কুলাউড়ায় শিশুদের উপবৃত্তির টাকা গেলো শিক্ষকদের পকেটে

July 25, 2016,

এইচ ডি রুবেল॥ কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের উপবৃত্তির টাকা পকেটস্থ করেছেন শিক্ষকরা। অর্থলোভী শিক্ষকদের এহেন কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ করেছেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের কাছে। এছাড়া এক প্রধান শিক্ষককে দু’ঘন্টা অবরুদ্ধ করার খবর পাওয়া গেছে।অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় যেসব শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা হলেন উপজেলার কানাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোর্শেদ আহমদ, কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসনা বেগম, গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বাগৃহাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলী রানী দে ও লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাবিদ আলী। এরমধ্যে কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসনা বেগমকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ২৩ জুলাই শনিবার দুপুর ২টায় দু’ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

Kulaura-24-(1)
অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, টাকা আত্মসাতের জন্য অসাধু এসব প্রধান শিক্ষক অভিভাবকদের কাছ থেকে চাহিদাপত্রে অতিরিক্ত ভীড়ের অযুহাতে আগেই স্বাক্ষর এবং টিপসই নিয়ে নেন। চাহিদাপত্রে শতভাগ টাকা লিখেই তাতে স্বাক্ষর ও টিপসই নেন। কিন্তু টাকা দেয়ার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত কম দেন। এ থেকে অভিযুক্ত একেক জন শিক্ষক ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আত্মসাৎ করেছেন। অভিভাবকরা শিক্ষকদের কাছে কম টাকা দেয়ার কারণ জানতে চাইলে গৌড়করণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে অসধাচরণ করেন। নিরূপায় হয়ে অভিভাবকরা ফিরে যান। কুলাউড়া গ্রাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার পর স্থানীয় ইউপি মেম্বারের মাধ্যমে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কিছু টাকা ফেরৎ দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু অভিভাবকরা তা মেনে নেননি। তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।
এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শরিফ উল ইসলাম জানান, কিছু অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এব্যাপারে তদন্তক্রমে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •