কুলাউড়ায় খাসিয়া বনবিভাগ মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত-১২, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা

February 21, 2021, এই সংবাদটি ৮১ বার পঠিত

মাহফুজ শাকিল॥ কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের নুনছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে সরকারি বনভূমিতে গাছের চারা রোপনকে কেন্দ্র করে বনবিভাগ ও খাসিয়াদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তঃত ১২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টায় এ হামলায় বনপ্রহরী আব্দুল হালিম, বনমালী জিয়াউর রহমান, প্রহরী প্রতাপ চন্দ্র দেব, উপকারভোগী ও শ্রমিক ইছাক আলী, এলাইছ মিয়া, ফজলু মিয়া, সেলিম মিয়াসহ ৮জন আহত হন। আহতদের কুলাউড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় আহত বনকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। আহত বনকর্মীদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন তিনি। এদিকে বনবিভাগের কর্মী ও উপকারভোগীদের হামলায় খাসিয়া সম্প্রদায়ের পালাং, রবেট মারচিয়াং, রিশন বারেক ও শ্রমিক শাহীন আহমদসহ ৪জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় খাসিয়ারা সামাজিক বনায়নের ১১ জন উপকারভোগীদের বিরুদ্ধে ও বনবিভাগ ১১ জন খাসিয়াসহ বাঙ্গালি শ্রমিকের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে।
জানা যায়, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে নুনছড়া ও রুশনাবাদ মৌজার গভীর পাহাড়ি এলাকায় বনবিভাগ ১০ হেক্টর সরকারি ভূমিতে সামাজিক বনায়নের লক্ষে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই ভূমিতে একসময় বাঁশমহাল ছিল। বর্তমানে জায়গাটি খালি থাকায় বনবিভাগ সামাজিক বনায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে গত অক্টোবর মাসে এবং একটি নার্সারীর কাজ শুরু করে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে খাসিয়াদের দাবি, সেই ভূমিটি তাদের দখলকৃত। ওই ভূমিতে তারা পান চাষ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। সামাজিক বনায়নের নামে বনবিভাগ তাদের মনগড়া উপকারভোগী নির্বাচন করে খাসিয়াদের দখলকৃত জমিতে গাছের চারা রোপনের চেষ্টা করে। এতে বনবিভাগ ও খাসিয়াদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
এ বিষয়ে নলডরী বিট কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাতে তিনি বাদি হয়ে ১১জন খাসিয়াসহ বাঙ্গালি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো বলেন, নুনছুড়া পুঞ্জির গহীন অরণ্যে সরকারি ১০ হেক্টর বনভূমিতে খালি জায়গা থাকায় সামাজিক বনায়নের কাজ শুরু করে বনবিভাগ। বনবিভাগ নার্সারীতে ইতোমধ্যে চারা উৎপাদন কাজ শেষ করেছে। উৎপাদিত চারা পলিব্যাগে তোলার কাজ শুরু করে। কিন্তুু খাসিয়ারা ওই জমিটি তাদের দাবি করে বনায়নের কাজে বাঁধা প্রদান করে। তাদের মূল লক্ষ্য ওই জায়গায় তারা বনায়ন করতে দেবে না। তাই তারা পরিকল্পিতভাবে বনায়ন কার্যক্রম বিনষ্ট করার জন্য বনবিভাগের কর্মী ও উপকারভোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ইছাক আলী নামে এক শ্রমিকের চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নুনছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান (মন্ত্রী) ববরিন খাসিয়া বলেন, আমাদের সম্প্রদায়ের প্রধান পেশা পান চাষ করা। সেই পান বিক্রি করে আমাদের জীবিকা চলে। আমাদের দখলকৃত জমিতে বনবিভাগের লোকদের নাম ব্যবহার করিয়া স্থানীয় লিটন গংরা সবসময় পান জুম দখল করার অপ্রচেষ্ঠায় লিপ্ত থাকে। এবং বনায়নের নামে আমাদের পানজুমের ক্ষতিসাধন করে। পুঞ্জির লোকজন তাদের দখলীয় জায়গায় পান চাষ করিতে গেলে বনবিভাগের কথিত উপকারভোগীরা সবসময় বাঁধাপ্রদান করে। তপশীল বর্ণিত ভূমির বিরোধ নিয়া বন বিভাগের বিরুদ্ধে ৬২/১৯৮২ (স্বত্ব) মামলা দায়ের করি। উক্ত মামলা বিচার শেষে বিজ্ঞ আদালত আমাদের পক্ষে রায় ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে বন বিভাগ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করে। যাহার স্বত্ব আপীল মামলা নং-৮২/০৫। উক্ত আপীল মামলার রায়ও আমাদের পক্ষে ঘোষনা করা হয়। ঘটনার দিন ভোরে লিটনের নেতৃত্বে ১০/১৫ জনের একটি বাহিনী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের পান জুমে প্রবেশ করে জুম জবরদখলের চেষ্টা করে পান গাছের চারা কাটা শুরু করে। তাদের হামলায় খাসিয়াদের মধ্যে আহত ৩ জনকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রেজাউল হক ২১ ফেব্রুয়ারী রোববার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। কিছু জানতে হলে বিট কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আপনি বনবিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আপনার কাছে সঠিক তথ্য কেন নেই এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনার কোন কিছু জানতে হলে অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং আপনার যা খুশি তা লিখতে পারেন।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় বলেন, এ ঘটনায় বনবিভাগ ও খাসিয়া সম্প্রদায় থানায় পৃথক পৃথক মামলা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •