কুলাউড়ায় ইউপি চেয়ারম্যান সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে টিলা কাটার অভিযোগ

April 6, 2021, এই সংবাদটি ১২২ বার পঠিত

মাহফুজ শাকিল॥ কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে মালিকানাধীন টিলা কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া ওই টিলার মাটি কেটে একটি প্রাথমিক স্কুল ও রাস্তা নির্মাণ করারও অভিযোগ রয়েছে। ওই এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি টিলা কাটার সাথে আরো কয়েকজন জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। দিনে-রাতে মাটি কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ ও পরিবহনের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এদিকে ইসলামনগর এলাকায় এ ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ এলাকার ৭ জনের বিরুদ্ধে নোটিশ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে জানা যায়, ইসলামনগর মৌজার অধিকাংশ ভূমি টিলা শ্রেণীর। এ অঞ্চলে পাহাড়ি টিলার মধ্যে টিলা বাড়ি রকম জনবসতি রয়েছে। ভাটেরা ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় আর এস ২৮৬ নং দাগে টিলা বাড়ী ১.৭২ একর ভূমির মধ্যে ০.৯৯ একর ভূমি ৩৫৭ নং খতিয়ানে টিলাটি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম গং এর মালিকানাধীন। সেখানে টিলা কেটে চেয়ারম্যান তাঁর বাবা-মায়ের নামে সৈয়দ সাজিদ পিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল ও এর পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। টিলার আশপাশে ৪-৫টি বসত বাড়ি রয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে শতকরা প্রায় অর্ধ শতাধিক বসতবাড়ি টিলা কেটে নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে এলাকার মতিন মিয়া, নুরই মিয়া, সিরাজ মিয়া, নিজাম মিয়া তাদের বসত বাড়ির পাশে টিলাগুলো কেটে মাটি বিক্রি করেন। যেকোন সময় টিলা ধ্বসে বসতবাড়ির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে টিলা কাটার খবর পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা ৩১ মার্চ বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে তিনি অধিদপ্তরের সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠান। পরে বিভাগীয় পরিচালক ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম, ইসলামনগর এলাকার বাসিন্দা নুরুল মিয়ার স্ত্রী বেগুন বেগম, তৈয়ব আলীর ছেলে নুরই মিয়া, মতিন মিয়া, সিরাজ মিয়া, নিজাম মিয়া ও শুকুর মিয়ার নামে নোটিশ পাঠান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবেশ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনে অনুমোদন ছাড়া টিলা কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ এলাকার বেশ কয়েকজন জড়িত। টিলা কাটায় ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানসহ ওই এলাকার ৭ জনকে অধিদপ্তর থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে এর শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মতিন মিয়া বলেন, তিনি টিলার মাটি কাটেননি। টিলাটি তাঁর রেকর্ডীয় ভূমি। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার শামীম আহমদ রাস্তার মেরামত কাজের জন্য শ্রমিকদের দিয়ে টিলার মাটি কেটেছেন।
টিলা কাটার অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে ভাটেরা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুল করার জন্য ওই এলাকায় সমতল কোন জমি নেই। তাই এলাকার ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার সুবিধার্থে আমার টিলা জমি কেটে স্কুল ও মসজিদ নির্মাণ করি। তাছাড়া ৩৩ শতাংশ জমিটি শিক্ষা সচিবের নামে রেজিস্ট্রিও করে দিয়েছি। স্কুলের পাশে ছোট্ট একটি কাঁচা রাস্তা ছিল সেটি পাঁকাকরণ করার জন্য গতবছর ওই টিলা থেকে মাটি কেটে দেয়া হয়েছে। টিলা কাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি কোন অনুমতি নেননি। মানুষের প্রয়োজনে তিনি এসব কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ওই জমির মালিক নন বলে জানান।
পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন, টিলা কাটার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭জনের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। শুনানীতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, কোন অবস্থাতেই টিলা-পাহাড় কাটা যাবেনা। যারা পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, টিলা কাটার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিন তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুলাউড়ায় টিলা-পাহাড় কাটার বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •