
স্টাফ রিপোর্টার॥ বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর,মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,প্রবীণ রাজনীতিবিদ,বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের (সিলেট-১৪ মৌলভীবাজার-রাজনগর-কমলগঞ্জ একাংশ) সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব তোয়াবুর রহিম লন্ডনের চেরিংক্রস হাসপাতালে ১ জানয়ারী শুক্রবার দূপুরের দিকে ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহির রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত নানা জঠিল রোগে ভোগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর। তিনি স্ত্রী, ৬ ছেলে, ১ মেয়ে নাতি নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নতুন বছরের হলিডে থাকায় জানাজার নামাজ দু’তিন দিন পর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁকে যুক্তরাজ্যেই দাফন করা হবে পারিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। এই তথ্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেন যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট বাঙলী কমিউনিটি লিডার ও গণমাধ্যমকর্মী মকিস মনসুর। দীর্ঘদেহী বর্ণাঢ্য এই রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবকের মৃত্যুতে মৌলভীবাজার ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমেছে।
জানা যায় আলহাজ্ব তোয়াবুর রহিম তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে রাজনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মনসুরনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি পূর্ব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও তৎকালীন গণ পরিষদের সদস্য। এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ব্রিটেনের পশ্চিম লন্ডনের ইলিং শহরের বাসিন্দা ছিলেন মরহুম তোয়াবুর রহিমের পিতা হাজী সালামত মিয়া। যার হাত ধরেই বিলেতে বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ব্যবসার প্রসার ঘটে। সে সময়ে তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ক্যাটারিং এসোসিয়েশন বিসিএ’র নেতৃত্ব দেন।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালিসহস্র গ্রামে তোয়াবুর রহিমের জন্ম। বিশিষ্ট এই রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্টজন ছিলেন। পূর্বপাকিস্তান আমলে তিনি কাউন্সিল মুসলিম লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময় প্রবাস থেকে দেশে ফিরে কাউন্সিল মুসলিমলীগ পরিত্যাগ করে পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। অবসর জীবনে তিনি নিজ এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি নিজ এলাকার রাস্তা ঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অনবদ্ধ অবদান রেখেছেন। তাঁর মরহুম পিতার নামে হাজী সালামত স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ স্থানীয় সালামতগঞ্জ বাজার যা পুরো জেলায় (এমপির বাজার) নামে সুপরিচিত। সেই বাজারের তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর থেকে তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় হননি। এরপর তিনি লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন ও নিভৃতচারী জীবন বেঁচে নেন। ১৯৯৫ সালে আবার দেশে পাড়ি জমান।
১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামীলীগের পক্ষে তিনি আবারও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তাঁর জেলা আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক,পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ ও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিবারে প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.