
মিজানুর রহমান॥ ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির টাকা আদায় করতে গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ, অসদাচরণসহ নানাবিধ হয়রানির অভিয়োগ উঠছে এনজিও সংস্থা বড়লেখা দাসের বাজার ব্রাঞ্চের পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের স্থানীয় কর্মকর্তাসহ মাঠ কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ জন্য সংস্থার স্থানীয় কর্মকর্তা বিশেষ করে নারী মাঠকর্মীদের ব্যবহার করে থাকেন।
এনজিও সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্ন্য়ন কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরদের কিস্তির টাকা আদায়ে গ্রাহকদের ক্ষমতা প্রদর্শণ, পুলিশের ভয়-ভীতি দেখানো, বাড়ির মালামাল ক্রোক করে নিয়ে যাওয়া এমন কি মারধর করতে উদ্যত হওয়াসহ নানাবিধ অমানবিক অসদারচরণের তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিন এমন এক জন ভূক্ত ভোগীর অভিযোগ সূত্র ধরে ও নাম পরিচয় দানে অনিচ্ছুক কয়েজন ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতার সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। অপর দিকে সংস্থাটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার উল্টো অভিযোগকারী গ্রাহকের বিরুদ্ধে অসদাচরণ-অসহযোগিতাসহ নানা অভিযোগ করে নোটিশ প্রদাণ করেছেন।
বড়লেখায় গ্রামীণ অস্বচ্ছল মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে ক্ষুদ্র্ঋণ প্রদাণ কারী বেসরকারী সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। করোনা পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারী গ্রামের গরীব শ্রমজীবি গোষ্টির মানুষ চরম আর্থিক ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। কাজকর্ম না থাকায় অনেকের নূন আনতে পান্থা ফুরায় অবস্থা। এমন মানবেতর ভাবে জীবন যাপনকারীদেরও ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোন ব্যত্যয় মানতে নারাজ পদক্ষেপ। যদিও কোন গ্রাহককে কিস্তি পরিশোধে চাপ প্রয়োগ না করতে নির্দেশ রয়েছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি’র।
উপজেলার বর্নি ই্উনিয়নের গনেশার চক গ্রামের জুবেরা আক্তার প্রশাসন বরাবরে ইজ্জত-সম্মান নিয়ে জীবন রক্ষার অবেদন এ পদক্ষেপের কর্মকর্তাসহ মাঠকর্মীদের সামাজিক, মানসিক ও অমানবিক অত্যাচার থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করে তাদের সামাজিক মর্যাদার সাথে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে সহায়তা চেয়েছেন। গত ২৩ মার্চের এ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মার্চ শনিবার কিস্তি আনতে তাদের য়ায় বাড়িতে পদক্ষেপ অফিসের কর্মকর্তা আর মাঠকর্মীরা। এ সময় তার স্বামী গ্রামের এক বাড়িতে কাজে ছিলেন। তাকে আনতে তিনি রওয়ানা দিলে তারা আমার পথ রোধ করে কোথাও যেতে দেবে না বলে তার ওড়না টেনে ধরে ঘরে ঢুকায়। পুলিশ এনে বাড়ির সবাইকে এরেস্ট করাবে,সারা বাড়ির মালামাল নিয়ে যাবে বলে ভীতি দেখাতে থাকে। এরপরে সংস্থার ম্যানেজার আলতাফ হোসেন আরো কয়েকজনকে নিয়ে ঐ বাড়িতে আসেন। এসেই হুমকি ধমকি দিতে শুরু করেন। ঐ নারীর শ্বশুড় ষাটোর্ধ আলকাছ আলী জানান, তাদের সাথে কথা বলতে গেলে নারীকর্মী শারমিন জুতা নিয়ে তাকে মারতে তেড়ে আসেন। তা দেখে তার ছোট ছেলের বউ কথা বললে তারা সবাই তার পাক ঘরে ঢুকে যায় তাকে টেনে বের করে সিলেট নিয়ে যেতে চায়।
বিকেলে ঐ নারীর স্বামী কাজ থেকে ফিরেন। কিস্তি দিতে অপারগতা জানিয়ে আগামী মাসের ১ (এপ্রিল মাসের) তারিখ পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু কোন অবস্থায় তারা কিস্তি না নিয়ে যেতে নারাজি প্রকাশ করেন। সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মীরা চরম অবজ্ঞা জনক ভাষায় ঐ নারীকে মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাজ করে,রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষা করে তাদের কিস্তি শোধ করার পরামর্শ দেয়। এমনকি স্বামী-স্ত্রী দুজন মরে গেলে তাদের কিস্তি মাফ হয়ে যাবে। তবে সংস্থা কর্মীরা ভীতি দেখেয়ে বলে,তারা,এমন কাজ করবে স্বামী-স্ত্রী দু‘জনকে হার্ট এ্যটাক করে মরতে হবে।
গত বছরের ১লা জুলাই থেকে পদক্ষেপ কিস্তি আদায়ে তাদের চাপ প্রয়োগ, অপমান জনক গালি গালাজ,শারিরীক লাঞ্চনাসহ নানা রকম অসদাচরণ করে আসছে। সিলেট অফিসের থেকে লোক পরিচয়ে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে সাদা কাগজে তাদের সইও নিয়েছে বলে তারা জানায়।
ঋণ গ্রহীতার সাথে বলে জানা যায়,কম বেশী অনেকেই তাদের চাপ,হুমকি-ধমকি,হয়রানিসহ নানা আসদাচরণের শিকার। তা ছাড়া, সংস্থার ম্যানেজার কিছু গ্রাম্য সন্ত্রাসী প্রকৃতির অসাধু ব্যক্তিদেও ম্যানেজ করে একটি বলয় সৃস্টি করেছেন। তাদের ভয়েও কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
অভিযোগ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শামীম আর ইমরানের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।
ঋণগ্রহীতার অভিযোগগুলো সম্পর্কে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বড়লেখা দাসের বাজার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আলতাফ হোসেন সেল ফোনে জানতে চাইলে বলেন,তিনি অভিযোগ স্বীকার বা অস্বীকার না করে তার অফিসে যেতে বলেন ।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.