
স্টাফ রিপোর্টার॥ হাওর অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে দেশীয় প্রজাতির ছোট ছোট গরুর খামার গড়ে ওঠছে। স্থানীয় জাতের ছোট ও মাঝারি আকারের এই গরুর চাহিদাও বেশি রয়েছে বাজারে। এই খামারগুলো হাওরের প্রাকৃৃতিক ঘাস নির্ভর হওয়ায় গরু লালন-পালনে তুলনামূলক খরচ কম তাকায় ওই এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক সহ অনেকেই ছোট ছোট খামর তৈরীতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এক্ষেত্রে সরকার বা ব্যাংক থেকে আর্থিক সুবিধা পেলে এই ব্যবসাটি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠতো। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পূঁজি সংকটে অনেকের পক্ষেই গরু কেনা সম্ভব হচ্ছে না।এদিকে চলতি বছরে করোনার প্রভাবের কারণে গত কোরবানির ঈদে বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা না তাকায় অন্যান্য বছরের চেয়ে কম মূল্যে গরু বিক্রয় করতে হয়েছিল ক্ষুদ্র খামারিদের। এর ফলে খামারীরা আর্থক ভাবে ক্ষতিগস্ত হন।
সম্প্রতি করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে ৪ শতাংশ সুদ হারে কৃষকদের চলতি মূলধন মৌসুম ভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মাছ চাষ, পোলট্রি ও ডেইরি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ উপেক্ষা করে চলছে যার ফলে নায্য অধিকার থেকে বঞিত হচ্ছেন প্রান্ততি কামারীরা। এত করে ব্যহত হচ্ছে সরকারের কৃষি খাতের এই মহতি উদ্যোগ।
খুঁজনিয়ে জানাযায়, চলতি মূলধন মৌসুম ভিত্তিক ফুল ও ফল চাষ, মাছ চাষ, পোলট্রি ও ডেইরি এবং প্রাণিসম্পদ খাতে উদ্যোক্তা তথা খামারিদের ঋণ বিতরণের জন্য মৌলভীবাজার সোনালী ব্যাংকের আওতায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও ১৭ সেপ্টেম্ব পর্যন্ত বিতরণ করেন মাত্র ১৬ লক্ষ টাকা। জনতা ব্যাংক এক টাকাও বিতরণ করেনি, অগ্রণী ব্যাংকের আওতায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ আসলে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করেছেন, কৃষি ব্যাংক মৌলভীবাজার সদর শাখায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ আসলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০ লক্ষ, রাজনগর শাখায় ৭০ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা বিতরণ করেছেন। রুপালী ব্যাংকের আওতায় ৪৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসলে বিতরণ করেন প্রায় ২৫ লক্ষ। উক্ত ঋণ বিতরণের মেয়াদ শেষ হবে চলতি মাসের ৩০ সেপ্টেম্বর।
সরজমিনে জানাযায়, হাওরপাড়ের মানুষের জীবন জীবিকার এক ফসলি বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। প্রায় প্রতি বছরই অতি বৃষ্টি ও খড়া এবং বন্যার কারনেও কৃষকদের বোরো ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতিগস্ত হন কৃষকরা। এ সমস্ত ক্ষতি পুষিয়ে ওঠতে হাওরপাড়ের প্রান্তিক ও ছোট কৃষকদের এবং বর্গা চাষীরা অনেকেই গড়ে তুলেন ছোট ছোট গরুর খামার। যাদের সামর্থ নেই যেমন বর্গা চাষীরা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার করে ৩ থেকে ৫ টি গরু ক্রয় করেন। খামারিদের অনেকেই জানান, পুঁজি সংকটের কারণে অনেকেই গরুর সংখ্যা বাড়াতে পারেননি। ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে তারা আরও বেশি গরু লালন-পালন করতে পারতেন।
ঋণের জন্য কোন ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েক জন উত্তর দেন,রাজনগর সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক এর লোন আফিসারদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা আমাদের পাত্তা দেননি বরং আমরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাই অবহেলা করে বিভিন্ন কৌশলে বিদায় করে দেন। কিন্তু কৃষি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক আমাদের ক্ষুদ্র উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও আমাদেরকে ব্যাংকিং সহযোগীতার আশ^াস দেন।
রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের পশ্চিমভাগ গ্রামের খায়রুল আলী বলেন,আমাদের দেশীয় প্রজাতির গরুদিয়ে একটি ছোট খামার রয়েছে। আমাদের খামারের এখন ছোট বড় ১৬টি গরু রয়েছে। গত কোরবানির ঈদে আমরা ১২টি ষাঁড় বিক্রয় করেছি। বাজারে গ্রাহক কম তাকায় প্রতিটি ষাঁড় বিক্রয় করতে হচ্ছিল সাত থেকে দশ হাজার টাকা কম মূল্যে। প্রণোদনা ঋণের জন্য আমার ভাই একাধিক ব্যাংকে গিয়েছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
বর্গাচাষী সামচুল মিয়া সহ আনেকেই বলেন, আমাদের দেশীয় গরু দিয়ে ছোট ছোট খামার রয়েছে। শোনেছি সরকার আমাদের জন্য কম সুদে সহজ সর্তে ঋণ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কিন্তু ব্যাংকে গেলে আমাদেরকে জামানতে অজুহাত দেখিয়ে বিদায় করে দেন। আমরা গরিব মানুষ আমরা জামানত দিতে পারিনা তাই আমরা এই সুবিদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
মৌলভীবাজার সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম দুলন কান্তি চক্রবর্তী বলেন, জামানত ছাড়া আমাদের ব্যাংকে ঋণের কোন সুবিধা নেই। সোনালী ব্যাংকে সহজ শর্ত বলে কোন শব্দ নেই।
মৌলভীবাজার জনতা ব্যাংকের ডিজিএম দেবাশীষ দেব বলেন, ওই ধরণের কোন বরাদ্দ এখনও আসেনি।
রাজনগর কৃষি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক গোলাম তৌহিদ বলেন, সরকারের এ মহতি উদ্যোগকে সফল করার জন্য আমরা খুঁজে খুঁজে উদ্যোক্তা, প্রান্তকি খামারীদের ঋণ পৌঁছে দিচ্ছি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.