কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকের বসতঘর ভেঙ্গে ফেলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

September 26, 2021, এই সংবাদটি ৯০ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের চা-শ্রমিক শ্রীজনম ভর (৫৫) এর নির্মিত পাকা বসতঘর বাগানের ব্যবস্থাপক ভেঙ্গে দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার ২৬ সেপ্টেম্বর সকল ১১ টায় উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বেসরকারি শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে, চা শ্রমিক শ্রীজনম ভর এর নির্মিত পাকা ঘর ভেঙ্গে দেয়ার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের শত-শত নারী,পুরুষ চা-শ্রমিক অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় দুঃখ জানিয়েছেন বক্তব্য দেন শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিলন নায়েক, সাধারণ সম্পাদক বিমল দাশ পাইনকা, জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি- মোহন রবিদাস প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন চা-শ্রমিক শ্রীজনম ভর নির্মিত পাকা ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
জানা যায়, শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানে চা-শ্রমিক শ্রীজনম ভর পঞ্চায়েত কমিটির মাধ্যমে বাগানের ব্যবস্থাপকের অনুমতি নিয়ে নিজস্ব অর্থে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন।
গেল শনিবার সকাল ১০টায় চা-শ্রমিকরা সবাই কাজে যোগ দিলে চা-বাগান মালিকের নির্দেশে বাগান ব্যবস্থাপক শ্রীপুর এলাকার ভাড়াটে লোকজন নিয়ে শ্রমিকের নিজস্ব অর্থে নির্মিত পাকা ঘরটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন।
এ বিষয়ে নির্যাতিত চা-শ্রমিক শ্রীজরম ভর বলেন, চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সহযোগিতায় বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সরকারের কাছে মৌখিকভাবে আবেদন করে তার মৌখিক অনুমতি নিয়ে ধার দেনা করে প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় করে ছোট এই পাকা ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। শনিবার সকালে সকল শ্রমিক কাজে যোগ দিলে সকাল ১০টায় অতর্কিতে শ্রীপুর গ্রামের ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সরকার উপস্থিত থেকে ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলেন।
শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মিলন নায়েক বলেন, ব্যবস্থাপকের মৌখিক অনুমতি নিয়ে চা-শ্রমিক শ্রীজনম ভর প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ছোট পাকা বসত ঘর নির্মাণ করেছিলেন। চা-বাগানের মালিক মহসীন মিয়ার নির্দেশে ব্যবস্থাপক বাহিরের লোকজন এনে এ ঘরটি ভেঙ্গে দিলেন। তিনি আরও বলেন, ব্যবস্থাপক মৌখিক নির্দেশ না দিলেতো ধার দেনা করে এ ঘরটি নির্মাণ করতেন না এ দরিদ্র চা-শ্রমিক।
শ্রীগোবিন্দপুর চা-বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত সরকার বলেন, শ্রীজনম ভরকে ঘর নির্মাণের কোন মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ঘরে গিয়ে আগাম বলা হয়েছে ঘর ভাঙ্গার বিষয়টি। তাছাড়া সেতো একানে একটি দোকান ঘর নির্মাণ করেছিল। বসতঘর হলেতো কিছু মানবিক বিষয় থাকে। চা বাগানে দোকান ঘর নির্মাণের কোন সুযোগ নেই।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •