বড়লেখা প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় পারিবারিক কলহের জেরে পান্না বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধু স্বামীর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। সোমবার ১০ জুন সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউপির দৌলতপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মতছিন আলী পলাতক। বিকেলে পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী ও ময়না তদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতলে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে বড়লেখা উপজেলার কলারতলি পার গ্রামের মাখই মিয়ার ছেলে মতছিন আলীর সাথে বিয়ানীবাজার উপজেলার পাড়িয়াবহর গ্রামের ইসমাইল আলীর মেয়ে পান্না বেগমের বিয়ে হয়। পরিবারের তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। প্রায় ৪ মাস আগে স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি পাড়িয়াবহরে চলে যান পান্না বেগম। ওই সময় বড় মেয়ে সুহানাকে (৭) শ্বশুর বাড়ির লোকজন রেখে দেয়। এদিকে সম্প্রতি সুহানা ইটাউরী গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেয়ে সুহানার অসুস্থতার খবর পেয়ে মা পান্না বেগম তাকে দেখতে ইটাউরীতে আসেন। সোমবার সকাল ৭টার দিকে সুহানাকে স্থানীয় এক হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় ইটাউরী এলাকায় পান্নার স্বামী মতছিন তাকে বাধা দেন। দৌলতপুর গ্রামে পৌছলে মতছিন পান্নাকে তার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করেন। পরে বিয়ানীবাজার হাসপাতালে নেওয়ার পথে পান্নার মৃত্যু ঘটে।
বড়লেখা থানার এসআই সুব্রত কুমার দাস জানান, পারিবারিক কলহের জেরে পান্না বেগমকে তার স্বামী মতছিন ছুরিঘাত করে হত্যা করেছেন বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি। নিহতের মরদেহ বিয়ানীবাজার হাসপাতালে রয়েছে। পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পান্নার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক। লাশের ময়না তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.