মৌলভীবাজারে বিএনপি ও আওয়ামীলীগের ঘড়ে আগুন ॥ প্রভাব পড়বে নিবার্চনে

October 23, 2013, এই সংবাদটি ২৮০ বার পঠিত

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এগিয়ে আসছে নির্বাচন। আর এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী প্রার্থীরা ব্যস্ত রয়েছেন কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে লবিংয়ে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল অবলম্বনে আর জনগণের কাছে নিজেকে সাধু বলে প্রমাণ করতে। বিগত চার বছর মৌলভীবাজারের সরকার দলীয় এমপিরা উন্নয়নের চেয়ে আগামী নির্বাচনে পাস করার কৌশল ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিয়েই ছিলেন ব্যস্ত। এছাড়া প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যেও কোন্দল চড়মে। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে ২, ৩ ও ৪ নং আসনে এর প্রভাব অত্যাধিক যা এখনো বিরাজমান। প্রতি নিয়ত চলছে একই দলের মধ্যে সংঘর্ষ।
মৌলভীবাজার জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে দুটি গ্রুপ। এরমধ্যে চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ সমর্থিত ও সৈয়দ মহসীন আলী সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। মৌলভীবাজারে বিএনপিতেও রয়েছে দুটি গ্রুপ। একটি এম নাসের রহমান সমর্থিত, অন্যটি খালেদা রব্বানী সমর্থিত। তাই জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতেই প্রত্যেক দল থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার-১(বড়লেখা-জুড়ি): বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান ও বিএনপি নেতা দারাদ আহমদ তিনি ব্যানার ফেষ্টুন দিয়ে ছেয়ে দিয়েছে তার নিবার্চনী এলাকা। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম শাহাব উদ্দিন। তার সঙ্গে এবার জুড়ি উপজেলার মোহাইমিন ছালেহ নামে একজন শিল্পপতি মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি থেকে লন্ডন প্রবাসী এড. মোস্তফা কামাল ও এড. আফজাল হোসেন প্রচারণা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে এ আসনে জামায়াতের আমিনুল ইসলামও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ) : বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এম এম শাহীন ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর ও আমেরিকা প্রবাসী আতাউর রহমান শামীম নির্বাচনের জন্য এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। মৌলভীবাজার-৩ (সদর) : এ আসনে বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির আর্ন্তজাতিক সম্পাদক তারেক জিয়ার একান্ত্য সহযোগি মুহিদুর রহমান ও সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য বেগম খালেদা রব্বানী। নতুন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে বর্তমান পৌর মেয়র মোঃ ফয়জুল করিম ময়ূন ৩ আসনের নিবাচর্নী এলাকায় বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন সেগুলোতে মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছবি না দেয়ায়। অনেকেই বলছেন যার ছোয়া পেয়ে ময়ুন আজ পৌর মেয়র তাকেই মূল্যায়ন করেন নি। তিনিও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে লন্ডন প্রবাসী নরুল হক মনোনয়ন পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যেটুকু শোনা যাচ্ছে এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসীন আলীর আবারো দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শিক্ষানুরাগী এম এ রহিম শহীদ সি,আই,পিও মনোনয়ন পাওয়ার জন্যই তার নিবার্চনী আসনে বিভিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নেছার আহমদ ও কামাল আহমদের নাম শোনা যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) : এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাজী মুজিবুর রহমান মুজিব। অনেকের মুখে মুখে সাবেক এমপি বিএনপির প্রবীণ নেতা আহাদ মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। তবে শ্রীমঙ্গল বরুনা এলাকার বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম শফিকুর রহমানের ভাতিজা নুরে আলম হামিদী ১৮ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থিতা চেয়ে এলাকায় কাজ করছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী বর্তমান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ। আওয়ামী লীগের পক্ষে আর কারো নাম এখনো শোনা না গেলেও লোকমুখে গুঞ্জন রয়েছে দলের সভানেত্রীর কাছ থেকে নতুন নাম আসতে পারে। আবার কারো কারো মুখে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেবের নামও শোনা যাচ্ছে।
দলে বিভক্তি ও রাজনৈতিক কৌশল : মৌলভীবাজার সদর আসনে বর্তমান এমপি সৈয়দ মহসীন আলী একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। যিনি বিগত নির্বাচনে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মতো শক্তিশালী একজন প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু বিগত সাড়ে চার বছরই তিনি পড়েছিলেন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে। লোক মুখে গুঞ্জন রয়েছে এর প্রধান অন্তরায় মৌলভীবাজার চার আসনের এমপি চিফ হুইপ আব্দুস শহীদের সঙ্গে মহসীন আলীর দ্বন্দ্ব। আর এ জন্য মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে দুটি গ্রুপ। যারা চিফ হুইপ সমর্থিত ও মহসীন সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মৌলভীবাজার সদর আসনে মহসীন আলীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান চিফ হুইপের সঙ্গে রেখেছেন সু-সম্পর্ক। মৌলভীবাজারে বিএনপিরও রয়েছে দুটি গ্রুপ। একটি এম নাসের রহমান সমর্থিত, অন্যটি খালেদা রব্বানী সমর্থিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মৌলভীবাজার-৪ আসনে (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আওয়ামী লীগ প্রার্থী চিফ হুইপ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাজি মুজিবুর রহমানকে ঘায়েল করতে বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে রেখেছেন বিশেষ সখ্য। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে রয়েছে তার বেশ দূরত্ব। তবে আওয়ামী লীগের চেয়ে শ্রীমঙ্গলে বেশি বিভক্ত হয়ে আছেন বিএনপি নেতারা। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাজি মুজিবুর রহমান বিগত ৭-৮ বছরে বিএনপির ভোটের পাল্লা বেশ ভারী করেছেন। কিন্তু আগামী নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের অনেক দায়িত্বশীল নেতা তার কাছ থেকে সরে এসেছেন, যা ভোটের ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রভাব পড়বে বলে অনেকেই মনে করেন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই রয়েছে দুটি গ্রুপ। বিএনপিতেও রয়েছে দ্বিমুখী সংকট। কুলাউড়ায় বিএনপির প্রার্থী গত নির্বাচনে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা। তবে আবেদ রাজার এলাকায় তেমন কোন অবস্থান নেই বলে অনেক বিএনপির নেতারা বলেন। বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন এম এম শাহীন। কারন সাবেক সংসদ সদস্য শাহিনের অবস্থান জনসাধারনের কাছে বেশী গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে বলে সাধারন মানুষ মনে করেন। সামনের নির্বাচনেও এ দুজন প্রার্থিতায় আসীন হবেন। তবে হয়তো কেন্দ্রীয় বিএনপি এখানে কোন চমক দেখাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। কুলাউড়ায় আওয়ামীলীগের বিশাল অংশ জুড়ে আছেন সাবেক এমপি সুলতান মনসুর। বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর বিরাগভাজন হয়ে তিনি মনোনয়ন পাননি। তার পরিবর্তে এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় আতাউর রহমান শামীমকে। তাই সামনের নির্বাচনে আতাউর রহমান শামীম আবারো প্রার্থিতার আশায় রয়েছেন। তবে আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ সুলতান মনসুরকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি) আসনে বিএনপির মধ্যে রয়েছে দুটি অংশ। একটি সাবেক এমপি এবাদুর রহমান চৌধুরীর, অন্যটি দারাদ আহমদের। আওয়ামী লীগে বড়লেখায় খুব একটা গ্রুপিং না থাকলেও এ আসনে জুড়ি উপজেলা থেকে মোহাইমিন ছালেহ নামে একজন শিল্পপতি মনোনয়ন চাইতে পারেন। জাতীয় পার্টি থেকে লন্ডন প্রবাসী এডভোকেট আফজল হোসেন ও এডভোকেট মোস্তফা কামাল প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ আসনে জামাতের আমিনুল ইসলামও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা।
বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এগিয়ে আসছে নির্বাচন। আর এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী প্রার্থীরা ব্যস্ত রয়েছেন কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে লবিংয়ে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার কৌশল অবলম্বনে আর জনগণের কাছে নিজেকে সাধু বলে প্রমাণ করতে। বিগত চার বছর মৌলভীবাজারের সরকার দলীয় এমপিরা উন্নয়নের চেয়ে আগামী নির্বাচনে পাস করার কৌশল ও ব্যক্তিগত উন্নয়ন নিয়েই ছিলেন ব্যস্ত। এছাড়া প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মধ্যেও কোন্দল চড়মে। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে ২, ৩ ও ৪ নং আসনে এর প্রভাব অত্যাধিক যা এখনো বিরাজমান। প্রতি নিয়ত চলছে একই দলের মধ্যে সংঘর্ষ।
মৌলভীবাজার জেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে দুটি গ্রুপ। এরমধ্যে চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ সমর্থিত ও সৈয়দ মহসীন আলী সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। মৌলভীবাজারে বিএনপিতেও রয়েছে দুটি গ্রুপ। একটি এম নাসের রহমান সমর্থিত, অন্যটি খালেদা রব্বানী সমর্থিত। তাই জেলার ৪টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতেই প্রত্যেক দল থেকে একাধিক নেতা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার-১(বড়লেখা-জুড়ি): বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন প্রবীন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবাদুর রহমান ও বিএনপি নেতা দারাদ আহমদ তিনি ব্যানার ফেষ্টুন দিয়ে ছেয়ে দিয়েছে তার নিবার্চনী এলাকা। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় প্রথমে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য এম শাহাব উদ্দিন। তার সঙ্গে এবার জুড়ি উপজেলার মোহাইমিন ছালেহ নামে একজন শিল্পপতি মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি থেকে লন্ডন প্রবাসী এড. মোস্তফা কামাল ও এড. আফজাল হোসেন প্রচারণা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে এ আসনে জামায়াতের আমিনুল ইসলামও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ) : বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী এম এম শাহীন ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টি থেকে বর্তমান এমপি নওয়াব আলী আব্বাস খান। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর ও আমেরিকা প্রবাসী আতাউর রহমান শামীম নির্বাচনের জন্য এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। মৌলভীবাজার-৩ (সদর) : এ আসনে বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির আর্ন্তজাতিক সম্পাদক তারেক জিয়ার একান্ত্য সহযোগি মুহিদুর রহমান ও সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য বেগম খালেদা রব্বানী। নতুন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে বর্তমান পৌর মেয়র মোঃ ফয়জুল করিম ময়ূন ৩ আসনের নিবাচর্নী এলাকায় বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়েছেন সেগুলোতে মরহুম এম সাইফুর রহমানের ছবি না দেয়ায়। অনেকেই বলছেন যার ছোয়া পেয়ে ময়ুন আজ পৌর মেয়র তাকেই মূল্যায়ন করেন নি। তিনিও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে লন্ডন প্রবাসী নরুল হক মনোনয়ন পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এ পর্যন্ত যেটুকু শোনা যাচ্ছে এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসীন আলীর আবারো দল থেকে মনোনয়ন চাওয়ার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে শিক্ষানুরাগী এম এ রহিম শহীদ সি,আই,পিও মনোনয়ন পাওয়ার জন্যই তার নিবার্চনী আসনে বিভিন্ন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নেছার আহমদ ও কামাল আহমদের নাম শোনা যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) : এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাজী মুজিবুর রহমান মুজিব। অনেকের মুখে মুখে সাবেক এমপি বিএনপির প্রবীণ নেতা আহাদ মিয়ার নামও শোনা যাচ্ছে। তবে শ্রীমঙ্গল বরুনা এলাকার বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম শফিকুর রহমানের ভাতিজা নুরে আলম হামিদী ১৮ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থিতা চেয়ে এলাকায় কাজ করছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী বর্তমান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদ। আওয়ামী লীগের পক্ষে আর কারো নাম এখনো শোনা না গেলেও লোকমুখে গুঞ্জন রয়েছে দলের সভানেত্রীর কাছ থেকে নতুন নাম আসতে পারে। আবার কারো কারো মুখে শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেবের নামও শোনা যাচ্ছে।
