
বড়লেখা প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পরিবহন ধর্মঘটের নামে অ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে ৭ দিন বয়সি শিশু কন্যা খাদিজা আক্তার হত্যা মামলায় ১৩ পরিবহণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন দেশব্যাপি বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জসীম। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ঘটনার ৩ দিন পর গত বছরের ৩১ অক্টোবর পুলিশ ১৬০ থেকে ১৭০ জন পরিবহণ শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে। মামলাটি দায়ের করেন নিহত শিশুর চাচা আকবর আলী।
চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশিট গত ৩০ এপ্রিল আদালতে দাখিল করলেও তা গোপন রাখে পুলিশ। ১ মাস ১০ দিন পর গত মঙ্গলবার (১১ জুন) সাংবাদিকদের নিকট তদন্ত কর্মকর্তা তা প্রকাশ করেন।
নবজাতক শিশুহত্যা মামলার অভিযুক্তরা হল- উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর গ্রামের পরিবহণ শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন (৩৪), চান্দগ্রামের আলী হোসেন (৩৮), নিজাম উদ্দিন (৩৫), কয়েছ আহমদ (২৮), মহদিকোনা গ্রামের আলিম উদ্দিন (৪০), জাকির হোসেন রাজন (২৪), দাসেরবাজারের রয়নুল ইসলাম (২৭), জসিম (৩০), হেলাল উদ্দিন (২৮), ফজল আলী (২৫), শামীম (৩৫), শরফ উদ্দিন (৩৫) ও জুয়েল দাস (২০)।
জানা গেছে, বড়লেখার অজমির গ্রামের কুটন মিয়ার মেয়ে অসুস্থ হলে গত ২৮ অক্টোবর সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ দিন পরিহণ শ্রমিকরা দেশব্যাপি ৪৮ ঘন্টা পরিবহণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। চিকিৎসক শিশুটিকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। শিশুর অভিভাবকরা অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল ১০টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাওয়ার পথে পুরাতন বড়লেখা বাজার, দাসেরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিবহন শ্রমিকদের বাধার মুখে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্সটি চান্দগ্রাম বাজারে গেলে উশৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকরা দেড়ঘন্টা আটকে রেখে চালককে মারধর করে। সেখানে অ্যাম্বুলেন্সেই বিনাচিকিৎসায় শিশুটি মারা যায়।
নির্মম এ ঘটনার সংবাদ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিকস গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে সারাদেশে শুরু হয় তোলপাড়, ঝড় ওঠে নিন্দার। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পরিবহন শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করতে ৩১ অক্টোবর দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়লেখা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম মঙ্গলবার (১১ জুন) জানান, ‘এজাহারে কারো নাম ছিল না। অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা দায়ের করেন শিশুটির চাচা আকবর আলী। তদন্তকালে যাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়ায় প্রকৃত ঘটনাকারী হিসেবে ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জসিট দাখিল করেছেন।’
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.