শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও শমশেরনগর মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ চলাচল করে। দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় পর্যটকরা শ্রীমঙ্গল এসে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত রাস্তাটি সংস্কার না করায় যান চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়ছে। দুর্ভোগের আরেক নাম যেন সড়কটি। শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জ-শমশেরনগরের ২০ কিলোমিটার সড়কের অধিকাংশই খানাখন্দে ভরা।
৫ মার্চ ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হলেও দেড় মাসের মধ্যে তেমন একটা অগ্রগতি লক্ষকরা যায়নি। অনেকেই ধীর গতিতে কাজ এগোচ্ছে বলে জানান ।
মঙ্গলবার সরেজমিন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় দেখো যায়,সড়কের অনেক স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় অনেক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে ভরা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল এখন অনুপোযোগি হয়ে পড়ছে। সিএনজি অটো রিক্স্রার মতো যানবাহনগুলো ঝুঁকির মধ্যে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহন করছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে। সড়কটি এ বেহাল দশায় পরিণত হওয়ায় দুই উপজেলার কয়েক লক্ষাধিক মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। এদিকে সংস্কার কাজের ধীর গতিতে চলার কারণে সড়কে জন দুর্ভোগ চরমে। শমশেরনগর থেকে কমলগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তার কার্পেটিং উঠিয়ে ফেলার পর কাজ প্রায় থেমে গেছে। ফলে তুলে ফেলা কার্পেটিং এর উপর দিয়ে যান চলাচলে মারাত্বক ব্যাহত হচ্ছে। কমলগঞ্জ উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে একটি এক্সেভেটর দিয়ে সড়কের দু’পাশ বাঁধানো কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মেসার্স জামিল ইকবাল নামে এই নির্মাণ প্রতিষ্ঠটানের আর কোন কাজ চোখে পড়েনি। কোথাও নির্মান যন্ত্রপাতি ও সামগ্রী না থাকায় যথাসময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে আশংকা করেছেন স্থানীয়রা ।
এক্সিভেটর অপারেটর সফিউল ইসলাম জানান, ‘কাজের সাইটে আরো ৪টি এক্সিভেটর নিয়ে আসা হয়েছিল। বর্তমানে অন্য সাইটের কাজের জন্য সেগুলো সিলেটের জাফলং’ এ পাঠানো হয়েছে’। সাইট ইঞ্জিনিয়ার রাসেল মিয়া ফোনে জানান, ‘বর্ষার কারণে কাজের গতি কমেছে তবে খুব শিঘ্রই ফুল টাইম কাজ শুরু হবে’।
সরেজমিন পরিদর্শনে সড়কে চলাচলকারী যাত্রী, আহমদ ফারুক, কামাল মিয়া, ব্যবসায়ী শাহীন আলম জানান, এই সড়কটির পিচ উঠে বড় বড় খানা-খন্দে রূপ নিয়েছে। সিএনজি অটোরিক্সায় চলাচল করলে শরীরে প্রচন্ড ব্যাথা লাগে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে জনসাধারণের চলাচল করাই দূরহ হয়ে পড়বে। সিএনজি চালক রূপ মিয়া বলেন, ‘দেশী বিদেশী লোকজন যারা শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসছেন তারা শ্রীমঙ্গল সম্পর্কে খারাপ ধারণা নিয়ে যাচ্ছেন এই রাস্তার কারণে’। মিনি ট্রাক চালক ফজর মিয়া জানান, ‘রাস্তার এই বেহাল অবস্থার কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। তাছাড়া সড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে যে কোন সময়’।
জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথের মৌলভীবাজার এর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, ‘৩৮ কোটি টাকায় ২০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে প্রাথমিক ভাবে শমশেরনগর বাজার থেকে ৭ কিলোমিটার কার্পেটিং তুলে নতুন করে কার্পেটিং করা হবে। এভাবে পারবর্তীতে ৭ ও ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ নির্ধারিত ১৮ মাসের আগেই শেষ করা হবে। কাজের যথাযথ মান বজায় রাখতে কোন ছাড় দেয়া হবে না’। তিনি আরো জানান, ‘শ্রীমঙ্গল শহরের একাংশ, ভানুগাছ, কমলগঞ্জ উপজেলা ও শমসেরনগর বাজার এলাকার টেকসই কাজের জন্য আরসিসি প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করার কথা রয়েছে’।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি অনলাইন এক্টিভিটেড ফোরামের সংগঠক মোহাম্মদ ইমাম হোসেন সোহেল জানান, ‘গত ৫ মার্চ শমসেরনগর অংশে এ কাজের উদ্বোধন করেন উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি। মাননীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মোতাবেক জন দুর্ভোগ লাঘবে সচেষ্ট রয়েছেন। আগামী দেড় বছরের মধ্যে এই এলাকার সাধারণ মানুষের দীর্ঘ দিনের সমস্যা সমাধান হবে’।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ২২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ সড়কের খানা খন্দক মেরামতের কাজ করানো হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। নামে মাত্র সংস্কার কাজ কারায় সে সময় সড়ক জনপদের বিরুদ্ধে ২২ লক্ষ টাকা পানিতে ফেলার অভিযোগ করেছিলেন ভুক্তভোগীরা।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.