সংসদীয় আসন মৌলভীবাজার-৪ নির্বাচনী সমীকরণ ও আলোচনায় নতুন মাত্রা ‘টক অফ দ্যা টি টাউন’ অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী

September 29, 2018, এই সংবাদটি ১,২৫১ বার পঠিত

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খুব বেশীদিন আর হাতে নেই। তাই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের চলছে গ্রামে-গঞ্জে, সভা-সমিতি আর সেমিনার। মৌলভীবাজার -৪ আসনের দুই উপজেলা কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে আ.লীগ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ, কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এম এ রহিম, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মনসুরুল হক, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. এ এস এম আজাদুর রহমান। তাঁরা সবাই মনোনয়ন চাইবেন এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে এ সংখ্যা সময়ের পরিক্রমায় কমেও আসতে পারে। তবে হঠাৎ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল এর সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী’র আবির্ভাব ও নৌকা মার্কার পক্ষে বিপুল জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে মৌলভীবাজার- ৪ আসনের দুই উপজেলা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জে সাম্প্রতিক জনসংযোগ এবং বিগত ১০ বছরে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরা, স্বাধীনতাবিরোধি জামায়াতের কঠিন সমালোচনা, দেশবিরোধিদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনসচেতনতামুলক বক্তব্য, শিক্ষিত ও রাজনীতি সচেতন তরুনদের নিয়ে দৌড়ঝাঁপ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ গ্রামে-গঞ্জের প্রান্তিক জনগণের মাঝে তুলে ধরা, আওয়ামীলীগের হ্যাটট্রিক বিজয় নিশ্চিতকরণ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর আহবান ইত্যাদি কারনে জনমনে বইছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে কি তিনি চমক হিসেবে সপ্তম মনোনয়নপ্রত্যাশী ? সুত্র অনুযায়ী, তা জানতে আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে কে পাচ্ছেন এ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন।

অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরীর মুল বাড়ি রাজনগরে হলেও শৈশব থেকে বেড়ে উঠা কমলগঞ্জের শমসেরনগরে। তিনি ১৭৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতোকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। পাকিস্থান আমলে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজারের শমসেরনগর,মুন্সিবাজার, উদনাসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযুদ্ধাদের নের্তৃত্ব দান করেন। স্বাধীনতার পর তিনি অধ্যাপনা পেশায় যোগ দেন। এরপর সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

তবে তাঁর মুল পরিচয় তিনি ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নের্তৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য। তিনি ‘মুক্তিবার্তা লাল বইয়ের’ প্রণয়নকারী ও ‘সাপ্তাহিক মুক্তিবার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক।

আওয়ামীলীগের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত দীর্ঘদিনের ও তিনি নিজেকে একজন অত্যন্ত বিশ্বস্থ লোক হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণ করতে পেরেছেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এ মুক্তিযোদ্ধার এ অঞ্চলে বিচরণে ও অব্যাহত গণসংযোগ নির্বাচনী আলোচনার টেবিলে যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা। নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে পুনরায় ভাবতে বসেছেন জনগণ ও বিশ্লেষকরা।

অনেকেই বলছেন তাঁর শ্রুতিমধুর বক্তৃতাশৈলী, অল্প কয়েকদিনে জনগণের সাথে অন্তরঙ্গতা ইত্যাদি মিলে এ এলাকায় এক জনপ্রিয় নেতা হওয়ার আভাস মিলছে। যদিও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন বা প্রত্যাশী এরুপ কিছুই বলেননি কিন্তু লোকমুখে তাকে নিয়ে চটকদার কথা এ এলাকার রাজনীতির মাঠে আলোড়ন তৈরী করেছে। তবে কি শীর্ষ নের্তৃত্বের কোন সবুজ সংকেত পেয়েই নির্বাচনী মাঠে নেমে জনগণের হৃদয় জয় করছেন এই বাকপটু, অনলবর্ষী বক্তা, বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা, আ.লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেতা? — এ প্রশ্নই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।

