আব্দুর রব॥ বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলীর সাথে উত্তরা ব্যাংক বড়লেখা শাখার সেকেন্ড অফিসার জালাল উদ্দিন ও ক্যাশিয়ার খন্দকার মনিরুজ্জামানের অসদাচারণের নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির ডিসেম্বর মাসের মাসিক সভায়।
এ দুই ব্যাংক কর্মকর্তার অসদাচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশি¬ষ্ট ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা বরাবরে ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ডাকযোগে লিখিত চিঠি প্রেরণ করেছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি। এ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রেমিটেন্স উত্তোলনকারী সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার সুজানগর ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলী গত ১৪ নভেম্বর উত্তরা ব্যাংক বড়লেখা শাখার গ্রাহক দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন স্বাক্ষরিত ১ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি বেয়ারার চেক নিয়ে ব্যাংকে যান। টাকা উত্তোলনের জন্য চেকের পিছনে বেয়ারার ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলীর দুইটি স্বাক্ষর সনাক্ত করেন ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার জালাল উদ্দিন। চেক নিয়ে ক্যাশ কাউন্টারে গেলে ক্যাশিয়ার খন্দকার মনিরুজ্জামান টাকা না দিয়ে অহেতুক হয়রানী করেন, এক পর্যায়ে ধমকও দেন। বিষয়টি তিনি সেকেন্ড অফিসার জালাল উদ্দিনকে অবহিত করলে সুষ্ঠু সমাধান না দিয়ে তিনিও ক্যাশিয়ারের সুরে ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে অসদাচরণ করেন। পরে তিনি টাকা উত্তোলন না করেই ফিরে যান।
ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলী অসদাচরণ ও হয়রানীর দুঃখজনক ঘটনাটি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির নভেম্বর মাসের মাসিক সভায় উত্থাপন করেন। সভায় সর্বস্মতিতে এ ঘটনার নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং সমাধানের জন্য স্থানীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্ত এক মাসেও ঘটনার সোরাহা না করায় ডিসেম্বরের উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় অসদাচরণকারী এ দুই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উত্তরা ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তা বরাবরে চিঠি প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বড়লেখার সমাজসেবক মনিরুজ্জামান জানান, তার শ্যালকের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকা তুলতে তার স্ত্রীকে নিয়ে ব্যাংকে যান। এসময় উত্তরা ব্যাংক কর্মকর্তারা সহযোগিতার পরিবর্তে অহেতুক হয়রানী ও অসদাচরণ করেন। শুধু তাদের সাথে নয়, গ্রাহকদের সাথে গণহারে তারা খারাপ ব্যবহার করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মো. শামীম আল ইমরান জানান, একজন জনপ্রতিনিধির সাথে এমন আচরণ থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় তারা সাধারণ গ্রাহকদের সাথে কি ধরণের আচরণ করছে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অসদাচরণকারী দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত মঙ্গলবার উত্তরা ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ও ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে সভার সিদ্ধান্তের রেজ্যুলেশনসহ চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
উত্তরা ব্যাংক বড়লেখা শাখার ম্যানেজার কাজল চন্দ্র দাস জানান, ব্যাংক কর্মকর্তারা ইউপি চেয়ারম্যানকে চিনতে পারেননি। তিনি পরিচয় দেননি। একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিল, সমাধানের আগেই তিনি চলে যান। তবে এখন তিনি (ম্যানেজার) সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.