যেজন মাটির কাছাকাছি —-মোঃ আজিজুর রহমান

August 27, 2013, এই সংবাদটি ৩৫৪ বার পঠিত

জব্বারকে নিয়ে যে লিখতে হবে, আমি একথা স্বপ্নেও ভাবিনি। সময়ের কি নির্মম পরিহাস, তাই লিখতে হচ্ছে। জব্বারের তুলনা শুধু জব্বারই। জব্বারের বিকল্প হতে পারে না। এমনকি আমিও না। অনুসারী হতে পারি। জব্বার ছিল মাটি ও মানুষের প্রকৃত নেতা। আমার আওয়ামী রাজনীতিতে আসার পিছনে জব্বারের একটি বিরাট অবদান রয়েছে। কারণ সে আমাদের অনেক আগেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রিয়পাত্র হিসেবে তার বাল্য জীবনেই আওয়ামী রাজনীতি শুরু করে। ১৯৬২ সালে কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সে কারাবরণ করে। ১৯৬৫ সালে কুলাউড়া থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহন করে। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনকে ঘরে ঘরে পৌছে দিতে জব্বার অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজার মহকুমা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যে গতি সঞ্চার হয় তাতে আব্দুল জব্বারের ভূমিকা ছিল সবার উপরে। বৃহত্তর সিলেটের রাজনীতিতে জব্বারের যে বলিষ্ট ভূমিকা ছিল তা সর্বজন স্বীকৃত। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে জব্বার ছিল একজন বলিষ্ঠ সংগঠক। আমরা একসঙ্গে বিহারের চাকুলিয়াতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ করি। সমস্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। একটি সদ্য স্বাধীন যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশে পুনর্গঠন কাজে তিনি এক অমূল্য অবদান রাখেন। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টে জাতির জনকের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে অসম সাহসিকতার সহিত মরহুম জব্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। সেই সময় তাকে গ্রেফতার করে সীমাহীন নির্যাতন করা হয়। শত অত্যাচার ও নির্যাতনে জব্বারকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চার নেতার হত্যার পর যখন আওয়ামী ও আমরা কঠিন সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে ছিলাম। সেই সময়ে ১৯৭৯ সালে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আব্দুল জব্বার নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এটাই প্রমান করে যে তিনি আমাদের একজন মহান নেতা ছিলেন। মরহুম জব্বার এক সময় বাংলাদেশ কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালের ১৯মার্চ বৃহত্তর সিলেটের কৃষক মহাসমাবেশ তার নেতৃত্বে কুলাউড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সেই মহাসমাবেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আব্দুল জব্বার সভাপতিত্ব করেন। মরহুম জব্বার ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতকিছু ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্বেও কোনদিন তার মধ্যে কোন অহমিকা প্রকাশ পায়নি। তিনি নিজেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাঠকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে গৌরববোধ করতেন। আমার মনে পড়ে বায়তুল মোকাররমে প্যালেষ্টাইন যুদ্ধে শহীদ যোদ্ধাদের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্য হিসেবে আব্দুল জব্বার সেই জানাযায় শরীক হতে গিয়েছিল কিন্তু যেই নরঘাতক গোলাম আযমকে দেখতে পান তখন তিনি রেগে গোলাম আযমকে জানাযায় দেখতে পান তখন তিনি রেগে গোলাম আজমকে জানাযা থেকে বাহির করার জন্য এমন অবস্থা সৃষ্টি করেছিলেন যে, উপস্থিত মুসল্লি ও পুলিশ এসে তাকে শান্ত না করলে সেদিন অন্য ধরণের একটি ঘটনা ঘটতে পারত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি এই ধরণের একজন দৃঢ়চেতা মানুষ দুর্লভ। বহু সংকটময় মুহুর্তে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে তিনি একজন দিকপালের ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এবং ১৯৮১ সালে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা যখন আওয়ামীলীগের দায়িত্বভার গ্রহন করেন সেই সময় থেকে জিয়া, এরশাদ বিশেষ করে স্বৈরাচার এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলন সংগ্রামে তিনি যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। আব্দুল জব্বার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন কিন্তু তার অসমাপ্ত কাজ আমাদের সমাপ্ত করতে হবে। তার স্বপ্ন ছিল এদেশের মাটিতে জাতির জনকের হত্যার বিচার ও শোষণহীন সোনার বাংলা গড়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন। আসুন আজকে আব্দুল জব্বারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, তার মত নিষ্ঠা সততা ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। শতাব্দীর পর শতাব্দীতে একজন বঙ্গবন্ধুই জন্মায়, বঙ্গবন্ধু হওয়ার চেষ্টা বৃথা। তেমনি কঠিন হলেও আসুন না আমরা সবাই চেষ্টা করি দেখি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক একজন জব্বার হতে পারি বি না। জব্বারকে মনে হলেই মনে পড়ে কবি গুরুর সেই বিখ্যাত কবিতার চয়নগুলি। কৃষাণের জীবনে শরীক যেজন কর্মে কথায়, সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন। যে জন মাটির কাছাকাছি সে কবির বাণীর লাগি কান পেতে আছে। (লেখক পরিচিতি ঃ মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক, যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ, জাতীয় সংসদ)।
