আন্দোলকারীদের ছাড়াই আগামী ৬ মাসের জন্য শ্রীমঙ্গল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার ভাগারে ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত ॥ আন্দোলকারীরা ক্ষোদ্ধ এবং সিদ্ধান্তে  অটল

October 4, 2018, এই সংবাদটি ৪৫৯ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা আন্দোলন, সেই আন্দোলকারীদের সাথে কথা না বলে, তাদের ছাড়াই সিদ্ধান্ত নিলেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের কলেজ রোডস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার ভাগারে আগামী ৬ মাসের জন্য ময়লা ফেলার। এসময়ের মধ্যে পৌর সভার নতুন নির্ধারিত স্থান জেটি ময়লার ভাগারটি মামলার সমস্যা সমাধানসহ  ময়লা ফেলার জন্য তৈরী করা হবে।

এদিকে ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা এ ধরনের সিদ্ধান্তে কথা শুনে  ক্ষোদ্ধ হয়ে উঠে। এসময় তারা বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে  ঘটনাস্থলে। তাদের বক্তব্য, আমাদের  আন্দোলণ, আর সিদ্ধান্ত নেবে অন্যজন। তা কি করে হয়। আমাদের সাথে কথা না বলে এই ধরণের সিদ্ধান্ত তারা  কোন অবস্থায় মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তারা উপজেলার অন্য সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আরো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দেন।

শিক্ষার্থীদের বন্ধ করে দেওয়া ময়লার ভাগার বুধবার বিকেলে হঠাৎ সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ শাহজালাল। এসময় স্থানীয় লোকজন, বিভিন্ন নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে পরিদর্শন শেষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা অডিটোরিয়ামে ময়লার ভাগার অপসারন নিয়ে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ শাহজালাল, শ্রীমঙ্গলের নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র মোঃ মহসীন মিয়া মধু, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক, শ্রীমঙ্গল উপজেলা আওয়ামীলীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আছকির মিয়া, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অর্ধেন্দু কুমার দেব বেভুল, ৩ নং শ্রীমঙ্গল ইউপি চেয়ারম্যান ভানু লাল রায়, শ্রীমঙ্গল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে.এম নজরুল, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক  এম ইদ্রিস আলী, ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক হাজী মোঃ কামাল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, ময়লার ভাগার অপসারন কমিটির আহ্বায়ক মো: নুরুল ইসলাম চৌধুরী, আলহাজ্জ সিরাজুল ইসলাম হারুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উক্ত ময়লার ভাগারটি অপসারনে উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ৬ মাসের মধ্যে অন্যত্র ময়লা ফেলার সিদ্ধান্ত হয় এবং বর্তমানে ময়লার ভাগারের স্থানটিকে টিন দিয়ে বেষ্টনী দিয়ে ময়লা ফেলতে বলা হয়। পৌরসভার ক্রয়কৃত জমির (জেটি রোড এর) ভুমি উন্নয়ন করার সিদ্ধান্ত হয় এবং হাইকোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন যাবত আন্দোলন করলেও কলেজ সড়কের ময়লার ভাগাড় স্থানান্তরের দাবীতে রবিবার সন্ধ্যা থেকে টানা চারদিন সেখানে ময়লা ফেলতে দেয়নি আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ফলে পৌর এলাকার বাসা বাড়ী ও দোকান পাটের জমা হওয়া ময়লা আবর্জনায় গোটা শহর সয়লাব হয়ে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আর এসব ময়লার পুঁতিময় উৎকট দুর্গন্ধে শহরে বসবাসকারী মানুষজন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।  এমন অবস্থারপ্রেক্ষিতে  শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ভাগাড়ে ময়লার ফেলা নিয়ে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনে জেলা প্রাশসনের উদ্যোগে এই বৈঠক হয়।

বুধবারের এ সিদ্ধান্তে ব্যাপারে পৌর সভার মেয়র মো: মহসিন মিয়া মুধ সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে পাওয়া য়ায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •