
স্টাফ রিপোর্টার॥ কুলাউড়ার তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানির ঘটনাসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের বিরুদ্ধে পুলিশি,শিক্ষা অফিস,নির্বাহী কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর সরেজমিন তদন্ত শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে থানায় দায়েরকৃত মামলার চার্জশিটও আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সোমবার ২১ অক্টোবর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির প্রতিকারে করণীয় নির্ধারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,শিক্ষার্থী,জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর নেতৃত্বে এডহক কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে। জানা যায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি নিয়মে চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন একই উপজেলার এক অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের মেয়ে। শিক্ষিকা ১৪ ফেব্রুয়ারি তেলিবিল উচ্চবিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এপ্রিল মাসে তিনি এমপিওভুক্ত হন। যার ইনডেস্ক নম্বর ১১৪৯৬৬৫। গত ৬ জুলাই বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা করেন ওই শিক্ষিকা। একই সাথে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করেন। ফলে প্রধান শিক্ষকের অনুসারীদের হুমকিতে ভীত হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় এই শিক্ষিকা ৩ মাস ধরে তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। এই সুযোগে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ এডহক কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত না করে নিজ ক্ষমতাবলে এলাকার আতিক হাসান নামে একজনকে এই শিক্ষিকার স্থলে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেন। এমনকি এর আগে প্রধান শিক্ষক নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ে আরও ৭ জনকে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন । স্থানীয় লোকজন জানান, প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের কারণে গত ১২ বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের ভোটে নির্বাচিত কোন পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষক স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সহায়তা নিয়েও নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে একের পর এক অনিয়ম ,দূর্নীতি ও যৌন হয়রানী করে যাচ্ছেন। থানায় দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবার নিম্ন আদালত থেকে জামিন লাভ করে উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার প্রভাবে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ এমনসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন হরহামেশাই। ওই প্রধান শিক্ষকের যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন অনেক ছাত্রীও। সামাজিক নিরাপত্তার কারণে ভয়ে ও লজ্জায় কোন ছাত্রী অভিযোগও করেনি। ফলে গত কয়েক বছরে এ এলাকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয় ত্যাগ করে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ একাধারে তেলিবিল উচ্চবিদ্যালয়ের এমপিওভুক্তির সরকারি বেতন ভাতা গ্রহন করছেন আবার সরকারি ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার হিসেবেও সরকারি অর্থ গ্রহণ করছেন। তার বাড়িতেই রয়েছে সাব পোষ্ট অফিস। নির্যাতিতা ও অভিযোগকারী শিক্ষিকা জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি প্রধান শিক্ষক ও তার অনুসারীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। ফলে জুলাই মাস থেকে তার বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বেতন শিট থেকে তার নাম কেটে দিয়েছেনও। তিনি ছুটির নির্দেশনা চেয়ে ইতিমধ্যে ৩টি আবেদনও করেছেন। অভিযোগ সম্পর্কে প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ জানান, তার উপর আনীত অন্যান্য অভিযোগ সত্য নয়। তবে শিক্ষিকাসহ একাধীক শিক্ষিকা, ছাত্রী ও এলাকার মহিলাদের প্রমাণসহ অভিযোগ উল্লেখ করলে তিনি তার কোনসদোত্তর না দিয়ে ওই প্রশ্নের পাশ কেটে যান। তিনি বলেন দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে আসছেন না, বিদ্যালয় চালাতে গিয়ে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে তিনি খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন প্রধান শিক্ষকের উপর নানা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, প্রধান শিক্ষক নোমান আহমদ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত। নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে রেখে কোন অবস্থাতেই তাঁর স্থলে নতুন একজন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেন না। যেটা করেছেন তা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। বিদ্যালয়ের নিয়মিত কমিটির করার জন্য একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে মতবিনিময় সভায়। বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, নিয়োগ প্রাপ্ত স্থায়ী শিক্ষিকার স্থলে নতুন করে একজন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ তিনি শুনেছেন। এই খন্ডকালীন নিয়োগ সম্পূর্ণরুপে অবৈধ হয়েছে। তদন্ত প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ২১ অক্টোবর সোমবার সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের সকল সমস্যা ও মান উন্নয়নে একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশাবাদি এ সভায় বিদ্যালয়ের সকল সমস্যার সমাধান হবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.