জব্বারকে নিয়ে যে লিখতে হবে, আমি একথা স্বপ্নেও ভাবিনি। সময়ের কি নির্মম পরিহাস, তাই লিখতে হচ্ছে। জব্বারের তুলনা শুধু জব্বারই। জব্বারের বিকল্প হতে পারে না। এমনকি আমিও না। অনুসারী হতে পারি। জব্বার ছিল মাটি ও মানুষের প্রকৃত নেতা। আমার আওয়ামী রাজনীতিতে আসার পিছনে জব্বারের একটি বিরাট অবদান রয়েছে। কারণ সে আমাদের অনেক আগেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রিয়পাত্র হিসেবে তার বাল্য জীবনেই আওয়ামী রাজনীতি শুরু করে। ১৯৬২ সালে কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সে কারাবরণ করে। ১৯৬৫ সালে কুলাউড়া থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহন করে। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনকে ঘরে ঘরে পৌছে দিতে জব্বার অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজার মহকুমা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যে গতি সঞ্চার হয় তাতে আব্দুল জব্বারের ভূমিকা ছিল সবার উপরে। বৃহত্তর সিলেটের রাজনীতিতে জব্বারের যে বলিষ্ট ভূমিকা ছিল তা সর্বজন স্বীকৃত। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে জব্বার ছিল একজন বলিষ্ঠ সংগঠক। আমরা একসঙ্গে বিহারের চাকুলিয়াতে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রশিক্ষণ করি। সমস্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অবদান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। একটি সদ্য স্বাধীন যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশে পুনর্গঠন কাজে তিনি এক অমূল্য অবদান রাখেন। ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টে জাতির জনকের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে অসম সাহসিকতার সহিত মরহুম জব্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। সেই সময় তাকে গ্রেফতার করে সীমাহীন নির্যাতন করা হয়। শত অত্যাচার ও নির্যাতনে জব্বারকে দমিয়ে রাখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশ এবং জাতীয় চার নেতার হত্যার পর যখন আওয়ামী ও আমরা কঠিন সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে ছিলাম। সেই সময়ে ১৯৭৯ সালে সমস্ত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে আব্দুল জব্বার নৌকা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এটাই প্রমান করে যে তিনি আমাদের একজন মহান নেতা ছিলেন। মরহুম জব্বার এক সময় বাংলাদেশ কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালের ১৯মার্চ বৃহত্তর সিলেটের কৃষক মহাসমাবেশ তার নেতৃত্বে কুলাউড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সেই মহাসমাবেশ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আব্দুল জব্বার সভাপতিত্ব করেন। মরহুম জব্বার ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এতকিছু ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্বেও কোনদিন তার মধ্যে কোন অহমিকা প্রকাশ পায়নি। তিনি নিজেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মাঠকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে গৌরববোধ করতেন। আমার মনে পড়ে বায়তুল মোকাররমে প্যালেষ্টাইন যুদ্ধে শহীদ যোদ্ধাদের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্য হিসেবে আব্দুল জব্বার সেই জানাযায় শরীক হতে গিয়েছিল কিন্তু যেই নরঘাতক গোলাম আযমকে দেখতে পান তখন তিনি রেগে গোলাম আযমকে জানাযায় দেখতে পান তখন তিনি রেগে গোলাম আজমকে জানাযা থেকে বাহির করার জন্য এমন অবস্থা সৃষ্টি করেছিলেন যে, উপস্থিত মুসল্লি ও পুলিশ এসে তাকে শান্ত না করলে সেদিন অন্য ধরণের একটি ঘটনা ঘটতে পারত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধের প্রতি এই ধরণের একজন দৃঢ়চেতা মানুষ দুর্লভ। বহু সংকটময় মুহুর্তে স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে তিনি একজন দিকপালের ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর এবং ১৯৮১ সালে জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা যখন আওয়ামীলীগের দায়িত্বভার গ্রহন করেন সেই সময় থেকে জিয়া, এরশাদ বিশেষ করে স্বৈরাচার এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলন সংগ্রামে তিনি যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আওয়ামীলীগ ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে তা স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। আব্দুল জব্বার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন কিন্তু তার অসমাপ্ত কাজ আমাদের সমাপ্ত করতে হবে। তার স্বপ্ন ছিল এদেশের মাটিতে জাতির জনকের হত্যার বিচার ও শোষণহীন সোনার বাংলা গড়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন। আসুন আজকে আব্দুল জব্বারের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই যে, তার মত নিষ্ঠা সততা ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব। শতাব্দীর পর শতাব্দীতে একজন বঙ্গবন্ধুই জন্মায়, বঙ্গবন্ধু হওয়ার চেষ্টা বৃথা। তেমনি কঠিন হলেও আসুন না আমরা সবাই চেষ্টা করি দেখি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক একজন জব্বার হতে পারি বি না। জব্বারকে মনে হলেই মনে পড়ে কবি গুরুর সেই বিখ্যাত কবিতার চয়নগুলি। কৃষাণের জীবনে শরীক যেজন কর্মে কথায়, সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন। যে জন মাটির কাছাকাছি সে কবির বাণীর লাগি কান পেতে আছে। (লেখক পরিচিতি ঃ মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক, যুগ্ম সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ, জাতীয় সংসদ)। 

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •