বিকুল চক্রবর্তী॥ রাজনগর উপজেলার জলের গ্রাম অন্তেহরি ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কাদিপুর গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি গত ৮ বছর ধরে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে।
পুরো রাস্তাটিই এখন চলাচলের অযোগ্য। এ বস্থায় মানুষকে পোহাতে হয় চরম দূর্ভোগ। সংশ্লিষ্টদের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও কোন ফলাফল হয়নি। চলমান বর্ষায় রাস্তার জন্য এ দুই গ্রামের মানুষ বন্দিবস্থায় রয়েছেন। এ বস্থায় বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ৪দিন দিনব্যাপী রাজনগর ফতেপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে দুই গ্রামের শতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে পলিমাটি ও আধলা ইট দিয়ে দেড় কিলোমিটার রাস্তা মেরামতের কাজ করছেন।
রাজনগর, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নকুল চন্দ্র দাশ বলেন, এটি জলের গ্রাম হিসেবে খ্যাত। রয়েছে প্রাচীন জমিদারবারী ফলে এখানে প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘটতো কিন্তু রাস্তার জন্য পর্যটকরা এ গ্রামে আসতে পারেছেন না। এ দুই গ্রামের মানুষ কাউয়াদিঘি হাওর থেকে শত শত টন বুরো ধান তুলেন, কোটি কেটি টাকার মাছ মারেন। যে কারনে গ্রামে প্রচুর যানবাহন আসা যাওয়া করতে হয়। কিন্তু এ গ্রামে ভারি যানবাহন চলাচলের কোন রাস্তা নেই। পরিবহনের কারনে তারা মাছ ও ধানের নায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্বেচ্ছাশ্রমে অংশনেয়া গ্রামের বাসিন্দা দিজেন্দ্র দাশ বলেন, দুই গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। এই মানুষদের জেলা ও উপজেলা শহরের সাথে যোগযোগের একমাত্র রাস্তা এটি। এটি ভাঙ্গাচুরা থাকায় পায়ে হাঁটাই একমাত্র অবলম্বন। আর বৃষ্টি হলে পায়ে হাটাঁও দুরহ।
গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক পুলক দাশ জানান, এই গ্রামে ৩টি প্রাইমারী স্কুল ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। রাস্তার জন্য শিক্ষার্থীদেরও দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
গ্রামের অপর বাসিন্দা মঞ্জ চক্রবর্তী ও সাবেক মেম্বার গণপতি দাশ তরুণ জানান, রাস্তাই তাদের দু:খ। প্রধানমন্ত্রীর যে ঘোষনা গ্রাম হবে শহর এই রাস্তা না হলে তা হবে না।
এ সময় কাজে যোগ দেয়া আখালউড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য গোপেশ সরকার-জানান, এতো এতো ফসল এই কাউয়াদিঘি হাওর থেকে উঠে। বিল থেকে মাছ উঠে। জেলার চাউল ও মাছের বড় একটি চাহিদা পুরণ করে এই হাওর। এখান থেকে প্রচুর রাজস্ব আদায় হয়। অতচ এই হাওরে ও হাওর পাড়ের দুটি গ্রামে আসার রাস্তানেই কেন?
অন্তেহরি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও বর্তমান ইউপি সদস্য অমর দাশ বলেন, এই সময়ে অসুস্থ রোগী নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় থাকেন। পলোতে করে, ভারে করে তাদের নিয়ে যেতে হয় শহরে। তারা বলেন রাজনগর উপজেলা সদরে ও মৌলভীবাজার জেলা সদরে যেতে হলে এই কাঁচা ও ভাঙ্গা রাস্তায়ই তাদের যেতে হয়। অমর দাশ বলেন, রাস্তার কারনে এই সময়ে ডেলিভারীর জন্য অনেকে সদরের হাসপাতালে যান না। গ্রামের দাই-ই একমাত্র ভরসা। গ্রামবাসী স্থায়ী একটি পাকা রাস্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কশন করেন।
সৈয়দা রাবেয়া ম্যানশন, সিলেট সড়ক, মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত। ইমেইল : umedntv@gmail.com
Copyright © 2026 পাতাকুঁডির দেশ. All rights reserved.