রাজনগরে বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ মামলা নিয়ে ধুম্রজাল

June 9, 2020, এই সংবাদটি ১৯৮ বার পঠিত

শংকর দুলাল দেব॥ রাজনগরে দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীকে (৫৫) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই নারী মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে পুলিশ বলছে ওই মহিলা লিখিত অভিযোগে শ্লীলতাহানীর কথা উল্ল্যেখ করেছেন। ৪ জুন বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের পূর্ব সুরিখাল গ্রামে গত এঘটনা ঘটে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উত্তরভাগ ইউনিয়নের পূর্ব সুরীখাল গ্রামের এক বিধবা (৫৫) প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে একই গ্রামের প্রতিবেশি সুধীর বিশ্বাসের ছেলে বিজয় বিশ্বাস (২৫), মনসুর মিয়ার ছেলে সালমান শাহ (২০) সহ ৩ জন যুবক তার মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী কচুবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে চলে যাওয়ার সময় তিনি তাদের চিনতে পেরে নাম বললে তারা ওই নারীর গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় পাশের কুশিয়ারা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া দুই যুবক তার গোঙ্গরানোর শব্দ শুনে এগিয়ে এলে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে পাশ্ববর্তী অর্জুন বিশ্বাসের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে কাপড় পড়িয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হলে তাদের পরামর্শে ওইদিন ধর্ষিতাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে রাজনগর থানায় বিজয় বিষ¦াস (২৫), শালমান শাহ (২০) ও অজ্ঞাত ১ জন সহ তিনজনকে আসামী করে শ্লীলতাহানীর অভিযোগ করলেও তার দাবী, তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে ওই ধর্ষকরা।
স্থানীয়রা জানান, ধর্ষক এই তিন যুবকের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। আগে থেকেই গ্রামের নারীদের উত্যক্ত করে আসছে তারা। এছাড়া এলাকায় চুরিসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হয়ে এলাকাবাসীকে অতিষ্ট করে তুলেছে তারা। এর আগেও গ্রামের রহিমা বেগম (৩০) নামে এক নারীর ঘরে ঢুকলে তিনি চিৎকার করেন। পরে তারা তাদের ব্যবহৃত কিছু জিনিস ফেলে পালিয়ে গেলে স্থানীয় মুরব্বিদের জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। রহিমা বেগম বলেন, আমার ঘরে ঢুকার পর এলাকার মুরব্বিদের প্রমাণ সহ বলার পরও বিচার করেননি। আগে থেকে তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এঘটনা ঘটতো না।
ধর্ষণের শিকার ওই নারী জানান, তিনি বাড়ির বাইরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে ৩ যুবক তাকে ঝাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববতী কচুবনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। তিনি তাদের দুইজনকে চিনতে পেরে নাম ধরে ঘৃন্য এ কাজের জন্য প্রতিবাদ করলে তারা তাকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতে চেষ্টা করে। পরে নদীতে থাকা ২ জন জেলে তাকে উদ্ধার করতে গেলে তারা পালিয়ে যায়।
রাজনগর থানার ওসি মো. আবুল হাসিম বলেন, ওই মহিলা লিখিত অভিযোগে শ্লীলতাহানীর কথা উল্ল্যেখ করেছেন। তিনি ধর্ষণের কথা আগে বলেননি। এখন বলছেন তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •