বছরের প্রথম দিনে ১১টায়ও সরকারি কার্যালয়ে কর্মকর্তারা অনুপস্থিত

January 2, 2017, এই সংবাদটি ২০৪ বার পঠিত

হোসাইন আহমদ॥ স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের দৌড়গোড়ায় সরকারের সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সেবা পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি অফিসে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সরকারি কর্মকর্তা। সম্মানীর পাশাপাশি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে দিয়েছেন কিছু নীতিমালা। কিন্তু মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে বছরের প্রথম দিনেও গত রোববার অনেক কর্মকর্তাই নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা খানিক পরও অফিসে আসেননি।
১ জানুয়ারী রোববার সকালে সরেজমিন গেলে দেখা যায়, ১০টা ৩ মিনিটে যুব উন্নয় অফিস খোলা কিন্তু নেই কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন। অফিস সহায়ক আয়শা বেগম জানান স্যার এখনও আসেননি। ১০টা ৮ মিনিটে সমবায় অফিসে গেলে দেখা যায়, গৌড়ী রাণী পাল বসে মোবাইলে ওয়ার্সআপ চালাচ্ছেন স্যার আছেন কিনা জানতে চাইলে সে বলে স্যার এখনও আসেননি। কোথায় আছেন জানতে চাইলে বলে, আমি বলতে পারব না। ১০টা ১২ মিনিটে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার অফিসে গেলে দেখা যায় অফিস খোলা কিন্তু তিনি নেই। কোথায় আছেন জানতে চাইলে অফিস সহকারী জালাল উদ্দিন বলেন, স্যার বৃহস্পতিবার ঢাকায় গেছেন আসতে একটু দেরি হবে। প্রকৌশলী অফিস খোলা কিন্তু কর্মকর্তা নেই। বরান্ধায় দাড়িয়ে থাকা অপেক্ষমান আয়া বাবণি কর এর সাথে কথা হলে সে বলে স্যার ঢাকায় আছেন ১২-১টার দিকে আসতে পারেন। ১০টা ১৮ মিনিটে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সরকার এর অফিসে গেলে দেখা যায় অফিসের তালা খোলা কিন্তু দরজা লাগানো। অফিস সহায়ক রাজু বারান্ধায় বসে অন্যদের সাথে গল্প করছে। এসময় স্যার কখন আসবেন জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, সম্ভবত স্যার রাস্তায় আছেন। ১০টা ২২ মিনিটে পরিসংখ্যান অফিসে গেলে জানাযায়, তাদের অফিসার নেই জেলা পরিসংখ্যান অফিসার এটা দেখাশোনা করেন। দায়িত্বরত জুনিয়র পরিসংখ্যান অফিসার সুজন কান্তি দাস আছেন কিনা জানতে চাইলে অফিস সহকারী বলেন, তিনি কোর্টে টাকা উঠানোর জন্য গেছেন। সাড়ে ১০টায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে গেলে দেখা যায়, অফিস খোলা কিন্তু তিনি নেই। স্যার কখন আসবেন অফিস সহকারী মিজানকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, রাস্তায় আছেন কিছু সময়ের মধ্যে চলে আসবেন। সহকারী সেটেলমেন্ট, অফিসে গেলে দেখা যায়, অফিসার রিতেন্দ্র চন্দ্র দাস নেই। কখন আসবেন অফিস সহকারী তারিকুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, স্যার সিলেট গোলাপগঞ্জে হিয়ারিংয়ের কাজে আছেন। ১০টা ৪০ মিনিটে বিএটিসিতে গেলে দেখা যায়, সহকারী প্রকৌশলী নেই কোথায় আছেন জানতে চাইলে অফিস সহকারী স্বপ্ন বণিক বলেন, স্যার অফিসের কাজে সিলেট আছেন। পরিবার পরিকল্পনা অফিসার বেলা ১০টা ৪৭ মিনিটেও অফিসে আসেননি। অফিস সহায়ক দিলিপ কুমারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন স্যার এখনও আসেননি। কখন আসবে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি বলতে পারব না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আমাদের অফিস টাইম। সঠিক সময়ে সকল কর্মকর্তার অফিসে আসা উচিত। যারা সময় মতো আসেননি তাদরে সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •