
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি॥ বড়লেখায় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের র্যালিতে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপির উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের অট্টহাসি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে। বাঙালি জাতির সবচেয়ে বিভীষিকাময় দিনে যারা হাসতে পারেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও কষ্ট বুকে লালন করেন কি-না এমন প্রশ্ন তুলে ফেসবুকে অনেকেই শেয়ার দিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
সাবেক প্রধান শিক্ষক শরফ উদ্দিন তার টাইম লাইনে লিখেছেন, ‘বড়লেখায় শোক দিবসের র্যালিতে অনেক নেতার হাসিমুখ দেখে মর্মাহত হলাম। এমন দিনে যারা হাসতে পারেন তাদের নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। বিলবোর্ড ব্যানার, ফেস্টুন ও বক্তৃতার আড়ালে কেন জানি লোক দেখানো ও মেকি বলে মনে হয়।’
মনিকা আক্তারের আইডিতে জাপা নেতা আহমেদ রিয়াজ লিখেছেন, ‘শোক দিবসের র্যালিতে হাসিমাখা মুখ দেখে আমি বিব্রত হলাম। আজকে কেন হাসবেন ? কান্ন্াকাটি করবেন, অশ্রুসিক্ত নয়নে শোক র্যালি করবেন।’ আগামীতে এ ধরণের ভুল না হওয়ার জন্য তিনি পোষ্টটি দিয়েছেন দাবী করেন।
প্রবাসী যুবলীগ নেতা ইমদাদুল ইসলাম সজলও তার ফেসবুক প্রোফাইলে শোক র্যালিতে আ’লীগ নেতাদের অট্টহাসির ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত বড়লেখা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, তাঁতীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বড়লেখা পৌর শহরে শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক নিয়াজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আহাদ, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ইয়াছিন আলীসহ একাধিক নেতাকে শোকর্যালিতে অট্টহাসিতে মত্ত থাকতে দেখা গেছে।
শোকর্যালিতে অট্টহাসির ব্যাপারে বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, এটা অনাকাঙ্খিত একটি ঘটনা। র্যালিটি বের করার পর পেছন থেকে ২-১ জন নেতাকর্মী সামনে আসতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান। আর এ ঘটনাটি দেখে র্যালিতে অংশ নেয়া কয়েকজন নেতা হেসে উঠেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.