বিগত কয়েকদিনে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের জনগণ ও নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা ও মাঠে – ময়দানে গণসংযোগ করেছেন। সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ও ভুনবীর ইউনিয়ন এবং কমলগঞ্জের পতনঊষা ও মাধবপুর ইউনিয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন এবং পুনরায় শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করতে সবাইকে একযোগে শেখ হাসিনা কর্তৃক মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি জানান, নেত্রীর নির্দেশে তিনি আ.লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তৃণমুলে পৌঁছে দিতে এবং নৌকার পক্ষে সবাইকে একতাবদ্ধ রাখতে এ এলাকায় জনসংযোগ করছেন। মৌলভীবাজার -৪ আসনের জনগণ নৌকার বিশ্বস্থ আপনজন উল্লেখ করে তিনি শ্রীমঙ্গলের ভুনবীরের শিববাড়ি সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত সভায় বলেন, ‘মনোনয়ন দেবার একছত্র ক্ষমতা জননেত্রী শেখ হাসিনার, তিনি মনোনয়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর আমলনামা বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন। প্রতিনিয়ত তিনি খবর সংগ্রহ করছেন, তরুনরা তাঁর বিশ্বস্থ ভ্যানগার্ড হয়ে অনলাইনে-মাঠে ময়দানে কাজ করছে, তাঁর লোক সর্বত্র রয়েছে, এখানে আপনাদের মাঝেও আছে। বিশেষ কয়েকটি ক্ষেত্র ব্যাতীত নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড বসে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যথাসময়ে মনোনয়ন ঘোষনা করবেন, তিনি যাকেই মনোনয়ন দেবেন আপনারা তাঁর পক্ষে কাজ করবেন, তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী করে পুনরায় শেখ হাসিনার নৌকা মার্কাকে দেশসেবার সুযোগ দান করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম এখন জলে, স্থলে ও অন্তরীক্ষে।এক সময় ‘জয়বাংলা’ স্লোগান ছিলো অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধ আর আজ ‘জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে বর্তমান প্রজন্ম মুখরিত।

তিনি আরো বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগকে কেউ হারাতে পারবে না, শেখ হাসিনার মনোনীত পছন্দের প্রার্থীই আপনার -আমার সবার নেতা।কেউ কারো সভা- সেমিনারে যাব না,ভন্ডুল করার চেষ্টা করা, তোষামোদি করে দলের ক্ষতি করা ইত্যাদি প্রকারান্তরে দলের লোক হয়ে দলের বিরোধিতা করা।আওয়ামীলীগের পরিচয়ে ব্যক্তিস্বার্থে আওয়ামীলীগের যে কারো কর্মসুচীতে বাধা দান, অপপ্রচার, এগুলো স্ব-বিরোধি কর্মকান্ড এ ধরনের কাজ দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমাকে যদি বলা হয় তেঁতুলিয়ায় যাওয়ার জন্য আমি সেখানে গিয়ে কাজ করব। অর্থাৎ যেকোন আ.লীগের নেতা -কর্মী নৌকা মার্কার পক্ষে ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করলে তাকে সহযোগিতা করাই হবে আমাদের সবার মুল লক্ষ্য।

তাঁর বিভিন্ন জনসংযোগ ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোঃ রফিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কমলগঞ্জ সৈয়দ মনসুরুল হক, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা নেতা আব্দুল গাফফার কুতুবী, কমলগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার লিলি, কমলগঞ্জ পৌরসভা মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ জুয়েল আহমেদ,  আনন্দ মোহন সিনহা, পতনঊষা ইউপি আ.লীগ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান তৌফিক আহমেদ বাবু, পতনঊষা ইউপি আ.লীগ সা. সম্পাদক ইলিয়াসুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক বিকুল চক্রবর্তী, কমলগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবুল হান্নান চিনু, নারায়ন মল্লিক, ভুনবীর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সুখময় ভট্টাচার্য, সাপ্তাহিক জয়বার্তা পত্রিকার প্রধান সম্পাদক বঙ্গকবি লুৎফুর রহমান, জীবন দেব, সিন্দুরখান ইউপি সদস্য এম এ মোছাব্বির, মুক্তিযোদ্ধা সানু মিয়া,মো. বদরুল ইসলাম সোহেল, কমলগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রাহাত ইমতিয়াজ প্রমুখ।

সর্বশেষ জানা যায়, অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ চৌধুরী দলীয় সভানেত্রীর তরফ হতে মনোনয়ন পেলে অবশ্যই নির্বাচন করবেন, না পেলেও যিনি মনোনয়ন পাবেন তাঁর হয়ে দলের জন্য কাজ করে যাবেন তবে তাঁর মুল উদ্দেশ্য হলো,নেতাকর্মীদের মধ্যে নিবার্চনের জন্য প্রাণচাঞ্চল্য ও একাত্মবোধ তৈরী করা এবং ঐক্যবদ্ধ আ.লীগের বিজয় নিশ্চিত করা।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •