কুলাউড়া প্রতিনিধি॥ কুলাউড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা টিলাগাঁও রেলস্টেশন চালুর দাবিতে ফের মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন ২০ মিনিট আটকে রাখা হয়। ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ টিলাগাঁও- এর ব্যানারে ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচীতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে রেলস্টেশনটি চালু করার দাবি জানান। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচী পালনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা। তাদের দাবির মধ্যে হলো- স্টেশনটি পুনরায় চালুকরণ, স্টেশনে নিয়মিত মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ, ঢাকা-চট্টগ্রামগামী যে কোন ২টি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ ও স্টেশন প¬াটফর্ম ও অন্যান্য অবকাঠামো সংস্কারের দাবী জানান।
এদিকে পুনরায় রেলস্টেশন চালুর দাবিতে রেল মন্ত্রণালয়ের মহাব্যবস্থাপক, উপ-মহাব্যবস্থাপক (পূর্বাঞ্চল), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন), স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের সভাপতি আব্দুস সালাম চৌধুরী সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদের পরিচালনায় মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচীতে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন টিলাগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, টিলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মালিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অকিল চন্দ্র ধর, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের সম্পাদক শামীম আহমদ, নয়াবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সম্পাদক মোজাম্মেল আলী, সৌদিপ্রবাসী কামাল হোসেন, সমাজসেবক গোলাম রহমান আজমল, আওয়ামীলীগ নেতা গোলাইছ খাঁন, বন্ধন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সম্পাদক শেখ মাহমুদুর রহমান, মাও. হারুনুর রশীদ, ইমাম মো. আল- আমিন, রবিরবাজার শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক আব্দুল জব্বার প্রমুখ।
মানবন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে টিলাগাঁও বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, টিলাগাঁও চৌমুহনী সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন, তালামীযে ইসলামিয়া টিলাগাঁও ইউপি শাখা, আশার আলো যুবসংঘ, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ লালপুর ও বাংলাবাজার, একুশে ব¬াড ডোনার্স ক্লাব, আইডিয়াল ব¬াড ফাউন্ডেশন, টিলাগাঁও ইমাম সমিতি, রবিরবাজার সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন, বন্ধন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা।
জানা যায়, প্রাচীন এই রেলস্টেশনটি ১৪৪ একর জায়গা নিয়ে পরিবেষ্টিত। ২০০৯ সাল থেকে স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কর্মধা, টিলাগাঁও, পৃথিমপাশা ও হাজিপুর ইউনিয়নের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ এ স্টেশন দিয়ে লোকাল ট্রেনে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় যাতায়াত করতেন। স্টেশন বন্ধ থাকায় তারা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া লংলা, তারাপাশা, পাল¬াকান্দি ও হিঙ্গাজিয়া চা-বাগানের চা- পাতা লোকাল ট্রেনে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হতো।
এ স্টেশনের নামে কর্তব্যরত মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন চাকুরী করছেন মাইজগাঁও স্টেশনে। আর পয়েন্টসম্যান ইয়াছিন আলী আছেন বরমচাল রেলস্টেশনে। কিন্তুু তাঁরা বেতন বিল উত্তোলন করছেন টিলাগাঁও রেলস্টেশনের নামে। যার বিল নাম্বার- ৩৩৭। এদিকে স্টেশন চালুর জন্য ২০১৭ সালে তৎকালীন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী রেলমন্ত্রী মুজিবুল ইসলাম বরাবরে একটি ডিও লেটার দেন ।
এ ব্যাপারে রেল মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত মহা পরিচালক (অপারেশন) মো. মিয়া জাহান এর সাথে একাধিকবার ফোনে (০১৭১১-৫০৫৩১০) যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি।
রেলমন্ত্রনালয়ের মহাব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে বলেন, স্টেশন মাস্টারের অভাবে স্টেশনটি বন্ধ আছে। নতুন স্টেশন মাস্টারদের ট্রেনিং চলতেছে। ট্রেনিং শেষ হলে স্টেশন মাস্টার নিয়োগ হলে পুনরায় স্টেশনটি চালু করা হবে। আশা করছি, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে স্টেশন মাস্টার নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
উলে¬খ্য,২১ ডিসেম্বর স্টেশন চালুর দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। এরপর থেকে টানা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচী চলছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.