
স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার শহরে প্রকাশ্যে আসর বসিয়ে মাদক সেবন, নারী ধর্ষন ও ঘটনাকারীরা নিজ উদ্যেগে ফেসবুকে প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১ ঘটিকায় শহরের চৌমুহনা চত্বরে ঘন্টাব্যাপী মানব বন্ধন শেষে এক প্রতিবাদ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ্ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ সাহাব উদ্দিন আহমদ, সচেতন নাগরিক সমাজের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, জেলা যৌন হয়রানী নির্মূল কমিটির সভাপতি রাশেদা বেগম, সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি খালেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আলীম উদ্দিন আলীম, শেখ বুরহান উদ্দিন (রহ:) ইসলামী সোসাইটির চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব, বাধন থিয়েটারের সভাপতি রুহেল আহমদ, সমাজসেবক কে,এম,আকলু, তরুনসমাজকর্মী মিজানুর রহমান রাসেল, আদর মাদকাসক্তি পূনর্বাসন কেন্দ্রের পরিচালক নিখিল তালুকদার, মেধা সংস্কৃতি বিকাশ পরিষদ রাজনগরের সাংগঠনিক সম্পাদক খছরুমিয়া চৌধূরী, দৈনিক কালেরকন্ঠ শুভ সংঘের সাধারই সম্পাদক তাকবীর হোসেন,
তাকরীম ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম জুনেদ, স্বপ্নের ঢেউ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ শাহেদ আলী, মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটির মডারেটর ইমন আহমদ,স্পন্দন মৌলভীবাজারের সভাপতি ইহাম মুজাহিদ, সংগঠক আব্দুল মুত্তাকীন শিপলু, উই ফর বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী সদস্য ইমরান আহমদ, কামরুল ইসলাম, সমাজকর্মী এস এস রুহিন মারুফ খান, তারেক আহমদ, মিনহাজ মুক্তি,তানভীর আহমদ, মোঃ মোস্তাকিম, রহমান মামুন, এস,এম,বশির আহমদ, সুহিন উদ্দিন, নাইম আহমদ তালুকদার, সোহান আহমদ,অন্তর দেবনাথ, তোফায়েল আহমদ, মোহন দেব, সোহেল আহমদ, মাহবুবুর রহমান অপু, আদনান ইমন, শাহ ওমর আলী, বন্দুনীড় সামাজিক সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান,ছাত্র কমিউনিটির সহসভাপতি মুনাইদ আহমদ মুন্না,সাধারণ সম্পাদক আহমদ রনি প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজার শহর শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। এখানে মাদকের আসর বসিয়ে মদ্যপ অবস্থায় ধর্ষনের মত ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে তা নিজেদের ফেহবুকে প্রচার করার যে দূঃসাহস তারা দেখিয়েছে তাদেরকে অভিলম্বে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টাান্তমুলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় জেলার সর্বস্থরের মানুষকে নিয়ে দূর্বার কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
তারা যে দূঃসাহস দেখিয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় এ ধরনের কর্মকান্ড চলে আসছে সেখানে প্রশাসন নিরব ভুমিকায়। মাদক ও ধষর্নের ব্যাপারে সরকার যেখানে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করেছেন সেখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় এরকম একটি ঘটনায় বিস্মিত জেলার সকল স্তরের মানুষ। হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহঃ)পূন্যভূমিতে এই বেহায়াপনা, অশ্লিল,অনৈতিক কার্যক্রম কোনভাবেই সহ্য করা যায়না। যেটা ভাবতেও ঘৃনা লাগে। এই ঘটনায় প্রতিবাদী কণ্ঠ সমাজকর্মী কেবি, বিজয়ের উপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান বক্তারা। পরে একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট শহরের সুনাপুর এলাকায় মাহমুদ এইচ খানের বাসায় মদ ও গাঁজা পার্টির আসর বসে। ওই সময়ে বন্ধুদের নিয়ে মাদক পার্টি ও ধর্ষনের আড্ডা ও রাতভর নানা আমুদ ফুর্তি হয়। মাহমুদ এইচ খান, সজিব, রায়হান, মার্জিয়া প্রভা ও মারিয়া রাত্রী যাপন করেন। গত ২৫ আগস্ট সজিব তার বান্ধবীর সাথে জোর করে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ফইসবুকে স্ট্যাটাস দেয় মাহমুদ এইচ খান। পর দিন ২৬ আগস্ট সজিব ধর্ষণের কথা অস্বীকার করে মেয়েটির ইচ্ছাতেই সব হয়েছে বলে পাল্টা পোস্ট দেয়।
ওই রাতের ঘটে যাওয়া ঘটনার সকলকিছু নিজেরাই নিজেদের ফেসবুকে তোলে ধরে। প্রতিনিয়তই হত এমন পার্টি। কিন্তু তা নিজেরা নিজেদের মধ্যেই তা চেপে রাখত। ওই দিন আমুদ ফূর্তির ভাগবাটোরায় দ্বন্ধ নিয়ে বেসামাল হয়ে নিজেরাই বলে দেয় অভ্যন্তরীণ বেহুঁশ বেফাস কথা।
গত কয়েকদিন থেকে এমন মাদক সেবন ও নারীকে ধর্ষণের স্বীকারোক্তি নিয়ে পাল্টাপাল্টি কিছু ছবিসহ স্টেটাস দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ব্যাপক তোলপাড় চলছে মৌলভীবাজারে।