দলে বিভক্তি ও রাজনৈতিক কৌশল : মৌলভীবাজার সদর আসনে বর্তমান এমপি সৈয়দ মহসীন আলী একজন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা। যিনি বিগত নির্বাচনে সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের মতো শক্তিশালী একজন প্রার্থীকে পরাজিত করে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু বিগত সাড়ে চার বছরই তিনি পড়েছিলেন অনেকটা কোণঠাসা হয়ে। লোক মুখে গুঞ্জন রয়েছে এর প্রধান অন্তরায় মৌলভীবাজার চার আসনের এমপি চিফ হুইপ আব্দুস শহীদের সঙ্গে মহসীন আলীর দ্বন্দ্ব। আর এ জন্য মৌলভীবাজারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে দুটি গ্রুপ। যারা চিফ হুইপ সমর্থিত ও মহসীন সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মৌলভীবাজার সদর আসনে মহসীন আলীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান চিফ হুইপের সঙ্গে রেখেছেন সু-সম্পর্ক। মৌলভীবাজারে বিএনপিরও রয়েছে দুটি গ্রুপ। একটি এম নাসের রহমান সমর্থিত, অন্যটি খালেদা রব্বানী সমর্থিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মৌলভীবাজার-৪ আসনে (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আওয়ামী লীগ প্রার্থী চিফ হুইপ তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাজি মুজিবুর রহমানকে ঘায়েল করতে বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে রেখেছেন বিশেষ সখ্য। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গলের কিছু আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে রয়েছে তার বেশ দূরত্ব। তবে আওয়ামী লীগের চেয়ে শ্রীমঙ্গলে বেশি বিভক্ত হয়ে আছেন বিএনপি নেতারা। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাজি মুজিবুর রহমান বিগত ৭-৮ বছরে বিএনপির ভোটের পাল্লা বেশ ভারী করেছেন। কিন্তু আগামী নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের অনেক দায়িত্বশীল নেতা তার কাছ থেকে সরে এসেছেন, যা ভোটের ক্ষেত্রে অনেকটাই প্রভাব পড়বে বলে অনেকেই মনে করেন।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই রয়েছে দুটি গ্রুপ। বিএনপিতেও রয়েছে দ্বিমুখী সংকট। কুলাউড়ায় বিএনপির প্রার্থী গত নির্বাচনে ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এডভোকেট আবেদ রাজা। তবে আবেদ রাজার এলাকায় তেমন কোন অবস্থান নেই বলে অনেক বিএনপির নেতারা বলেন। বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন এম এম শাহীন। কারন সাবেক সংসদ সদস্য শাহিনের অবস্থান জনসাধারনের কাছে বেশী গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে বলে সাধারন মানুষ মনে করেন। সামনের নির্বাচনেও এ দুজন প্রার্থিতায় আসীন হবেন। তবে হয়তো কেন্দ্রীয় বিএনপি এখানে কোন চমক দেখাবে বলে অনেকেই মনে করছেন। কুলাউড়ায় আওয়ামীলীগের বিশাল অংশ জুড়ে আছেন সাবেক এমপি সুলতান মনসুর। বিগত নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর বিরাগভাজন হয়ে তিনি মনোনয়ন পাননি। তার পরিবর্তে এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয় আতাউর রহমান শামীমকে। তাই সামনের নির্বাচনে আতাউর রহমান শামীম আবারো প্রার্থিতার আশায় রয়েছেন। তবে আওয়ামীলীগের বড় একটি অংশ সুলতান মনসুরকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি) আসনে বিএনপির মধ্যে রয়েছে দুটি অংশ। একটি সাবেক এমপি এবাদুর রহমান চৌধুরীর, অন্যটি দারাদ আহমদের। আওয়ামী লীগে বড়লেখায় খুব একটা গ্রুপিং না থাকলেও এ আসনে জুড়ি উপজেলা থেকে মোহাইমিন ছালেহ নামে একজন শিল্পপতি মনোনয়ন চাইতে পারেন। জাতীয় পার্টি থেকে লন্ডন প্রবাসী এডভোকেট আফজল হোসেন ও এডভোকেট মোস্তফা কামাল প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ আসনে জামাতের আমিনুল ইসলামও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। স্টাফ রিপোর্টার॥

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •