বন বিভাগের চরম উদাসীনতায় মাধবকু- জলপ্রপাত এখন মৃত্যুপুরী : দুইযুগে ৩০ পর্যটকের মৃত্যু : অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা : প্রতিরোধে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো ফাইলবন্দিই থাকে

September 1, 2013, এই সংবাদটি ৪৫৫ বার পঠিত

মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে আগত পর্যটকের নিরাপত্তায় বন বিভাগের চরম উদাসীনতায় দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র মাধবকু- চরম দুর্ভোগ আর মৃত্যূপুরীতে পরিনত হয়েছে। একেকটি মুত্যূ ঘটনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে উঠলেও তা বেশীদিন স্থায়ী থাকে না। কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় কিছুদিনের মধ্যে আবারও ঘটে মৃত্যূর ঘটনা। পর্যটকের নিকট থেকে বন বিভাগ প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা রাজস্ব আয় করলেও বিনিময়ে অনেক পর্যটক লাশ হয়ে ঘরে ফিরেন। জানা গেছে, গত দুইযুগে মাধবকু-ে বেড়াতে এসে অন্তত ৩০ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে। গত বছরের ৮ জুন সাঁতার কাটতে গিয়ে একসাথে তিন পর্যটকের মৃত্যূতে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ২৬ জুন মাধবকু- জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় পর্যটকের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষে বিভিন্ন বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের নিয়ে মতনিমিয় সভা অনুষ্টিত। সর্বসম্মতভাবে সভায় পর্যটকের নিরাপত্তায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে মাধবকু- জলপ্রপাতের পানি পড়ার স্থানে (যেখানে প্রবল স্রোত হয়) পানির নীচে লোহার গ্রীল নির্মান, ডেঞ্জার পয়েন্ট চিহ্নিত করে ফেন্সিং এবং ১২ ফুট দীর্ঘ গেইট নির্মান, জলপ্রপাত সংলগ্ন পাহাড়ে উঠার সকল পথে কাটাতারের বেঁড়া নির্মান, পুলিশ সেন্ট্রি বক্স নির্মান, পর্যটন পুলিশ বৃদ্ধি, বন বিভাগের প্রহরী বৃদ্ধি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তিনজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ ও সাঁতার কাটতে ইচ্ছুক পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ। কিন্তু কাগজে কলমে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। ডেঞ্জার জোনে গ্রীল, ফেন্সি ও কাটাতারের বেড়া নির্মান কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগ ও এলজিইডি সিদ্ধান্ত নেয়ার ১৪ মাস পরও তা বাস্তবায়ন না করায় আবারও ঘটে দুর্ঘটনা। বন বিভাগ শুধু কয়েকটি সতর্কবানী সম্বলিত সাইবোর্ড টাঙ্গিয়েই যেন তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। গত ১১ আগষ্ট গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্র জসিম শেখ (১৯)। সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ২০ ঘন্টা পর পানির নীচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। ২০১২ সালের ৮ জুন ঢাকা থেকে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে মিরপুর কমার্স কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র আসিকুর রহমান (১৯), মিরপুর-২ বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার আহমদ (১৬) এবং মিরপুর বায়তুল আমান মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মুন্না (১৫) সাঁতার কাটতে গেয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। অনেকটা মৃত্যুকুপে পরিণত হওয়া মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে প্রায় দুইযুগে মারা গেছেন ৩০ পর্যটক। এদিকে মাধবকু-ে আগত পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হয়রানী বন্ধ ও সড়ক উন্নয়নের দাবীতে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সংগঠন একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নজর দেইনি। গত ২০ আগষ্ট দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকু- জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে আগত পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বেহাল সড়কের দ্রুত মেরামত ও সম্প্রসারনের দাবীতে তিন ঘন্টা মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। মানববন্ধন শেষে ইউএনও’র মাধ্যমে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি প্রেরণ করা হয়। ইউএনও সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান জানান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে ২০১২ সালে ঢাকার তিন ছাত্র নিহত হওয়ার পর বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রেজুলেশন করা হলেও বন বিভাগ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কথা বলি কিন্তু এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে মাধবকু-ের এসব মৃত্যুরোধ সম্ভব। ইউএনও আরও জানান, সাঁতার কাটতে ইচ্ছুক পর্যটকের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশটি লাইফ জ্যাকেট কিনে দিয়েছেন।
মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে আগত পর্যটকের নিরাপত্তায় বন বিভাগের চরম উদাসীনতায় দেশের অন্যতম বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র মাধবকু- চরম দুর্ভোগ আর মৃত্যূপুরীতে পরিনত হয়েছে। একেকটি মুত্যূ ঘটনার পর প্রশাসন নড়েচড়ে উঠলেও তা বেশীদিন স্থায়ী থাকে না। কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় কিছুদিনের মধ্যে আবারও ঘটে মৃত্যূর ঘটনা। পর্যটকের নিকট থেকে বন বিভাগ প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা রাজস্ব আয় করলেও বিনিময়ে অনেক পর্যটক লাশ হয়ে ঘরে ফিরেন। জানা গেছে, গত দুইযুগে মাধবকু-ে বেড়াতে এসে অন্তত ৩০ পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যূ হয়েছে। গত বছরের ৮ জুন সাঁতার কাটতে গিয়ে একসাথে তিন পর্যটকের মৃত্যূতে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ২৬ জুন মাধবকু- জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় পর্যটকের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষে বিভিন্ন বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের নিয়ে মতনিমিয় সভা অনুষ্টিত। সর্বসম্মতভাবে সভায় পর্যটকের নিরাপত্তায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে মাধবকু- জলপ্রপাতের পানি পড়ার স্থানে (যেখানে প্রবল স্রোত হয়) পানির নীচে লোহার গ্রীল নির্মান, ডেঞ্জার পয়েন্ট চিহ্নিত করে ফেন্সিং এবং ১২ ফুট দীর্ঘ গেইট নির্মান, জলপ্রপাত সংলগ্ন পাহাড়ে উঠার সকল পথে কাটাতারের বেঁড়া নির্মান, পুলিশ সেন্ট্রি বক্স নির্মান, পর্যটন পুলিশ বৃদ্ধি, বন বিভাগের প্রহরী বৃদ্ধি, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তিনজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ ও সাঁতার কাটতে ইচ্ছুক পর্যটকদের লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ। কিন্তু কাগজে কলমে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। ডেঞ্জার জোনে গ্রীল, ফেন্সি ও কাটাতারের বেড়া নির্মান কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বন বিভাগ ও এলজিইডি সিদ্ধান্ত নেয়ার ১৪ মাস পরও তা বাস্তবায়ন না করায় আবারও ঘটে দুর্ঘটনা। বন বিভাগ শুধু কয়েকটি সতর্কবানী সম্বলিত সাইবোর্ড টাঙ্গিয়েই যেন তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে। গত ১১ আগষ্ট গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয় ঢাকার ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্র জসিম শেখ (১৯)। সিলেট থেকে আসা ডুবুরি দল ২০ ঘন্টা পর পানির নীচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। ২০১২ সালের ৮ জুন ঢাকা থেকে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে মিরপুর কমার্স কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র আসিকুর রহমান (১৯), মিরপুর-২ বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার আহমদ (১৬) এবং মিরপুর বায়তুল আমান মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মুন্না (১৫) সাঁতার কাটতে গেয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। অনেকটা মৃত্যুকুপে পরিণত হওয়া মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে প্রায় দুইযুগে মারা গেছেন ৩০ পর্যটক। এদিকে মাধবকু-ে আগত পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হয়রানী বন্ধ ও সড়ক উন্নয়নের দাবীতে গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সংগঠন একাধিকবার মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নজর দেইনি। গত ২০ আগষ্ট দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মাধবকু- জলপ্রপাত ও ইকোপার্কে আগত পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত, বেহাল সড়কের দ্রুত মেরামত ও সম্প্রসারনের দাবীতে তিন ঘন্টা মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করে হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন। মানববন্ধন শেষে ইউএনও’র মাধ্যমে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি প্রেরণ করা হয়। ইউএনও সৈয়দ মোহাম্মদ আমিনুর রহমান জানান, মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে ২০১২ সালে ঢাকার তিন ছাত্র নিহত হওয়ার পর বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রেজুলেশন করা হলেও বন বিভাগ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সম্প্রতি জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়েও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কথা বলি কিন্তু এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে মাধবকু-ের এসব মৃত্যুরোধ সম্ভব। ইউএনও আরও জানান, সাঁতার কাটতে ইচ্ছুক পর্যটকের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশটি লাইফ জ্যাকেট কিনে দিয়েছেন। বড়লেখা প্রতিনিধি॥

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •