ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি মৌলভীবাজার এনডিএফ-এর

October 4, 2018, এই সংবাদটি ২০১ বার পঠিত

ইমাদ উদ দীন॥ মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এনডিএফ’র বর্ধিত সভায় সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে জনগণের বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সভায় বলা হয় এই আইনে পুলিশের যথেচ্ছ ক্ষমতার অপপ্রোয়গের কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। সরকারের শেষ সময়ে এসে তড়িঘড়ি করে একের পর এক আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই সকল নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে বিরোধী মতকে দমন-পীড়নের মাধমে যেন তেন উপায়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করা। ৩ অক্টোবর বুধবার রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরে জেলা এনডিএফ’র সভাপতি কবি শহীদ সাগ্নিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মন্ত্রীসভা অনুমোদিত সংশোধিত শ্রমআইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করার দাবি জানানো হয়। জেলা এনডিএফ’র সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সভাপতি  মোঃ নুরুল মোহাইমীন, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমলেশ শর্ম্মা, মৌলভীবাজার জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন রেজিঃ নং চট্টঃ-২৩০৫ এর সভাপতি মোঃ মোস্তফা কামাল, জেলা এনডিএফ’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৃগেন চক্রবর্তী,বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির জেলা কমিটির সদস্য সৈয়দ আমির উদ্দিন, চা-শ্রমিক সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হরি নারায়ন হাজরা ও শ্যামল অলমিক, কৃষকনেতা সিদ্দিকুর রহমান, চা-শ্রমিকনেতা সুশীল বাউরী প্রমূখ। সভায় বক্তারা বলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের উপর আরও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী দ্বন্দ্বে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিফলন ঘটছে জাতীয় ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে তাদের একপক্ষ ‘সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন’ এবং অপরপক্ষ ‘সাংবিধানিক উপায়ে নির্বাচন’-এর বক্তব্য তোলে ধরে স্বীয় দালালদের ক্ষমতাশীন করে লক্ষ্য হাসিলে তৎপর। এরই অংশ হিসেবে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ক্ষেত্রে মহাজোট,১৪ দলীয় জোট,২০ দলীয় জোট, যুক্তফ্রন্ট,জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া,বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ এদেশীয় দালালরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী রাশিয়া ও বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে অগ্রসরমান পূঁজিবাদী চীনসহ অপরাপর সাম্রাজ্যবাদীদের আশির্বাদ নিয়ে জাতীয় ও জনস্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে প্রভূ সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষা করে যেনতেন উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে ও আসতে বা ক্ষমতার অংশ হতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। মহাজোট সরকার কথায় কথায় গণতন্ত্র ও সংবিধানের বুলি আওড়ালেও সকল ধরনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ভূলুণ্ঠিত করে বিভিন্ন কালাকানুন তৈরি করে সভা-সমাবেশে বাঁধা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ, বিনাবিচারে হত্যা-খুন-গুম, মামলা-হামলা-গ্রেফতারসহ দমন-পীড়ন চালিয়ে স্বৈরতন্ত্রকে ক্রমাগত তীব্রতর করে চলেছে। অপরদিকে ২০ দলীয় জোটসহ বিরোধী পক্ষ জনজীবনের সমস্যাকে উপেক্ষা করে যেনতেন উপায়ে প্রভূ সাম্রাজ্যবাদের আর্শীবাদ নিয়ে ক্ষমতাসীন হতে নানামূখী তৎপরতা চালাচ্ছে। বামনামধারী জোটও সাম্রাজ্যবাদের পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট পেতে তৎপর। সভায় বক্তার আরও বলেন নয়া উপনিবেশিক আধাসামন্ততান্ত্রিক বাংলাদেশে যে প্রক্রিয়ায়ই নির্বাচন হোক না কেন, আর তাতে যে দল বা জোটই ক্ষমতাসীন হোক না কেন তাতে এদেশের জনগণের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটবে না। জনগণের মূল শত্রু হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিপতি শ্রেণি। তাই সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদ বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কায়েম করে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। সভা থেকে সাম্রাজ্যবাদী দেশ ও সংস্থা সমূহের সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী সকল চুক্তি বাতিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল, বিনাবিচারে হত্যা-খুন-গুম বন্ধ, দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রোধ, শ্রমিক-কর্মচারিদের জন্য বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে ন্যূনতম মূল মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ ও শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী সংশোধিত শ্রমআইন বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকের হাতে জমি ও কাজ,কৃষি উৎপাদনের খরচ কমানো এবং ফসলের ন্যায্যমূল্য, সার, ডিজেল. কীটনাশকের দাম কমানোর দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •