
এম মছব্বির আলী॥ আতিক মিয়ার বড়ভাই এলাই মিয়া ও প্রতিবেশীরা জানান, আতিক মিয়া খুবই দরিদ্র ও সহজ সরল ছিলেন। দিনমজুর হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনমতে সংসার চালাতেন। কিন্তুু মহামারি করোনার থাবায় কোন কাজ না থাকায় বেকার হয়ে যান তিনি। এসব দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। গত একমাস ধরে হৃদরোগে (হার্টের ছিদ্র) আক্রান্ত হন তিনি। টাকার অভাবে সুচিকিৎসাও করাতে পারেন নি। অবশেষে মঙ্গলবার শিশির স্নিগ্ধ ভোরবেলায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তিন অবুঝ সন্তানকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটছে আতিক মিয়ার স্ত্রী রফনা বেগমের। আতিক মিয়ার রেখে যাওয়া স্ত্রী ও এতিম সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মানবিক কারণে সরকার কিংবা সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন আতিক মিয়ার বড় ভাই এলাই মিয়া ও প্রতিবেশীরা।
সদ্যপ্রয়াত আতিক মিয়ার স্ত্রী রফনা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। টাকার অভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারিনি। তাঁর কষ্টার্জিত উপার্জন দিয়ে আমাদের পরিবার দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে কোনমতে চলছিলো। কিন্তুু এখন আমার স্বামীর অবর্তমানে তিন বাচ্চাদের নিয়ে ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় আছি। কিভাবে এই সংসার চালাবো আর বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ গড়বো। এখন যদি সরকার ও সমাজের বিত্তশালী হৃদয়বান ব্যক্তিরা আমাদের সাহায্য এগিয়ে আসেন তাহলে খুবই উপকৃত হবো এবং আমার বাচ্চাদের জন্য একটা কিছু করতে পারবো।
বিষয়টি কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম ফরহাদ চোধুরীর নজরে আনলে তিনি বলেন, ‘আপনার মাধ্যমে ওই পরিবারের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি জেনেছি। সরেজমিন ওই পরিবারের খোঁজ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রফনা বেগমকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা হবে। এছাড়া তার জরাজীর্ণ ঘরের বিষয়ে আমাদের গৃহনির্মাণ প্রকল্প চলমান আছে জমি আছে ভুমি নেই এই প্রকল্পের আওতায় গৃহনির্মানের ব্যবস্থা করা হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া এই পরিবারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসারও আহবান জানান তিনি।’
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.