
প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করতে মীতৈ মণিপুরী সম্প্রদায় প্রতি বছর“লাই-হারাওবা” উৎসব পালন করে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুরের কোনাগাঁও-এর “উজাও-লাইরেম্বী লাইশং” মন্দির প্রাঙ্গণে শনিবার ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে পাঁচদিনব্যাপী এই উৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় উদয়ন সংঘের আয়োজনে পাঁচদিনব্যাপী এ উৎসবে রয়েছে মীতৈ মনিপুরীদের ধর্মীয় ও সংস্কৃতির নানান অনুষ্ঠান। এ উৎসবে ভার- ভাংলাদেশের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গরাও অংশ গ্রহন করছেন।
জানা যায়, উৎসবটি ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী প্রতিদিন মাইবীর ঐশ্বরীক বাণীসহ লোকগান, লোক নৃত্য ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। মণিপুরী লাই-হারাওবা একটি উৎসব যা মীতৈ মণিপুরী সংস্কৃতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। এটি মূলত সনামহী ধর্মের ঐতিহ্যগত দেবতাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য উদযাপন করা হয়। এই উৎসবে প্রদর্শিত নৃত্য সমূহকে মনিপুরী নৃত্যশৈলীর একটি সুপ্রাচীন নৃত্যধারা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মণিপুরী সমাজে প্রচলিত অন্যতম প্রাচীন লোকনৃত্যানুষ্ঠান “লাই-হারাওবা জাগোই” থেকেই এসেছে। এই লাই-হারাওবা উৎসব। এ নৃত্যে প্রকৃতি পূজার পরিচয় মেলে। লাই শব্দের অর্থ ঈশ্বর, হারাওবা অর্থ আনন্দ এবং জাগোই অর্থ নৃত্য। অর্থাৎ নাচ গানের মাধ্যমে ঈশ্বরকে খুশী করা।
লাই-হারাওবা নৃত্যে দেখা যায় পৃথিবীর সৃষ্টিতত্ত্ব থেকে শুরু করে গৃহায়ন,শস্যবপন, জন্ম-মৃত্যু সবকিছুই নৃত্য ও সংগীতের সুর লহরীতে ঝংকৃত হয়। এ নৃত্যেও আঙ্গিক অংশগুলো যেমন লৈশেম জাগোই (গৃহায়ন নৃত্য),লৈসা জাগোই (কমুারী নৃত্য) প্রর্ভতি মণিপুরী সাংস্কৃতিক লোক সংস্কৃতি হিসেবে প্রদমিৃত হয়। লাই-হারাওবা নৃত্যের দুটি ধারাতেই পরিবেশিত হয় নানান ধরনের কাহিনী নির্ভর নৃত্যগীত। এই নৃত্য ধারার সাথে জড়িয়ে আছে মণিপুরীদের সনাতন ধর্মে বর্ণিত সৃষ্টি তত্ত্ব।
উৎসব উপলক্ষে কমলগঞ্জের আদমপুরে প্রতিটি মীতৈ মণিপুরী পরিবারে দেশী বিদেশী অতিথিদের আগমণ ঘটেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে উৎসবে নানা ধরনের নৃত্য পরিবেশন করছেন মনিপুরী নারীরা। সাতে সাথে রয়েছে মীতৈ মনিপুরীদের ঐতহ্যবাহী খাবার পরিবেশন। আয়োজকরা জানান, ১ মে পাঁচদিনব্যাপী লাই-হারাওবা উৎসবের সমাপ্তি হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.