
সাইফুল ইসলাম॥ চলমান করোনাভাইরাস প্রাদুভাবে শ্রমিক সংকটের মধ্যে দিয়ে আগাম বন্যার আশঙ্কায় এলাকায় ৯৫% ধান কাটা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী ল্ৎুফুল বারী।
২৭ হাজার ১৩৫জন শ্রমিক ধান কেটেছেন মৌলভীবাজার জেলার হাওর এলাকায়। সেই সাথে ৩৯টি হারভেস্টার ও ১২১ রিপার মেশিন ধান কাটা কাজে লাগানো হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৫৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর। আবহাওয়া ভাল থাকায় ৩০ হেক্টর বেশী ফলন হয়েছে। বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না আসায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ধান তোলা সম্ভব হয়েছে।
মোট বোরো ধান ২৬ হাজার ৭৫৪ হেক্টর ধান রয়েছে হাওর অঞ্চলে। তারমধ্যে হাকালুকি হাওরের ৯৯% এবং কাউয়া দিঘী হাওর ৯২% ও হাইল হাওর এলাকায় ৮৭% ধান কাটা শেষ হয়েছে। এর বাইরে উঁচু জমিতে বোরো ধান আস্তে আস্তে কাটলে সমস্যা নাই।
তবে কৃষকরা বলছেন করোনার কারণে শ্রমিক সংকট। তাই মজুরি বেশী। রাজনগর উপজেলার মেদিনী মহল এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম ও শেখ আহমদ বলেন, আমাদের প্রায় ১৩ বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। তাই সবার আগে কাটতে পারছি। কিন্তু মজুরি ৫০০ টাকা । অন্য বছর উত্তরবঙ্গ থেকে কৃষক আসতে পারলেও এই বছর পারছেন না ।
মৌলভীবাজারের হাওরের ধান নিয়ে প্রতিবছর চিন্তিত থাকেন কৃষকরা। কারণ উজানে ভারতের বৃষ্টি হলে তা দেশের বৃহৎ হাওর হাকালুকিতে প্লাবিত হয়।
এবিষয়ে হাকালুকি হাওরের কৃষক মো. কামাল মিয়া,শফিক মিয়া, এলাইছ মিয়া বলেন, আগাম বন্যা হতে পারে এমন চিন্তা মাথায় ছিল। রাত হইলে ঘুম হইতো না। তবে এখনো আর সমস্যা নাই।’
আগাম বন্যার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, বোরো ধান ঘরে উঠে গেছে। কৃষকদের আর সমস্যা নাই। আগামীতে আউশ ও আমন চাষবাদ করে ধান ঘরে তুলতে সেদিকে আমাদের নজর রয়েছে। যেমনটা ২০১৭ সালে অন্য এলাকায় বন্য হলেও মৌলভীবাজারের কৃষকরা তুলতে পেরেছিলেন। মৌলভীবাজার জেলায় মনু ও ধলাই নদীর কোন ঝুঁিকপূর্ণ বাঁধ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,ঝুঁকিপূর্ণ সব বাঁধ মেরামত হয়ে গেছে। তবে আমাদের সবধরণে প্রস্তুতি আছে। সমস্যা হলে দ্রুত মেরামত করা হবে।’
মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী ল্ৎুফুল বারী বলেন,জেলায় সর্বমোট ৯৫% ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। তারমধ্যে হাকালুকি হাওরের ৯৯% ধান কাটা শেষ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসটা ঝুঁকি ছিল। এখন সেই ঝুঁকি আর নাই। ইতোমধ্যে মধ্যে হাওর এলাকার কৃষকরা ঘরে ধান তুলেছে। তিনি জানান,এপ্রিল মাসটা নিয়ে চিন্তা ছিল যে কখন শিলাবৃষ্টি হয় আবার বন্যা হয়, সংশয় কেটে গেছে। এখন উঁচু জমিতে আস্তে আস্তে ধান কাটলে সমস্যা নাই।’
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.