
আব্দুর রব॥ বড়লেখায় ইউপি মেম্বার বিজয় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে হতদরিদ্রের জন্য সরকারের চলমান খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির তালিকা থেকে নাম কাটার ভয় দেখিয়ে উপকারভোগীদের নিকট থেকে অর্থ আদায়, ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতিসহ নানা অভিযোগ ইউএনও মো. শামীম আল ইমরানের দৃষ্ঠিগোচর হয়েছে। সোমবার ‘সাপ্তাহিক পাতাকুঁড়ির দেশ’সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলে অভিযোগ তদন্তের জন্য ইউএনও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাওলাদার আজিজুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
জানা গেছে, ইউপি মেম্বার বিজয় কৃষ্ণ দাস খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির অতিদরিদ্রদের কয়েকজনের নিকট থেকে উৎকোচ না পাওয়ায় তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দেন। দিনমজুর মাখল লাল দাস অভিযোগ করেন ইউপি মেম্বার বিজয় কৃষ্ণ দাস তার কাছে ১ হাজার টাকা দাবী করেন। না দেয়ায় গত বছর খাদ্যবান্ধবের তালিকা থেকে তার নাম কেটে দিয়েছেন। আবার অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদেরকে তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করেছেন। এছাড়া ইউপি মেম্বার গত ২ বছর আগের বন্যায় বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় সরকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের প্রতিমাসে নগদ টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দিয়েছিল। মাস্টার রোলে স্বাক্ষর নেয়ার পর অনেক কৃষককে চাল দিয়ে অনুদানের টাকা নিয়ে যেতেন ইউপি মেম্বার বিজয় দাস।
এদিকে খাদ্যবান্ধব কর্মসুচির উপকারভোগীদের তালিকা হালনাগাদে সম্প্রতি প্রত্যেকটি ইউনিয়নে চলমান তালিকা যাচাই বাচাইয়ে ট্যাগ অফিসার নিযুক্ত করা হয়। এ সুযোগে ইউপি মেম্বার বিজয় দাস তালিকা থেকে নাম কাটার ভয় দেখিয়ে হতদরিদ্রের কাছ থেকে ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা আদায় করেন। দরিদ্র বিধবা সুমতি রানী বিশ্বাস জানান, মেম্বার বলছেন উপজেলা থেকে আসা অফিসারদেরকে টাকা না দিলে তারা নাম কেটে ফেলবে। ১ হাজার টাকা দাবী করলে তিনি মেম্বারকে ৫শ’ টাকা দিয়েছেন। চানপুর গ্রামের দরিদ্র লোকজন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার ইতিমধ্যে ১৩ দফায় বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেছে। ইউপি মেম্বার বিজয় দাস কর্মহীন অতিদরিদ্র লোকজনকে খাদ্য সহায়তা না দিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন ও অবস্থাশালীদের দিচ্ছেন।
ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর অভিযোগ তদন্তের জন্য তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এব্যাপারে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.