একজন সৈয়দ কেফায়েতুল্লাহ

April 21, 2022,

আব্দুল মতিন॥ আজ লিখতে বসে হ্রদয়টা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে। সেই ছোট্ট বেলার সাথী ডাঃ সৈয়দ কেফায়েতুল্লাহ যার ডাক নাম ছিল মিলাল,যার সাথে অসংখ্য স্মৃতি মানসপটে ভেসে উঠছে।আমার পরম সৌভাগ্য ছিল কেফায়েতের সাথে বন্ধুত্ব। মৌলভীবাজার তথা দেশবাসীরও সৌভাগ্য ছিল একজন ডাঃ কেফায়েত উল্লাহকে পাওয়া।রুগীর প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক, তার প্রান খোলা হাসি ও কথাবার্তায় রুগি মানসিক ভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠত।
প্রচন্ড মেধাবী, সদা হাস্য তার চেহারাটা চোখ থেকে সরাতে পারছি না।কোন দিন তার মুখ কালো দেখি নাই।কোন দিন কারো সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলতে দেখি নাই, রাগ করাতো অনেক দূরের ব্যাপার।ছোট বেলায় আমাদের বাসায় যেমন তাদের ও তাদের বাসায় আমাদের ছিল অবাধ যাতায়াত। শুধু আমরা ছোটরাই নয়,আমার মা বাবা ও তাদের মা বাবার আসা যাওয়া ছিল। তার বাবা ছিলেন শ্রীনাথ মডেল স্কুলের শিক্ষক। অত্যন্ত সজ্জন, ধার্মিক,পরহেজগার ব্যাক্তি ছিলেন। ১৯৭২ সালে আমরা কাশীনাথ আলাউদ্দিন হাই স্কুলে পড়তাম। সে ছিল আমার এক ক্লাস জুনিয়র কিন্তু আমাদের চলাফেরা ছিল একত্রে। এক সাথে আসা যাওয়া,দুপুরে নূর জাহান ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রে জোহরের নামাজ পড়া,রমজানে কোর্ট মসজিদে (বর্তমান জেলা জামে মসজিদ) তারাবির নামাজ পড়তে যাওয়া,ফজরের নামাজ পড়ে গল্প করতে করতে প্রচুর হাটতাম। তার চেম্বারে ছিল আমার অবাধ যাতায়াত। আমি, আমার পরিবার কারো নিকট থেকে ভিজিট নেয়া দূরে থাক জোর করে দিতে চাইলে আদর মিশ্রিত ধমক দিয়ে বিদায় দিত।এবার আমেরিকা যাবার ১৫/২০ দিন আগে আমার আপাকে নিয়ে গিয়েছিলাম চোখ দেখাতে।ভিজিটি দিতে গেলে ধমকের সুরে বলেছিল “উনি কি শুধু তোমার আপা? উনি কি আমার আপা নন? কে জানতো এটাই হবে আমাদের শেষ দেখা।
সদা হাস্যজ্জল ,অমায়িক ,পরোপকারী,আন্তরিক, গোপনে ব্যাপক ভাবে মানুষকে সাহায্যকারী এমন মানুষ সমাজে বিরল।আফসোস তার মরা মুখটা দেখতে পারলাম না, জানাজা দাফনে শরিক হতে পারলাম না, সবই হয়ে গেল সুদূর আমেরিকায়।
মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিনের দরবারে কায় মনো বাক্যে প্রার্থনা করি, তাকে যেন জান্নাতে উচ্চ মাকামে স্হান দেন।
কখনোই তোমায় ভুলবো না বন্ধু কেফায়েত। তুমি ছিলে আমার আত্নার আত্নীয়।আমার মাঝে তুমি বেঁচে থাকবে আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •