আব্দুর রব॥ বড়লেখায় বেসরকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া নির্দেশনা না মেনে শাখা বন্ধ রাখায় গ্রাহকরা পড়েছেন মহা-দুর্ভোগে। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না। ব্যাংকগুলোতে সেবা নিতে আশা গ্রাহকরা ঠাসাঠাসি করে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ঝুঁকিতে পড়ছেন গ্রাহকরা ও ব্যাংক কর্মকর্তারা-কর্মচারীরাও।
বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল উপজেলা সদরের ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বড়লেখা শাখায় গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন থাকতে দেখা গেছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরে নিরাপদ দূরত্বে একজন করে সেবা দিলেও বাইরে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে। ঠেলাঠেলিতে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের ছিল না কোন ব্যবস্থা। কার আগে কে সেবা নেবেন এমন প্রতিযোগিতা চললেও জনসচেতনতায় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইনে সামাজিক দুরত্বতো দুরের কথা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নুন্যতম নজরদারীও লক্ষ্য করা যায়নি।
জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত বড়লেখার উপজেলা সদরেই সরকারি-বেসরকারি ১২টি ব্যাংক রয়েছে। করোনার প্রভাবে শুরুতে ব্যাংক লেনদেনের সময় বেঁধে দেয়া হয় ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত। ইতিপুর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) থেকে সরকারি ব্যাংক ব্যতীত সব ব্যাংক বন্ধ রাখার নির্দেশনা আসলে বড়লেখায় প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর কয়েকটি শাখা গ্রাহক সেবা বন্ধ করে দেয়। গত ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আমিনুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত নির্দেশায় ১২ এপ্রিল থেকে সকাল ১০টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন করার কথা বলা হয়। কিন্তু ইসলামী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক বড়লেখা শাখা ১২ এপ্রিল সকালে ব্যাংক শাখার প্রধান ফটকে ১২ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয়ায় দুরদুরান্তের রেমিটেন্স উত্তোলনকারী গ্রাহকরা ব্যাংক শাখায় গিয়ে দুর্ভোগ পোহান। বর্নি, উত্তর শাহবাজপুর, তালিমপুর, চান্দগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানান, বিদেশ থেকে তাদের স্বজনদের পাঠানো টাকা উত্তোলন করতে ১২ এপ্রিল সকালে গিয়ে ইসলামী ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকের গেটে বন্ধের নোটিশ দেখে তাদেরকে ফিরে যেতে হয়েছে। অথচ টাকা প্রেরণকারী বিদেশের মানি অফিস বলেছে পিন নম্বর নিয়ে ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক কিংবা প্রাইম ব্যাংকে গেলেই টাকা উত্তোলন করা যাবে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.