বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বোরো ধানের শীষে মাত্র সোনালী রং ধরতে শুরু করেছে। মধ্য এপ্রিলে ধান কাটা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এপ্রিল আসার আগেই ভারী বৃষ্টিপাত, ঝড় আর শিলাবৃষ্টির কারণে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি তীরের কৃষকদের মধ্যে। হাওরের সাথে সংযুক্ত নদ নদীগুলোতেও পানি বাড়ছে। ৫ এপ্রিল শুক্রবার সকালেও ভারী বর্ষণ ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে অর্ধপাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
হাকালুকি হাওর তীরের ভুকশিমইল ইউনিয়নের কৃষক আকমল আলী, আজমল আলী, মছব্বির আলী, শাকিল মিয়া, বিলকুড়ি বিলের তীরের কৃষক আব্দুর রহিম, সালেহ মিয়া প্রমূখ জানান, এবার আগাম বৃষ্টিতে ধানের শীষ এসেছে সময়মত। কিন্তু ৩১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ভারি বৃষ্টিপাত, ঝড় আর সেই সাথে শিলাবৃষ্টিতে ইতোমধ্যে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত বন্ধ না হলে বোরোধান গোলায় তোলা দুষ্কর হবে। ৫ দিনে যে পরিমান বৃষ্টি হয়েছে তাতে ধানের খুব একটা ক্ষতি হয়নি। বৃষ্টি যদি থেমে যায় এবং ১৫ দিন সময় মিলে তাহলে বোরো ধান নিয়ে কৃষকদের আর দুশ্চিন্তা থাকবে না। ইতোমধ্যে স্থানীয় পাহাড়ী ছড়া দিয়ে পানি নামতে শুরু করেছে। পাহাড়ি ঢলের পানিতে হাকালুকির বিলগুলো ডুবতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে হাওরের বাথানে থাকা গরু-মহিষগুলো বাথানিরা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। ঈষাণ কোনে কালো মেঘ জমলেই কৃষকের মনে আতঙ্ক বিরাজ করে। এই বুঝি ভারী বর্ষণ শুরু হয়ে চোখের সামনেই তলিয়ে যাবে তাদের অতি কষ্টের সব ফসল-এই আশঙ্কায় কাটছে প্রতিটি মুহূর্ত।
হাকালুকি হাওর তীরের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী অংশে এবার বোরোর আবাদ হয় ১৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে। কুলাউড়া কৃষি অফিসার মো. জগলুল হায়দার জানান, তার উপজেলায় এবার ৬ হাজার ৭শ হেক্টর বোরো ধানের আবাদের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার একশ হেক্টর বেশি অর্থাৎ ৬ হাজার ৮শ হেক্টর বোরো আবাদ হয়। বড়লেখা উপজেলা কৃষি অফিসার দেবল সরকার জানান, বড়লেখায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও ১০ হেক্টর বেশি আবাদ করেছেন কৃষকরা।
জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষ্ণ রায় জানান, উপজেলা বোরো আবাদের টার্গেট ছিল ৫ হাজার ৪৭০ হেক্টর। বোরো আবাদ হয়েছে ১০ হেক্টর বেশি অর্থাৎ ৫ হাজার ৪৮০ হেক্টর।
হাওর পাড়ের উপজেলা কৃষি অফিসারদের তথ্যমতে, এবার বোরোর আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দেড়শ হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত বোরো আবাদ হয়েছে। মাঘের শেষে এবং চৈত্র মাসে বৃষ্টিপাত হওয়ায় বোরো ধানের ফলনও হয়েছিল আশাতীত। এবার নতুন জাতের ব্রি-৭৪ জাতের বোরো ধানের বেশি চাষ করা হয়েছে। ব্রি-২৮ কিছু কিছু কাটা শুরু হলেও মধ্য এপ্রিল থেকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হবে। হাওর তীরের কৃষকের গোলায় বোরো ধান উঠা নির্ভর করে প্রকৃতির উপর। কেননা এখানে ভারি বৃষ্টিপাত হলে পাহাড়ী ঢল নেমেই প্রথমে বোরো ধান তলিয়ে দেয়। ফলে কৃষকের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা থাকাটা স্বাভাবিক।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.