের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা হাল্লা ভিসিজি’র সাধারণ সম্পাদক সোলেমান আহমদ জানান, কিছু লোক বৃহস্পতিবার সহকারী কমিশনারের (ভুমি) নিকট থেকে খাস কালেকশন নেয়ার দাবীতে কৈয়ারকোনা বিলে জাল ফেলে। আমরা বাঁধা দেয়ায় চলে যায়। তবে অবৈধভাবে তারা বেশ কিছু মাছ ধরে নিয়ে গেছে।
সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. শরীফ উদ্দিন জানান, কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রম বিলের মাছ শিকারের জন্য অসাধু চক্র গত ১২ জানুয়ারী বিলের বাঁধ কেটে দেয়। খবর পেয়েই পুলিশ নিয়ে তিনি বাঁধ পূনঃনির্মাণ করেন। এ বিলটি খাস খালেকশন দেয়া হয়নি। পাশের একটি বিল খাস কালেকশন হয়েছে। এটাকে পুজি করে হয়তো কৈয়ারকোনা অভয়াশ্রম বিলের মাছ লুটের চেষ্ঠা চলছে। তিনি এব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিবেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.