মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে কমলগঞ্জের শমশেরনগর ইউপি সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

May 22, 2020, এই সংবাদটি ৩৭ বার পঠিত

প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ॥ কমলগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জের ধরে শমশেরনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য শারমীন চৌধুরী কর্তৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য রুহেল আহমদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ২১ দুপুর ১টায় উপজেলার মুন্সীবাজারস্থ কমলকুঁড়ি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপি সদস্য সদস্য রুহেল আহমদ চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য শারমীন চৌধুরীর এহেন কার্যক্রম ও মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। কোন প্রকার তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মামলা হওয়ার কারণে আমার ৩নং ওয়ার্ডের জনসাধারণতে ত্রাণসহ বিভিন্ন ধরণের সেবা দিতে না পারায় ওয়ার্ডের জনসাধারণ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শমশেরনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য রুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, ৪নং শমশেরনরগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সহিত সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া দায়িত্ব জীবনের ঝুঁকি নিয়েও পালন করছি। আমার কাজে কখনও কোন ত্রুটি ঘটেনি। গত ১৬ মে আমাদের শমশেরনগর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্যা শারমিন বেগম চৌধুরী ও ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সদস্যা নমিতা সিং শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ এর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগে আমি সহযোগিতা না করায় শারমিন বেগম চৌধুরী আমার উপর ক্ষুব্ধ রয়েছেন। ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা শারমিন বেগম চৌধুরী আমার ওয়ার্ডের সাথেও সম্পৃক্ত নন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগে সহযোগিতা না করায় শারমিন বেগম চৌধুরী আমাকে নাজেহাল করার পায়তারায় লিপ্ত। সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের প্রণোদনা সহায়তা দেওয়ার তালিকায় আমার ওয়ার্ডের ভূলত্রুটি সংশোধনের জন্য গত ১৩ মে বেলা ২টায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে আমার দেওয়া তালিকা ভূল ত্রুটি দেখতে থাকি। কিছুক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হন পার্শ্ববর্তী ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্যা শারমিন বেগম চৌধুরী। শারমিন বেগম চৌধুরী সেখানে আমাকে দেখার সাথে সাথে অকথ্য ভাষায় শমশেরনগর ইউ.পি চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে উনার দু’টি নাম কেন বাদ দেয়া হয়েছে বলে আমার কাছে জবাব চাইলে আমি উনাকে উক্ত নাম দেয়ার বিষয়ে আমি জানিনা বলে জানালে তিনি আমাকে চেয়ারম্যানের চামচা, দালাল এবং আমার মা-বাবাকেও অশালিন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। শারমিন বেগম চৌধুরীর অশালিন আচরন দেখে দ্রুত আমি স্থান ত্যাগ করে চলে আসি উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে। কিছুক্ষণ পর একটি সিএনজি-অটোরিক্সা যোগে শারমিন বেগম চৌধুরী এসেই গাড়ি থেকে নেমে আমাকে উদ্দেশ্য করে মারমুখী হয়ে উঠেন এবং ড্রাইভার ও অজ্ঞাতনামা লোকদের নিয়ে ধর ধর মার মার বলে উত্তেজিত হন। আমি আমার আত্মসম্মান রক্ষার্থে প্রাণের ভয়ে সরাসরি শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবহিত করার জন্য চলে আসি। এর কিছুক্ষণ পরই ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে শারমিন বেগম চৌধুরী ইউপি সচিব মো. কামাল উদ্দীন চৌধুরীর অফিসে থাকাবস্থায় কালেক্টার সেলিম মিয়া ও রাধানগর নিবাসী জনৈক সবুজ মিয়ার সম্মুখে ফের শারমিন বেগম চৌধুরী আমাকে আবারও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তাহার সামনে থাকা একটি বাইসাইকেল ধরে সাইকেলের ধাক্কায় আমাকে চাপা দিতে চাইলে আমি আত্মরক্ষার্থে সাইকেল আটকে দেই। এসময়ে তিনি মাটিতে পড়ে হাল্লা চিৎকার শুরু করেন। ঘটনার পরপরই চেয়ারম্যান এসে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে উপযুক্ত বিচার করার আশ্বাস দিলে আমি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চলে আসি। ঘটনার পরদিন গত ১৪ মে আমি জানতে পারি আমার নামে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কোন ধরণের তদন্ত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে মামলা দায়েরের বিষয়টি শুনে আমি হতবাক। আমাদের শমশেরনগর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি শারমিন বেগম চৌধুরী মামলা দায়েরের পরও নানাভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করছেন তিনি, উনার স্বামী, সন্তান ও গুন্ডাবাহিনী দিয়ে আমাকে যেখানে পান মারধোর ও খুন করে আমার লাশ গুম করে আমার বিরুদ্ধে আরও নানা মামলা মোকদ্দমায় জড়িত করে আর্থিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন। উনার এহেন আচরনে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। শারমিন বেগম চৌধুরী একজন মামলাবাজ হিসাবে এলাকায় অসংখ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। তিনি আমাকে মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে আমার এলাকার কয়েক হাজার লোককে বর্তমান করোনা মহামারি হওয়ার নিমিত্তে ও এলাকার কিছু প্রভাবশালী দুস্কৃতিকারী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ আনয়ন করেছেন।
ইউপি সদস্য শারমিন বেগম চৌধুরীর এহেন কার্যক্রম ও মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়ে শমশেরনগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য রুহেল আহমদ চৌধুরী গত ১৯ মে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং গত ২০ মে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে শমশেরনগর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের ইউ.পি সদস্যা শারমিন বেগম চৌধুরী বলেন, আমি কোন মিথ্যা মামলা দেইনি। আমার স্বাক্ষীপ্রমাণ আছে।
শমশেরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জুয়েল আহমদ বলেন, এ বিষয়টি আমি সামাজিকভাবে দেখার চেষ্টা করলেও মহিলা সদস্য থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এখন আইনীভাবে বিষয়টি দেখা হবে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, মহিলা সদস্যের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন আছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •