চিকিৎসা, সচেতনতা, আর্থিক ও শিক্ষামূলক সহায়তা চা বাগানে কুষ্ঠ আক্রান্ত পরিবারের কল্যাণে নানা উদ্যোগ

June 27, 2020, এই সংবাদটি ৩৭ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ চা শ্রমিক জনগোষ্ঠির মধ্যে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা রোগে আক্রান্তদের জন্যে চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। সম্প্রতি করোনা মহামারি দেখা দেয়ায় চা শ্রমিক জনগোষ্ঠির কুষ্ঠ আক্রান্ত পরিবারের জন্য চিকিৎসা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, আর্থিক সহায়তা প্রদান ছাড়াও শিক্ষামুলক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হীড বাংলাদেশের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ।
হীড বাংলাদেশ কমলগঞ্জ এর কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচী সূত্রে জানা যায়, সিলেট বিভাগের চা বাগানে ২০১৯ সনে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ছিলেন ৩৬৪ জন। ২০২০ সনের জানুয়ারীতে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৫ জন। সিলেট বিভাগের চার জেলায় গত বছরে যক্ষ্মা আক্রান্ত ১২৬ শিশুসহ ৩২৫১ জন রোগী রয়েছে। এদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে হীড বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তবে বৈশ্বিক করোনা মহামারি দেখা দেয়ার পর তাদের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২৯৭ পরিবারকে মাস্ক ও ডেটল সাবান বিতরণ, ৪৮০ জন কুষ্ঠ পরিবার ছেলে মেয়েদেরকে নগদ ৫০০ টাকা হারে করোনা সহায়তা প্রদান করে। চা জনগোষ্ঠির পঙ্গুত্ব নিরসন, সঠিক চিকিৎসা ও করোনা ভাইরাস সচেতনতা প্রদানে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের কুষ্ঠ স্বাবলম্বী ৫৪টি দলে সভার মাধ্যমে প্রতিরোধ শিক্ষা প্রদান করেছে। এসব দলের সদস্যদের ঋণ ও ব্যক্তিগত সুবিধার জন্যে ১৬টি দলকে ৫৪ হাজার টাকা গ্রুফ ফান্ড হিসাবে সুবিধা প্রদান, ৭ জন পঙ্গু কুষ্ঠ রোগীকে সরকারি সহায়তা বিষয়ক অনুদানের ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ, বিগত ২৭ জানুয়ারী মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জে কুষ্ঠ দিবস পালন করা হয়।
এছাড়া ১০টি চা বাগানের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে কুষ্ঠ, যক্ষ্মা, হতদরিদ্র, পঙ্গু পরিবারের ১৪০ জন ছাত্রছাত্রীকে প্রাথমিক পর্যায়ে মাথাপিছু বছরে ৪ হাজার, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৮ হাজার ও কলেজ পর্যায়ে ১৫ হাজার টাকা করে শিক্ষামূলক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
কমলগঞ্জে হীড বাংলাদেশ এর কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কুষ্ঠ প্রকল্প ইনচার্জ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এবছর করোনার কারণে মার্চ থেকে কার্যক্রম সম্ভব হয়নি। অন্যথায় আরও রোগী পাওয়া যেত। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে ব্যাপক সচেতনতা, কুষ্ঠ চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ১০টি চা বাগানে অসুস্থ ও হতদরিদ্র ১৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষামূলক সহায়তা প্রদান করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •