ছাত্রী উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় কমলগঞ্জে মহিলা কলেজ বাসে বখাটেদের হামলা

September 5, 2016,

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি॥ কমলগঞ্জে কলেজ ছাত্রীদের আসা যাওয়ার পথে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বখাটেরা আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের ছাত্রী বাসে হামলা চালায়। বখাটেদের হামলায় দুই সহোদর বাস চালক ও হেলপার আহত হয়েছে। ঘটনাটিকে তুচ্ছ উল্লেখ করে সামাজিক বিচারের চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাসের মালিক রোববার রাতেই কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
৪ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় সোয়া ছয়টায় আদমপুর ইউনিয়নের আদমপুর বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।
কমলগঞ্জ থানায় শাহ আব্দুল মালিকের দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাঁর একটি বাস কমলগঞ্জের ইসলামপুর ও আদমপুর ইউনিয়ন এলাকা থেকে আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের ছাত্রীদের পরিবহন করে। আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জালাল গ্রামের কতিপয় বখাটে নিয়মিত বাসে আসা কয়েকজন ছাত্রীকে উত্যক্ত করে। রোববার দুপুরে বাস যোগে ছাত্রীরা কলেজে আসার সময় বখাটেরা দুই ছাত্রীকে (রুপা আক্তার ও পারভীন আক্তারকে) উত্যক্ত করে। এ ঘটনায় বাসের চাস চালক শাহ ইয়াছিন (২৬) প্রতিবাদ করে বখাটেদের শাসন করেছিলেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ছাত্রীদের গন্তব্যে পৌছার সময় সময় বখাটে  তারিক মিয়া (২০), রুবেল মিয়া (২৪) আসাদ মিয়া (২২), সালাম মিয়া(২০)-র নেতৃত্বে একদল বখাটে বাসের গতিরোধ করে চালক  শাহ ইয়াছিন ও হেলপার তার সহোদর শাহ আব্দুস সামাদকে মারধর করে। হামলকারী বখাটেদের বাড়ি আদমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জালালপুর গ্রামে। অভিযোগকারী বাস মালিক শাহ আব্দুল মালিক বলেন, তার এক ছেলে বাসের চালক ও এক ছেলে হেলপার। ঘটনার জন্য তিনি বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সামাজিক সমাধানের চেষ্টা করচেণ বলেও তিনি জানান।
ছাত্রী বাসে হামলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘটনার সময় এ এলাকায় পুলিশের একজন উপ পরিদর্শকও উংপস্থিত থাকায় এলাকাবাসী এক বখাটেকে ধরেছিল। পরে জনৈকি প্রভাবশালী ব্যক্তি জাহাঙ্গীর মুন্না ধরে রাখা বখাটেকে ছাড়িয়ে নিলেন।
আব্দুল গফুর চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ  হেলাল উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি রাতে ঘটনাটি শুনেছেন। সোমবার বিকালের শিপ্টে ছাত্রীরা বর্ষ পরিবর্তন পরীক্ষায় আসার পর তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জেনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।
কমলগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক কৃষ্ণ মোহন দেবনাথ বখাটেরা কলেজ বাসে হামলা চালিয়ে চালক ও হেলপারকে মারধর করেছে বলে স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, তবে ঘটনাটি ইভটিজিং বলে মনে হয়নি। আর এলাকাবাসী কাউকে ধরে নিলে তিনি আসার আগেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দাল হোসেন বাসে হামলার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি তিনি সামাজিকভাবে সুষ্ঠু বিচার করে দিতে চেষ্টা করছেন। তবে অভিযোগ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোল্লা শাহীন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •