
বিশেষ প্রতিনিধি॥ মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের সিঙ্গুর পুঞ্জিতে আদিবাসীদের তিনটি পানের জুমে প্রায় ১২ শতাধিক পান গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা কর্তন করেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুলাউড়া থানা পুলিশকে অবগত করেছেন পুঞ্জির বাসিন্দারা। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, ৪ আগস্ট মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরমচাল ইউনিয়নের পশ্চিম সিঙ্গুর গ্রিজিং এলাকার বাসিন্দা ছমির আলীর ছেলে ফখরুল ইসলাম সিঙ্গুর পুঞ্জির বাসিন্দা জেসপার পটামের পান জুম থেকে সুপারি গাছের চারা চুরি করে। এসময় তাকে হাতেনাতে ধরে পুঞ্জিতে নিয়ে আসেন কয়েকজন খাসিয়া। তখন সিঙ্গুর পুঞ্জি ও ফখরুল ইসলামের এলাকার লোকজনদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি সালিশি বৈঠক হয়। বৈঠকে ভবিষ্যতে এ ধরণের কাজ করবে না বলে মুচলেকা দেন ফখরুল ইসলাম। স্থানীয় বাসিন্দা রুহেল মিয়া, জাহেদ আলী, নানু মিয়া, ইসলাম উদ্দিন ও ফজল মিয়ার জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ফখরুল ইসলাম ক্ষোভে পুঞ্জির বাসিন্দাদের হুমকি প্রদান করে বলে মুচলেকা একবার কেন শতবার দিলেও তোমরা আমার কিছু করতে পারবে না বলে অভিযোগ করেন সিঙ্গুর পুঞ্জির খাসিয়ারা। ওইদিন পুঞ্জির লোকজন ফখরুলের ভয়ে পানের জুম রক্ষায় রাত ২টা পর্যন্ত পাহাড়া দেন। একপর্যায়ে তারা পুঞ্জিতে ফিরে গেলে রাতের আধারে ফখরুল ইসলাম তার লোকজনদের নিয়ে পুঞ্জির বাসিন্দা ডালিম খংস্ট্রিয়ার পানের জুম থেকে প্রায় ৫০০-৬০০, লিপটন মারাকের পানের জুম থেকে ২০০-৩০০ পান, আগর, সুপারি গাছ, স্থানীয় বাঙ্গালী তৈয়ব মিয়ার পানের জুম থেকে প্রায় ২০০ পান গাছ কর্তন করে পানের জুমে ক্ষতিসাধন করে বলে জানান আদিবাসীরা। 
বুধবার বিকেলে সিঙ্গুর পুঞ্জিতে গেলে দুর্বত্তদের নৃশংসতার চিত্র দেখা যায়। এসময় সিঙ্গুর পুঞ্জির মন্ত্রী (হেডম্যান) বিনেত মানার বলেন, আমাদের পুঞ্জিতে ৫০-৬০টি খাসিয়া পরিবারের বসবাস রয়েছে। সবাই পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। মঙ্গলবার রাতের আধারে স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুলসহ তার সহযোগিরা মিলে আমাদের পুঞ্জিতে পান গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তনের তান্ডব চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়। প্রায় সময় আমাদের পানের জুমে পান গাছ বিনষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠে স্থানীয় একটি বিশেষ মহল। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ চাই, ন্যায় বিচার চাই। এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পুঞ্জির প্রধান বিনেত মানার।
আন্তঃপুঞ্জি উন্নয়ন সংগঠন (কুবরাজ) সাধারণ সম্পাদক আদিবাসী নেত্রী ফ্লোরা বাবলী তালাং বলেন, শুধু সিঙ্গুর পুঞ্জি নয় কুলাউড়ার বিভিন্ন পুঞ্জিতে আদিবাসীদের পানের জুম থেকে পান গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ কর্তৃন করে দুর্বত্তরা। যার কারণে খাসি পান চাষিরা বেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। পান চাষ করেই খাসিরা তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.