
শংকর দুলাল দেব॥ স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও জাতীয় পরিবেশ পদকে ভূষিত হওয়ায় রাজনগরে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট সোমবার বিকাল ৩টায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে রাজনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানাযায়, দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদক সহ জাতীয় পরিবেশ পদকে ভূষিত হওয়ায় রাজনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সোমবার বিকাল ৩টায় জেলা পরিষদ অডিটরিয়াম, রাজনগরে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য নেছার আহমদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী আক্তারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে গেষ্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজী খলিকুজ্জান আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজী খলিকুজ্জমানের সহধর্মিনী অধ্যাপিকা ড. জায়েদা আহমদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন রাজনগর উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুক্তি চক্রবর্তী, রাজনগর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জিলাল উদ্দিন, মনসুরনগর ্ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মিলন বখত। উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোঃ ইকবাল, ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম, নকুল চন্দ্র দাশ, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ আক্তারুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়ছল আহমদ, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, সম্পাদক আকলু মিয়া চৌধূরী, যুগ্ম সম্পাদক আহমেদ ফয়ছলল আজাদ, মনসুরনগর ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি ফরজান আহমদ, রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ, সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ময়নুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ফৌজি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল আহমদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, ড. কাজী খলিকুজ্জমান ১৯৪৩ সালের ১২ মার্চ মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ভূমিউড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মরহুম কাজী মৌলানা মুফজ্জল হোসেন ছিলেন একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯৪৬ সালে আসাম প্রাদেশিক পরিষদের এমএলএ নির্বাচিত হন। ড. কাজী খলিকুজ্জমানের মাতা বেগম ছহিফা খাতুন ছিলেন একজন মহিয়সি নারী। তদানিন্তন সময়ে শিক্ষা বিস্তারে তিনি ব্যাপক ভূমিকা রেখে গেছেন। পিতা-মাতার মতো ড. কাজী খলিকুজ্জমানও শিক্ষা বিস্তার ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি উপজেলার পাঁচগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, মৌলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও রাজনগর বিএসকে বিদ্যানিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তিনি পরিবেশ ও বিশ^ জলবায়ু নিয়ন্ত্রনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জাতিসঙ্গের ইন্টারগভর্নমেন্ট প্যানেল অব ক্লাইমেট চ্যাঞ্জ এর সদস্য হিসেবে ২০০৭ সালে জাতিসঙ্গের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ে প্রসংসনীয় ভূমিকা পালন করে বিশ^ব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলাদেশ তথা বিশে^র অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ২০০৫ সালে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার, ২০০৯ সালে একুশে পদক, ২০১২ সালে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি কর্তৃক স্বর্ণপদক, ২০১৮ সালে জীবন ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন সম্মাননা পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক ও একই বছর জাতীয় পরিবেশ পদকে ভূষিত হন। পারিবারিক জীবনেও ড. কাজী খলিকুজ্জমান অত্যন্ত সুখী ও সফল। তার স্ত্রী অধ্যাপিকা ড. জায়েদা আহমদ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। ড. জায়েদা বর্তমানে বিভিন্ন গবেষনামূলক কার্যক্রমে জড়িত রছেছেন। কাজী রুশদী আহমদ ও কাজী উরফী আহমদ নামে তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.