কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়া উপজেলার বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে পানি পান করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির (১৪) এক ছাত্রী এবং ১০টাকার প্রলোভন দেখিয়ে চা শ্রমিক কন্যাকে (৮) ধর্ষণের চেষ্টা করে একসন্তানের জনক।
জানা যায়, উপজেলার পৃথিমপাশার একটি বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথিমধ্যে পানির পিপাসা পায় ওই ছাত্রীর। ও্ই ইউনিয়নের গণকিয়া গ্রামের হারিছ আলীর বাড়িতে পানি পান করতে গিয়ে হারিছ আলীর ছেলে আহাদ মিয়া কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয় ওই ছাত্রী। এদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ্একটি চা বাগানের বস্তিতে ১০ টাকা প্রদানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী এক সন্তানের জনক কর্তৃক ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয় ৮ বছরের চা শ্রমিক কন্যা। ঘটনা দুটিকে স্থানীয়ভাবে আপোষ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হয়।
বিষয়গুলো চাউর হলে অবশেষে ধর্ষণের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর মা একই ইউনিয়নের গণকিয়া গ্রামের হারিছ আলীর পুত্র সিএনজি অটোরকিশা চালক আহাদ মিয়াকে (২৩) আসামী করে কুলাউড়া থানায় ১৪ জুলাই রাতে ধর্ষণ মামলা নং ১৬ এবং ১৫ জুলাই রাতে চা শ্রমিক কন্যার মা চা বাগান বস্তির বাসিন্দা প্রেমা রাজভরের পুত্র খোকন রাজভরকে আসামী করে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা নং ১৭ দায়ের করেন। পৃথক এই দুটি মামলার আসামী আহাদ মিয়া ও খোকন রাজভরকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্র থেকে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার দিন গত ১৯ জুন বিদ্যালয় থেকে বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির ফিরছিলো ওই কিশোরী। পথিমধ্যে পানির তৃষ্ণা পেলে ওই কিশোরী গণকিয়া গ্রামের হারিছ আলীর বাড়িতে পানি পানের জন্য যায়। ঘরে থাকা হারিছ আলীর বড় ছেলের বউ ওই কিশোরীকে পানি দিয়ে গৃহস্থালীর বাসন ধোয়ার জন্য বাড়ির পাশে পুকুরে চলে যান। পানি পান শেষে ওই কিশোরী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ঘরে থাকা হারিছ আলীর ছোট ছেলে আহাদ মিয়া কিশোরীকে ঘরের ভিতরে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। আহাদ ওই কিশোরীকে ভয় দেখিয়ে বলে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য। বাড়ি ফিরে ওই কিশোরী তার মাকে বিষয়টি খুলে বলে। পরে কিশোরীর মা বাবা আহাদের বাবা হারিছ আলীকে জানান। হারীছ আলী বিষয়টি পারিবারিক সমাধানের চেষ্টা করেন এবং সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের একটি চা বাগান বস্তিতে স্বামী ও বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণিতে পড়–য়া শিশু কন্যা এবং ৩ বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে বসবাস করছেন এক চা শ্রমিক নারী। ঘটনার দিন শুক্রবার শিশু মেয়ে ও পুত্রকে ঘরে রেখে বাগানের কাজে চলে যান ওই চা শ্রমিক নারী এবং তাঁর স্বামী দুপুরে কাজে চলে যান পান পুঞ্জিতে। ওই সময় পাশ্ববর্তী প্রতিবেশী খোকনের স্ত্রীও বাগানের কাজে বাহিরে ছিলো। দুপুরে এ সুযোগে পার্শ্ববর্তী ঘরের শিশুকন্যাকে ঘরে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী এক সন্তানের জনক খোকন রাজভর। ঘরে নিয়ে ১০ টাকার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিশুর কন্যার কাপড় খোলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায় খোকন।
ওই শিশুর বাবা বলেন, আমি এবং আমার স্ত্রী কাজ থেকে সন্ধ্যায় এসে মেয়ের মুখ থেকে সব জানতে পারি। ঘটনাটি জানাজানি হলে রোববার স্থানীয় ইউপি মেম্বার রামবিলাস দুসাধ নানকার বাড়িতে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার ও স্থানীয় মহিলা ইউপি মেম্বার বৃন্দারাণীর উপস্থিতিতে সালিশে খোকনের মা চাঁনমনি আমাদের মেয়ের দায়িত্ব ও বয়স হলে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য বলেন, আমাকে রোববার দুপুরে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অশোক কুমার বাবলু ঘটনাটি জানান এবং ইউপি মেম্বার রামবিলাস দুসাধ নানকার বাড়িতে বৈঠকে যাওয়ার জন্য বলেন। আমি সেখানে গিয়ে দেখি দুসাধ নানকার ও অশোক কুমার বাবলু’র উপস্থিতিতে খোকনের মা চাঁনমনি ধর্ষণ চেষ্টার শিকার ওই শিশুর মা বাবার সাথে আপোষের চেষ্টা করছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায় এবং ভিকটিম শিশুকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রামবিলাস দুসাধ নানকার বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে রোববার খোকনের মা ও ওই শিশুর মা বাবাকে নিয়ে বৈঠকে বসি। বৈঠকে ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হতে নারী দিয়ে ওই শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করাই। ওই নারীরা ধর্ষণের কোন আলামত পাননি। এসময় খোকনের মা ও পরিবার শিশুটির দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি আপোষের কথা জানান। ভিকটিমের মা বাবাও আপোষের জন্য রাজি হোন। কিন্তু বিষয়টি ধর্ষণ সংক্রান্ত তাই বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত তাই আমি স্থানীয়ভাবে সমাধান হবেনা বলে জানাই তাদেরকে।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইয়ারদৌস হাসান মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চত করে সিলেটটুডেকে বলেন, পৃথক দুটি মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা করা হচ্ছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.