জানা গেছে, সাবেক ছাত্র মৈত্রী নেতা ও বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফর ডটকম এর সাবেক প্রতিনিধি মাহমুদ এইচ খান ২৫ আগষ্ট একটি ধর্ষণের ঘটনার বিবরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় (তার ফেসবুক পেইজে) তুলে ধরে, অভিযোগ করেন সামাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সজিব নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে, অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন গত ৩ আগষ্ট তার নিজ বাসায় একটি পার্টির আয়োজন করা হয়, সেখানে একজন নারীবাদী ও এক্টিভিস্ট মার্জিয়া প্রভা, বাম নেতা রায়হান আনছারী, ছাত্রফ্রন্টের সজিবুল ইসলাম তুষার ও তার এক নারী বন্ধু যোগ দেন,খাওয়া-দাওয়া শেষে সেখানে সবাই গাঁজা সেবন করেন, এক পর্যায়ে নেশাগ্রস্থ হয়ে তুষার তার ঐ নারী বন্ধুকে জোরপূর্বক ভাবে ধর্ষণ করে। এই কাজে বাঁধা দিলেও মার্জিয়া প্রভা ও রায়হান আনছারী সজিবকে এ কাজে সহযোগীতা করেছেন বলে তিনি তাঁর স্টেটাসে উল্লেখ করেন।
একদিন পর ২৬ আগষ্ট অভিযুক্ত সজিব সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক আইডিতে) স্টেটাস দেন ঐদিন মাহমুদের বাসয় গাঁজা পার্টি বসেছিল, এবং নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ঐ মেয়েটির সাতে তাঁর অন্তরঙ্গতা হয়, তবে ধর্ষণের বিষয়টি অস্বিকার করে তিনি ঐ মেযেটির আগ্রহে এ কাজ করেছেন তা অকপটে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বীকার করেন। এ ঘটনার পড় মাহমুদ, সজিব, মার্জিয়া প্রভা ও রায়হান ও সজিবের সেই নারী বন্ধু মারিয়ার প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও নারী-পুরুষের সাথে অন্তরঙ্গতার বেশ কিছু ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে ফুঁসে উঠে জেলার সচেতনমহল, তরুণ ও যুবসমাজ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা এমন নিন্দনীয় অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোচ্চার হন। তাদের সাথে একাত্রতা পোষন করে জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ গঠনার সত্যতা অকপটে স্বীকার করার পড় মৌলভীবাজার সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহর শাখার সভাপতি সজিবকে সংগঠনের সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির বর্ধিত ফোরামের সদস্য রায়হানকেও সংগঠনের সকল প্রকার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
অপরদিকে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব রোববার ৩০ আগষ্ট সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরী সভায় প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের কারণে মাহমুদ এইচ খানের সহযোগী সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে সদস্যপদ বাতিল করা হয়।
মাহমুদ এইচ খান সুনাপুর এলাকায় (সুনাপুর প্লেইস-২২৩) নাম্বার বাসার ২য় তলায় ভাড়া থাকতেন, এই বাসায় মালিক সিরাজ মিয়া লন্ডন প্রবাসী। গণী মিয়া নামের একজন কেয়ার-টেকার এই বাসাটি দেখাশুনা করেন। কেয়ার টেকার জানান মাহমুদ এই বাসাটি তার স্ত্রী, মা ও বোন কে নিয়ে থাকবেন বলে ভাড়া নিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুদিন পড় তার মা-বোন এখান থেকে অনত্র চলে যান, আর তাঁর স্ত্রী ঢাকায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন তাই তিনিও ঢাকায় চলে যান। মাঝে মধ্যে এ বাসায় আসা যাওয়া করতেন তা তারা বুঝে উঠতে পারেননি।
কেযার টেকার আরও জানান প্রায়ই পার্টি হত তার ফ্লাটে, উচ্চ স্বরে গান-বাজনা হত, সেখানে মেয়েরাও আসত মাহমুদ তাদেরকে তার বন্ধু বলে পরিচয় দিতেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক মাহমুদের এক প্রতিবেশী বলেন, মাহমুদের বাসায় মেয়েদের আসাযাওয়া ছিল নিয়মিত। তাঁর এসব পার্টিতে যোগ দিতেন বেশ কিছু পরিচিতজন।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক জানান, এই ঘটনায় ৩১ আগস্ট পৃথক অপর একটি মামলা হয়েছে। ধর্ষিতার পরিচয় প্রকাশ করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন ভূগতোভোগী ওই তরুণী। নাম ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মোস্তফা কামাল বিজয় (কেবি খান বিজয়) নামে এক সমাজকর্মী ও ইউটিউবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অপর মামলায় সজিবকে প্রধান আসামি ও রায়হান এবং নারী সুরক্ষা আন্দোলনের নেত্রী মার্জিয়া প্রভাকে ধর্ষণের সহযোগী উল্লখে করে ধর্ষণের শিকার তরুণী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.