কুশিয়ারার বন্যায় এখনো জলমগ্ন ৫০টি গ্রাম নদী পাড়ের দুই থানার মানুষের মানবেতর জীবন

June 18, 2022,

স্টাফ রিপোর্টার॥ গেল দুই সপ্তাহের লাগাতার অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা ঢলে কুশিয়ারার বন্যায় মৌলভীবাজারের দুটি উপজেলাকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। গেল দুদিনের রৌদ্রে নদী থেকে পানি সামান্য কমে গেলেও গ্রামঞ্চলের ঘর-বাড়ি ও সড়ক পথ থেকে পানি এখনো নামেনি। জেলার সদর ও রাজনগর উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ৫০টি গ্রামের ১ লাখ মানুষ রেহাই পাচ্ছেন না ভয়াল এই বন্যা থেকে।
রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের বকশিপুর,সিক্কাগাঁও,কামালপুর, আমনপুর,সুরিখাল,জুগিকোনা, কেশরপাড়া,সুনামপুর,উমরপুর,কান্দিগাঁও,জোড়াপুর,গালিমপুর,রামপুর ও ফতেপুর ইউনিয়নের,নোয়াগাঁও,বিলবাড়ি,হামিদপুর,বেড়কুড়ি,শাহাপুর,জাহিদপুর,আব্দুল্লাহপুর,ইসলমাপুরসহ সদর উপজেলার মনূমুখ ইউনিয়নের আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদী পাড়ের এসব এলাকার দিন মজুর ও মধ্যবৃত্ত মানুষ মানেবতর জীবন যাপন করছেন। নদীর পানি একটু কমার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে ডায়রিয়া,আমাশা, জ¦র-সর্দি ও হাতে-পায়ে ঘাঁসহ নানা রোগ দেখা দিয়েছে। এসব রোগীদের চিকিতসা সেবা দিতে এখনো সংশ্লিষ্ট দফতরের কেউ এগিয়ে আসেননি।
সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গেল এমন চিত্র দেখা যায়। উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুনামপুর গ্রামের সিপ্রা বেগম বলেন, “আমি কুশিয়ারা নদীর পাড়ে থাকি, বন্যায় আমার ঘর ও রাস্তা-ঘাট ভাসাইয়া লইয়া যারগি। আমি গরীব মানুষ খুব অভাবে আছি। খাইতে পারি না। বের হতেও পারি না”। একই ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের আবিরুন বিবি, ঝর্ণা,ছাবুলি,শারমিন,জেলি, লিজা,বানেছা ও হুসনা বেগম বলেন, নদী পাড়ের আমরা সবাই পানি বন্দি। বাড়ি থেকে নৌকা নিয়ে ওয়াপধায় আসি। তারা বলেন, পানির সাথে থাকতে থাকতে হাতে পায়ে ঘাঁ হয়েছে। আমাদের অনেকের পাতলা পায়খানা ও শরীরে জ¦র রয়েছে। গ্রামের আবিরুন বিবি আক্ষেপ করে বলেন, তার স্বামী আরেক বিয়ে করে বউ নিয়ে অন্যত্র বসবাস করেন। তিনি স্বামী ছাড়া ৫ সন্তান নিয়ে এই বন্যায় বহু কষ্টে জীবন যাপন করছেন। একই গ্রামের নূর আহমদ বলেন, পরিবারে ৫ সদস্য নিয়ে তিনি মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তিনি মাছের ব্যবসা করেন। নিজের নৌকা না থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারেন না। এদিকে বাঁধবাজার-খেয়াঘাটবাজার-চাঁদনীঘাট সড়কের হলদিগুল এলাকায় ওয়াপধা সড়কে নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে কাউয়াদীঘি হাওরে কুশিয়ারার পানিতে জলমগ্ন হয়ে হাওর পাড়ের ৩০/৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন জনসাধারণ। এছাড়াও সুরিখাল,যুগিকোনাসহ বেশ কটি এলাকায় পাইপের ভের দিয়ে দ্রুত পানি ঢুকছে কাউয়াদীঘিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এখানকার একাধিক লোকজন জানান, শুরুতে যদি এই পাইপ ও গর্ত বন্ধ করা না হয়, তবে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •