
সাইফুল্লাহ হাসান॥ মৌলভীবাজার জেলা লিচুর জন্য বিখ্যাত না হলেও এখানকার মাটি এ রসালো ফল চাষে খুবই উপযোগী। প্রতিবছরই কমবেশি লিচু চাষ হয়ে থাকে এ জেলায়। তবে বাণিজ্যিকভাবে ততোটা চাষ হয় না। কিন্তু লিচু পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাদুড়ের আক্রমণে পুরো গাছ সাবাড় হয়ে যাচ্ছে।
জেলার জুড়ী উপজেলার বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, প্রত্যেক বাড়িতেই দুই-একটি লিচু গাছ রয়েছে। গাছে প্রচুর লিচুও এসেছে। লিচুর ওজনে কোনো কোনো গাছ নুয়ে পড়েছে। দেখা গেছে, বাদুড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে পুরো গাছে নেটে মুড়িয়ে দিয়েছেন অনেকে। কেউ আবার গাছে বৈদ্যুতিক বাল্ব ঝুলিয়েছেন। যাতে রাতে বাদুড় আলোয় কিছুটা ভয় পায়। আবার কাঁঠবিড়ালি থেকে রক্ষা পেতে গাছে ঝোলানো হয়েছে টিনের বিশেষ পাত্র, সঙ্গে রয়েছে লোহার দণ্ড। এটি একটি ঘণ্টার মতো কাজ করে। সঙ্গে দড়ি বেঁধে বাড়ির বারান্দায় লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পর পর এ দড়িতে টান দিলে জোরে জোরে ঘণ্টার মতো শব্দ করে। ফলে বাদুড়, কাঁঠবিড়ালি ভয়ে গাছে থাকে না।
কথা হয় পাতিলাসাঙ্গন এলাকার আব্দুল হাফিজের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার লিচু গাছে এবার ভালোই লিচু এসেছিল। কিন্তু বাদুড় আর কাঁঠবিড়ালির কারণে লিচু রাখা যায়নি।
স্থানীয় খোরশের আলম জানান, লিচু পাকার পরে দেখতে পরিপূর্ণ ভালো লাগে। কিন্তু ভেতরে জীবিত পোকা পাওয়া যায়, ফলে লিচু খাওয়া যায় না। পুরো লিচু বিনষ্ট হয়ে যায়। আর বাদুড়ের জন্য সুস্থভাবে পাকে না। তার আগে খেয়ে শেষ করে ফেলে, এটা প্রতিনিয়তই ঘটছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মৌলভীবাজার জেলায় ৩২১ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষাবাদ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি হেক্টর জমিতে সাড়ে ৮ টন করে মোট ২৫৬৮ টন লিচু উৎপাদন হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রীমঙ্গলে ১০৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।এছাড়া কুলাউড়া- ৪৫, রাজনগরে- ৪১, বড়লেখায়- ৩৫, কমলগঞ্জে- ৩৫, জুড়ীতে- ৩২, সদরে- ২৪ হেক্টর জমিতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার উপ- পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, এ বছর লিচুর ফলন ভালো হবে। এখন যে লিচুগুলো বাজারে পাওয়া যাবে সবগুলোই স্থানীয়। মৌলভীবাজারে বেশি চাষ হচ্ছে বারি-২ ও চায়না -৩ লিচু। জেলার বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাদুড়ের কারণে নেটিং করতে হয়। পুরো লিচু গাছ নেট দিয়ে মুড়িয়ে দিতে হয়। পোকামাকড়ের জন্য আমাদের কীটনাশক থাকলেও বন্যপ্রাণী বাদুড়, কাঁঠবিড়ালি, বানরের জন্য কোনো ধরনের কীটনাশক নাই।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.