
বিশেষ প্রতিনিধি॥ করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতি রোধে সোমবার ২৮ জুন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনদিনের জন্য সারা দেশে ‘সীমিত আকারে লকডাউন’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ‘সীমিত লকডাউন’ শেষে সারা দেশে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ জারি করার কথা রয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৭ জুন রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান। উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ,সিভিল সার্জন ডাক্তার চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন।
সভায় মৌলভীবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এছাড়া সরকার কর্তৃক আরোপিতব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কর্মপন্থা নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন জেলার করোনা সংক্রমণ জনিত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্ব আরোপ করেন। সভায় সরকারের জারি প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
প্রজ্ঞাপন বলা হয় ‘সীমিত লকডাউন’-এর সময় পণ্যবাহী যানবাহনের বাইরে কেবল রিকশা চলতে পারবে। আর সরকারি-বেসরকারি অফিস চালাতে হবে সীমিত সংখ্যক লোক দিয়ে। তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিজ নিজ অফিসকেই করতে হবে।
রোববার ২৭ জুন বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এসব উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
আগের দেওয়া ‘বিধিনিষেধ ও কার্যক্রমের’ ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে এবারের প্রজ্ঞাপনে সংযুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, ‘সারা দেশে পণ্যবাহী যানবাহন ও রিকশা ব্যতীত সব গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত টহলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করবে।’
এ ছাড়া এই সময়ে শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট, পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার এবং সব ধরনের বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
এই সময়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা যাবে বলে জানিয়েছে সরকার। তবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া-দাওয়া করা যাবে না। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘খাবারের দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এসব হোটেল-রেস্তোরাঁ শুধুমাত্র খাবার বিক্রয় করতে পারবে। হোটেল রেস্তোরাঁয় বসে কেউ খেতে পারবেন না।’
এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস ও প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লোকজন আনা-নেওয়া করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে ‘সীমিত আকারের লকডাউন’ ও ‘সর্বাত্মক লকডাউনের’ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘২৮ জুন (সোমবার) থেকে সীমিত লকডাউন থাকবে। অনেক আর্থিকপ্রতিষ্ঠানের জুন ক্লোজিং আছে। এ জন্য ১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) থেকে সারা দেশে টোটাল (সর্বাত্মক) লকডাউন শুরু হবে।’
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক অনুষ্ঠানে বলেন, এবারের লকডাউনে পুলিশ, বিজিবি বাইরে সেনাবাহিনী থাকবে। যদিও প্রজ্ঞাপনে লকডাউনে মাঠে সেনাবাহিনীর থাকার ব্যাপারে কোনোকিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.