মা বাবার কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির

October 27, 2020, এই সংবাদটি ২০৯ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ গ্রামের বাড়ির পারিবারিক করস্থানে মা বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শিক্ষানুরাগী,শিক্ষক, সমাজসেবক, সরকারের সাবেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা সৈয়দ আবদুল মুক্তাদির (৮০)। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের বারইউরি গ্রামের সৈয়দ বাড়ি পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকার ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে তার ১ম জানাযার নামাজ শেষে হেলিকপ্টারযোগে মরহুমের লাশ মৌলভীবাজারে নিয়ে আসা হয়। মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে দূপুর ১.২৫ মিনিটের দিকে লাশ বহনকারী হেলিকপ্টারটি সেখানে পৌঁছালে আগে থেকে অপেক্ষমান মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদসহ আত্মীয় স্বজনারা তাঁর লাশ গ্রহণ করেন। এরপর লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স যোগে তাঁর মরদেহ মৌলভীবাজার শহরের সমশেরনগর রোডের শাদীমহলে মরহুমের বোনের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে শেষবারের মত একনজর দেখতে ভীড় করেন তাঁর আত্মীয় স্বজন, সাবেক ছাত্র ও শোভাকাঙ্খিরা।

আসরের নামাজের আগে মরহুমের লাশ হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) দরগাহ মসজিদে নিয়ে আসা হয়। বাদ আসর দরগাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের ২য় জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজের পূর্বে মরহুমের কর্মময় জীবন নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ও দোয়া চান মরহুমের ভাগ্না মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ, সাবেক পৌর মেয়র ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফয়জুল করিম ময়ূন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন মাতুক, মরহুমের ভাই সৈয়দ কয়ছর আহমদ।

এরপর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি এম.নাসের রহমানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মিজানুর রহমান মিজান, ফখরুল ইসলাম, মুহিতুর রহমান হেলাল,মঈন উদ্দিন মজনু ও আব্দুর রহিম রিপন। জানাযার নামাজের ইমামতি করেন দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মির্জা শামীম আহমদ।

জানাযার নামাজ শেষে ওখান থেকে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স যোগে তাঁর মরদেহ নাজিরাবাদ ইউনিয়নের বরইউরি গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ মাগরিব বরইউরি জামে মসজিদে ৩য় জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে মা বাবার কবরের পাশে তাঁকে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়। মরহুম সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির ৪ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। মাত্র ৪২ দিন আগে তাঁর স্ত্রী সৈয়দা সৈকত আরা মারা যান। তাঁর ২ ছেলে। বড় ছেলে  সৈয়দ তানভীর মুক্তাদির তিনি স্বপরিবার যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। আর ছোট ছেলে তানজীদ মুক্তাদির রাফি তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদিরের মৃত্যুতে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্থরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদ্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

উল্লেখ্য সোমবার বিকাল ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহী ওয়া ইন্না ইলাহী রাজিউন)।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •