স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে চুরির অপরাধে দুই কিশোকে পেঠানোর দৃশ্য সামাজিক ভাইরাল। পরে কিশোকে পেঠানোর দৃশ্য কয়েকটি গনমাধ্যমে প্রচার হলে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত বাগান পাঞ্চায়েতের সহ সভপতি শাহাদতকে গ্রেপ্তার করে।
এলাকাবাসি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ১০ জুলাই সকালে মোবাইল চুরির ঘটনায় মুন্না পাশি ও জগৎ নুনিয়াকে গাছের সাথে ও একটি ঘরের খুঁটির সাথে বেঁধে ইউপি সদস্য দীপেন সাহার নির্দ্দেশে বেধড়ক পিঠিয়েছে এলাকার চিহিৃত কয়েকজন লোক। নির্যাতিত কিশোরদের বয়স অনুমান বারো ও তের বছর হবে।
মামুন নামের চা বাগানের এক কর্মচারী ছেলে ও বাগান পঞ্চায়েত সদস্য নারদ পাশীসহ আরো কয়েকজন তাদের ধরে নিয়ে ধরে নিয়ে আসে। পরে তাদের দুইজনকে ফ্যাক্টরির কাছে গাছের সাথে পিছনে হাত নিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। মুন্নার মা জানান ইউপি সদস্য দীপেন সাহা সামনে থেকে তাদেরকে বেধড়ক পেঠানো হয়।
রাতে নির্যাতিত মুন্নার বড় ভাই রাজেশ পাশি কমলগঞ্জ থানায় চুরির অভিযোগে প্রকাশ্যে পিঠানোর অভিযোগ এনে বাগান পাঞ্চায়েতের সহ সভপতি শাহাদতকে প্রধান আসামী করে মামলা করলে পুলিশ তাকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে।
এবিষয়ে নির্যাতিত মুন্না ও জগতের মা লছমিয়া পাশি ও সাবিত্রী নুনিয়া বলেন, তাদের ছেলেদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বাজার ঘরে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়েছে, পরে ফ্যাক্টরীর পাশে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। এসময় ইউপি সদস্য সামনে থাকলেও তিনি দাঁড়িয়ে থেকে ছেলেদের পিটিয়েছেন। সাথে ছিল পঞ্চায়েতের নারদ পাশি, সাদেকসহ অনেকে। ছেলেদের সকাল থেকে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে জানান তারা।
মুন্নার মা জানান ইউপি সদস্য দীপেন সাহা সামনে থেকে তাদের পিটিয়েছেন। এ অভিযোগটি মিথ্যা উল্লেখ করে ইউপি সদস্য দীপেন সাহা বলেন, ছেলেদের বেঁধে রাখা হয়েছিল, তবে নির্যাতন করার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ম্যানেজারের কথায় তিনি ছাড়তে পারেননি। কিছুক্ষণ পরে এ প্রতিনিধিকে ফোন করে জানান, তিনি ছেলেদের ছেড়ে দিয়েছেন।
এব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মোবাইল চুরির জন্য তাদের আটকানো হয়েছিল, তবে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরে থানায় অভিযোগ করলে পেঠানোর দৃশ্য দেখে শাহাদত নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.