মৌলভীবাজারে গণটিকা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের স্বত:স্ফুর্ত উপস্থিতি : দুপুরে সাড়ে ১২টার মধ্যে টিকার বরাদ্ধ শেষ

August 7, 2021, এই সংবাদটি ২৭৩ বার পঠিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজার জেলার ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়নের ১১২টি কেন্দ্রে একযোগে গণটিকা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ ঘটিকায় মৌলভীবাজার পৌর এলাকার ১ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ শাহ মোস্তফা কলেজ কেন্দ্রে গণটিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ।
মৌলভীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে ও সিভিল সার্জন অফিসের সহযোগীতায় পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মুহিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ।
একদিনের গণটিকা কার্যক্রমে মানুষের মধ্যে এতই আগ্রহ ছিল, সকাল ৯ ঘটিকার আগে কেন্দ্রে টিকাগ্রহনকারীর উপস্থিতি ছিল লক্ষনীয়। অনেক কেন্দ্রে দেখা যায় বরাদ্দকৃত টিকারা চেয়ে টিকা গ্রহনকারীর উপস্থিতি ছিল দ্বিগুন। মৌলভীবাজার সদর পৌরসভাসহ ৫টি পৌরসভার ৪৫টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে ২০০ ডোজ টিকা বরাদ্ধ ছিল। এসব কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১ টার মধ্যে বরাদ্ধ শেষ হয়ে যায়।
এছাড়াও জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে ৬৭ কেন্দ্রে একই ভাবে আগ্রহ নিয়ে সকাল ৯ ঘটিকার আগেই উপস্থিত হন টিকা গ্রহনকারী মানুষ। এসব ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্রে ৬০০ ডোজ টিকা বরাদ্ধ ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে বরাদ্ধ শেষ হয়ে যায়। কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভীর ও স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সেচ্ছাসেবকদের রিতিমত হিমশিম খেতে হয়। কেন্দ্রে এসে যারা টিকা দিতে পরেননি তাদের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভ ছিল।
মৌলভীবাজার পৌর সভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান জানান, গণটিকার সফলতা আনতে পৌরসভার কাউন্সিলর ও গন্যমান্য ব্যক্তি ও নানা শ্রেনী পেশার মানুষদের নিয়ে বৈঠক করেন। মাইকিং সহ ব্যপক প্রচারনা করেন গণটিকা কেন্দ্রে আসার জন্য। পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে ১৮০০ ডোজ টিকা বরাদ্ধ ছিল, তা দ্রততম সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। আমাদের সকল ধরণের প্রস্তুতি ছিল, টিকা থাকলে প্রতিটি কেন্দ্রে আরও অন্তত ৪ হাজার মানুষকে টিকা দেয়া যেত। কেন্দ্র গুলোতে নিম্ন আয়ের মানুষের উপস্থিতি বেশী ছিল।
সিভিল সার্জন ডাঃ চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, গণটিকা কার্যক্রমের জন্য মৌলভীবাজার জেলায় ৪৮ হাজার ৮ শত ডোজ টিকা বরাদ্দ (সিনোফার্ম) আসে। জেলায় একদিনের জন্য এ কার্যক্রম ছিল। দূপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে ১১২টি কেন্দ্রের বরাদ্দকৃত টিকা শেষ হয়ে যায়। বরাদ্দ শেষ হওয়ায় অনেকেই গণটিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকা দিতে পারেননি। টিকার বরাদ্দ ও সরকার থেকে সিদ্ধান্ত আসলে আবারও গন টিকা শুরু হবে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১৫টি কেন্দ্র তিনি পরিদর্শন করেন।
মৌলভীবারেরর জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান জানান, স্বত:স্ফুর্ত আগ্রহ নিয়ে সকাল থেকে করোনার টিকা নিতে গনটিকা কেন্দ্রে নারী পুরুষ আসেন। তিনি সকাল থেকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, সদর পৌর পৌরসভা ও কমলগঞ্জ উপজেলার ১১টি কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এসকল কেন্দ্র সহ জেলার সকল কেন্দ্রে মানুষের স্বত:স্ফুর্ত উস্থিতি দেখতে পান। কেন্দ্র গুলোতে টিকার বরাদ্দের চেয়ে উপস্থিতি বেশী ছিল।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলা পুলিশ, আনসার, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যন ও মেম্বার, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সহ গনমাধ্যম কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় গণটিকায় সফলতা অর্জন হয়েছে। আগামী ১৪ আগষ্ট গণটিকার কার্যক্রম এ জেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় আবারও অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •